ছাব্বিশের ভোট (West Bengal Assembly Election) বড় পরীক্ষা বামেদের কাছে - শূন্য থেকে উত্থিত হওয়ার বড় সুযোগ তো বটেই, আরও অনেক কিছু। আর সেই যুদ্ধক্ষেত্রে এবার বামফ্রন্ট অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে তরুণ ব্রিগেডকে। রাজ্যের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রার্থীই তরুণ। তাঁদের প্রচর কৌশলও আলাদা। সাবেকিভাবে পাড়া বা বাড়ি ঘুরে প্রচারের পাশাপাশি সিপিএম প্রার্থীরা সোশাল মিডিয়ায় বিশেষভাবে সক্রিয়। এমনকী কটাক্ষ করে এও বলা হয়, ফেসবুক বিপ্লবে ফার্স্ট বামেরা! 'শূন্যে' ভাসমান সিপিএমকে নিয়ে এমন যতই শ্লেষ, হাসাহাসি হোক - কুছ পরোয়া নেহি নবপ্রজন্মের কমরেডদের। বরং এতদিন ধরে ক্রমাগত তাঁদের দিকে ধেয়ে আসা রাম-বাম আঁতাঁতের অভিযোগ নস্যাৎ করতে নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছেন দীপ্সিতা ধর, আফরিন বেগম শিল্পীরা। আগাগোড়া বিজেপিকে তুলোধোনা করে তাঁদের বার্তা, 'যখন কিছুই ঠিক হচ্ছে না, বামদিকে পথ ধরুন।' ইংরাজি তর্জমা করলে দাঁড়ায়, 'হোয়েন নাথিং গোজ রাইট, টেক লেফট।'
এবারের ভোটে দমদম উত্তরের সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর (Dipsita Dhar) নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন নন। আগে বিধানসভা, লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। আর বালিগঞ্জ আসনে লড়ছেন যাদবপুরের গবেষক ছাত্রী আফরিন বেগম শিল্পী। ভোটযুদ্ধের ময়দানে তিনি নবাগতা হলেও পথের লড়াইয়ে নতুন মোটেই নন। দুঁদে ছাত্রনেত্রী হিসেবে তাঁর পরিচয় রয়েছে, জনসংযোগে দড়। তাঁর দক্ষতার উপর আস্থা রেখেই দল বালিগঞ্জের মতো কঠিন আসনে প্রার্থী করেছে। এহেন দুই নেত্রীর নতুন প্রচার ভিডিও বেশ ঝড় তুলেছে সোশাল মিডিয়ায়। ২ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দীপ্সিতা, আফরিন মিলে আসলে তুলে ধরেছেন বিজেপির বিপদের কথা। বিজেপিই যে আসল প্রতিপক্ষ - তা বোঝাতে গিয়ে দুর্নীতিকে অস্ত্র করলেও নিশানা যে তৃণমূল নয়, সেটা স্পষ্ট করেই বুঝিয়েছেন দুই তরুণ প্রার্থী।
এমনিতেও রাম-বাম আঁতাঁত তত্ত্বের সমীকরণ ছাব্বিশের ভোটে বেশ খানিকটা বদলে গিয়েছে। সিপিএমের সব পক্ককেশ নেতারাই প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন যে অন্ধ তৃণমূল বিরোধিতা করতে গিয়ে গত বেশ কিছু নির্বাচনে তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক কার্যত সমর্পণ করে দিয়েছিলেন পদ্মবনে। এবার সেসব ফিরিয়ে আনার পালা। আর তাই দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে সিপিএমের নিচুতলার কর্মীরা বিজেপির বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করছেন। সেই বোঝানোকেই আরও সহজ করে তুলতে দীপ্সিতাদের এই ভিডিও।
ভিডিওটির গোড়াতেই দুই প্রার্থী স্পষ্ট বলেছেন, 'যদি আপনি বিজেপির পছন্দের দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের ১ শতাংশের মধ্যে পড়েন, তবে কেটে পড়ুন।' আর যদি এর বাইরে কেউ হন, তাহলে দীপ্সিতাদের বার্তা তাঁদের জন্যই। মোদির 'বিকশিত ভারত'-এর কঙ্কালসার সত্য উদঘাটন করেছেন তরুণ দুই প্রার্থী। কীভাবে কেন্দ্রের মোদি সরকারের মদতে যে কোনও বেআইনি ব্যবসা অতি কম সময়ের মধ্যে ফুলেফেঁপে উঠেছে, সেই দিকটি তুলে ধরেছেন দীপ্সিতা, আফরিন। আর শেষে বার্তা, 'চুরির বিরুদ্ধে আরও বড় চোর নয়, চাই চাকরি।' আরও এক গুরুত্বপূর্ণ কথা রয়েছে ভিডিওতে - 'হোয়েন নাথিং গোজ রাইট, টেক লেফট।' বাংলা করলে দাঁড়াচ্ছে, 'যখন কিছুই ঠিক হচ্ছে না বলে মনে হয়, তখন সোজা বামদিকের পথ ধরুন।' তাঁদের এই আবেদনে আদৌ বামেদের ঝুলি ভোটে ভরপুর হবে? সে প্রশ্ন থাকছে।
