Advertisement
ক্রিকেট মাঠের ফিনিশার থেকে 'ব্যবসায়ী', দীনেশ কার্তিকের ১০০ কোটির সাম্রাজ্য গড়ার গল্প
ওঠা-নামার মধ্যেই তিনি শিখেছেন টিকে থাকার লড়াই।
ক্রিকেট মাঠে চামড়ার বলের গতি যেমন নির্মম, তেমনই নির্মম হতে পারে একজন ক্রিকেটারের কেরিয়ারের পথও। ছোটবেলায় সেই নির্মমতার সঙ্গেই পরিচয় হয়েছিল দীনেশ কার্তিকের। মাত্র ছয় ফুট দূরত্ব থেকে তাঁর বাবা জোরে বল ছুড়ে দিতেন এমন গতিতে, যা ওই বয়সের একটি ছেলের জন্য ছিল প্রায় অসম্ভব। কিন্তু কার্তিক পিছিয়ে যাননি। ফিনিশারের মানসিকতাকে কাজে লাগিয়েই ১০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
কুয়েতের গরমে ছোট্ট এক প্র্যাকটিস নেটে শুরু হয়েছিল এই প্রস্তুতি। দীনেশের বাবাও ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা অপূর্ণ থেকে যায়। চেয়েছিলেন, ছেলে সেই অধরা স্বপ্ন পূর্ণ করুক। ছোট থেকেই ছেলের মধ্যে গড়ে তুলেছিলেন অদম্য মানসিকতা।
কার্তিকের কেরিয়ারের কথা উঠলেই অধিকাংশের মনে ভেসে ওঠে ২০১৮ সালের নিদহাস ট্রফি ফাইনালের কথা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শেষ দু'ওভারে তখন জেতার জন্য ৩৪ রান দরকার ভারতের। দীনেশ ক্রিজে এসে ঝড় তুলে দিলেন। শেষ বলে ঐতিহাসিক ছক্কা হাঁকিয়ে বরং গোটা দেশের আবেগকে একসঙ্গে বেঁধেছিলেন কার্তিক।
তবে সেই মুহূর্তটুকুই কার্তিকের পুরো গল্প নয়। এর আড়ালে রয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা, অবহেলা আর প্রত্যাবর্তনের গল্প। স্কোয়াডে থাকলেও প্রথম এগারোয় সুযোগ পাননি বছরের পর বছর। তখন উইকেটকিপারের দায়িত্বে মহেন্দ্র সিং ধোনি। এই ওঠা-নামার মধ্যেই তিনি শিখেছেন টিকে থাকার লড়াই।
২০০৪ সালে লর্ডসে অভিষেক ম্যাচেই ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভনকে বাজপাখির মতো স্টাম্পিং করে আলোচনায় আসেন কার্তিক। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, ভারতীয় ক্রিকেট নতুন তারকা পেতে চলেছে। কিন্তু ক্রিকেটের গল্প সবসময় সরলরৈখিক হয় না। তারপরেই ভারতীয় ক্রিকেটে ধোনির আগমন।
ধোনির দীর্ঘ আধিপত্যে কার্তিকের মতো প্রতিভা আড়ালে পড়ে যায়। তবে যেখানে অনেকে হার মেনে সরে যান, কার্তিক বেছে নেন লড়াই। বারবার নিজেকে বদলে, বিভিন্ন ভূমিকায় মানিয়ে নিয়ে তিনি দলে ফিরে আসেন। তাঁর কেরিয়ার প্রমাণ করে, শুধু প্রতিভা নয়, টিকে থাকতে দরকার মানসিক দৃঢ়তা। সেই কারণেই ছায়াতেও তিনি গড়েছেন নিজের আলাদা পরিচয়।
প্রথমে তিনি ছিলেন একজন ওপেনার। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডে একটি টেস্ট সিরিজে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। তিনি মিডল অর্ডারেো সাবলীল, সে কথাও প্রমাণ করেন। ১২০ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর ক্রিজে এসে দলকে ২৫০ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান।
অবশেষে, তিনি খুঁজে পেলেন সেই বিশেষ ভূমিকা, যা তাঁর কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়কে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ফিনিশার হিসাবে, যখন ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া, তখনই নামতেন তিনি, শেষ মুহূর্তে লড়াই ঘুরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে। চাপের সেই পরিস্থিতিতে ম্যাচ ছিনিয়ে আনার দক্ষতাই তাঁকে করে তোলে ব্যতিক্রমী।
২০১২ সাল। ব্যক্তিগত ঝড় জনসমক্ষে এসে পড়ে। ভারতীয় ক্রিকেটমহল নায়কদের নিখুঁতভাবেই দেখতে অভ্যস্ত। আর সেই প্রেক্ষাপটেই কার্তিকের ব্যক্তিগত জীবন ট্যাবলয়েডের আলোচনায় উঠে আসে। তাঁর বিয়ে ভেঙে যায়। প্রথম স্ত্রী নিকিতা বানজারা ঘোর বাঁধেন 'সতীর্থ' মুরলী বিজয়ের সঙ্গে। সেই অস্থিরতা প্রভাব ফেলে তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারেও। দল থেকে বাদ পড়া, ফর্ম হারানো - সব মিলিয়ে যেন এক পতনের গল্পই তৈরি হচ্ছিল।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 06:19 PM Apr 12, 2026Updated: 06:22 PM Apr 12, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
