বিধানসভা ভোটের মুখে বঙ্গ রাজনীতিতে বড় চমক! বিজেপির সঙ্গ পুরোপুরি ত্যাগ করে এবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। রবিবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও সাংসদ কীর্তি আজাদের হাত ধরে ঘাসফুল শিবির এলেন তিনি, হাতে তুলে নিলেন দলীয় পতাকা। এর আগে এসআইআরের শুনানিতে ডাক পাওয়ার পরই কার্যত কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছিল তাঁর। প্রশ্ন তুলেছিলেন, নেতাজির মতো দেশনায়কের প্রপৌত্র হওয়ার পরও কি তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয়? এবার পদ্ম শিবির ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ে শামিল হওয়ার জন্য ঘাসফুলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন চন্দ্র বসু। বললেন, ''কয়েক বছর আগে আমি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করে ঐতিহাসিক ভুল করেছিলাম। সেই ভুল আমি আজ সংশোধন করে নিলাম।''
তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে চন্দ্র বসু বলেন, ''২০১৪ সালে প্রথম যখন নরেন্দ্র মোদি দেশের ক্ষমতায় এসেছিলেন, আমার তখন তাঁকে খুব ভালো লেগেছিল। তিনি দেশকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ২০১৬ সালে আমি যখন ওই দলে যোগ দিই, ধীরে ধীরে দেখতে পাই যে ভারতীয় জনতা পার্টি দেশের সংবিধানটাই মানে না। তার উপর বাংলার যে সংস্কৃতি, তার সঙ্গে তাদের কোনও মিল নেই।''
গত ১৯ জানুয়ারি, রাজ্যে এসআইআরের কাজ চলাকালীন বিজেপির উপর একেবারে খড়গহস্ত হয়ে উঠেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। শুনানির নোটিস পেয়ে আর নোটিস পেয়েই বিস্মিত, ক্ষুব্ধ চন্দ্র বসু সরাসরি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ''নেতাজির প্রপৌত্র আমি, আমাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে! কোন পথে এগোচ্ছে ভারত?” দেশনায়ক নেতাজির পরিবারের সদস্যকে এভাবে শুনানির জন্য নোটিস পাঠানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জোর শোরগোল শুরু হয়েছিল। চাপে পড়ে নোটিস পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাতে জানানো হয়েছে, তাঁর এনুমারেশন ফর্মে তথ্য অসম্পূর্ণ। ‘লিঙ্কেজ’ কলামটি পূরণ করেননি চন্দ্র বসু। তাই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এরপর অবশ্য তথ্য পেশ করার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম ওঠে নেতাজির প্রপৌত্রের।
রাজ্যে ভোটের সপ্তাহ আগে এবার গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্কছেদ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিলেন চন্দ্র বসু। এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, ''২০১৪ সালে প্রথম যখন নরেন্দ্র মোদি দেশের ক্ষমতায় এসেছিলেন, আমার তখন তাঁকে খুব ভালো লেগেছিল। তিনি দেশকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ২০১৬ সালে আমি যখন ওই দলে যোগ দিই, ধীরে ধীরে দেখতে পাই যে ভারতীয় জনতা পার্টি দেশের সংবিধানটাই মানে না। তার উপর বাংলার যে সংস্কৃতি, তার সঙ্গে তাদের কোনও মিল নেই।এখন গোটা দেশজুড়ে যে রাজনীতি চলছে, সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি, বিভাজনের রাজনীতি, সেটা সর্বনাশের।''
তিনি আরও বলেন, ''এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনে আমার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখা হয়। আমি তাঁকে বলি যে শুধু বাংলার জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই আপনার লড়াই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি সামনে এগিয়ে আসুন।'' এরপর রবিবার তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিয়ে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে শামিল হলেন।
