'ছাব্বিশের যুদ্ধে' প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। লড়াইয়ে নামানো হয়েছে, সমাজের বিশিষ্টদের। ৭৪টি আসনে বর্তমান বিধায়করা জায়গা পাননি। বদলে আনা হয়েছে নতুন মুখ। তাঁদের অনেকেই সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি। শাসকদলের প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর দেখা গেল ৬ জন চিকিৎসক ও স্থানীয় সমাজসেবী টিকিট পেয়েছেন।
তবে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের চিকিৎসক বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী টিকিট পাননি। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে ডঃ সৌগত কুমার বর্মনকে। কল্যাণীতে টিকিট পেয়েছেন আরও এক চিকিৎসক ডঃ অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল। শুধু তাই নয়, ধূপগুড়ি, রানিবাঁধ, সোনামুখী, রামপুরহাট-সহ ৬টি বিধানসভায় চিকিৎসকদের প্রার্থীদের করেছে শাসকদল।
রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা। গতবার উপ নির্বাচনে বিজেপি থেকে তৃণমূলে গিয়ে বিধায়ক হন মুকুটমণি। ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ফের তাঁর দলবদলের জল্পনা উসকে দেয়। তিনি টিকিট পাচ্ছেন না একটা সময়ে স্পষ্ট হয়ে যায়।
সেই জায়গায় কল্যাণী জওহরলাল নেহরু হাসপাতালের চিকিৎসক সৌগত কুমার বর্মন। অন্যদিকে, কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে ডঃ অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল। তিনি কল্যাণীর জহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ডেপুটি সুপার হিসাবে কাজ করেছেন। প্রায় কুড়ি বছর চিকিৎসা পরিষেবা সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি। (তবে প্রত্যেকই নিজের সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন) এছাড়াও ধূপগুড়ি থেকে ডঃ নির্মলচন্দ্র রায়, রানিবাঁধে ডঃ তনুশ্রী হাঁসদা, সোনামুখীতে ডঃ কল্লোল সাহা, রামপুরহাটে ড. আশিস বন্দ্য়োপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মত, বার্তা খুব স্পষ্ট। সাংগঠনিক স্তরের নেতা ও সমাজের বিশিষ্ট, স্বচ্ছ ভাবধারার ব্যক্তিদের ভোটের লড়াইয়ে নামিয়ে 'দুর্নীতির রোগ' সাড়াতে চাইছে শাসকদল। তবে শেষ হাসি হাসবে কারা, তা বোঝা যাবে ৪ মে ভোটবাক্স খোলার পরই।
