একের পর এক সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হতেই ডিলিট ভোটারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বাদ পড়ছে শয়ে শয়ে নাম! এই আবহে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে পাহাড়ে। ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ-সহ ৬৫ জন। এদিকে ফাঁসিদেওয়ার লাহুগছ গ্রামে পরপর দুই বুথে বাদ পড়েছে ৬০৯ জন ভোটারের নাম। একই অভিযোগে বিক্ষোভ কার্শিয়াংয়েও। সেখানে নির্বাচন কমিশন এবং সাংসদ রাজু বিস্তা বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে সোমবার ডিলিট ভোটাররা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, পাহাড়বাসীর একাংশকে রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে।
শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়ার লাহুগছ গ্রামের দুটি বুথে ৬০৯ জন ভোটারের নাম ডিলিট করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার ক্ষোভে রাজ্যসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ডিলিট ভোটাররা। সোমবারেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। জানা গিয়েছে, ফাঁসিদেওয়া বিধানসভার ২২৩ এবং ২২৪ নম্বর বুথে মোট ভোটার রয়েছেন ১,৫৩৩ জন। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট হাতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোটাররা। অভিযোগ ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দুটি বুথে সাতশোর বেশি ভোটারদের বিচারাধীন রাখা হয়। নতুন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট হাতে আসতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। কারণ, দুটি বুথে ৬০৯ জন ভোটারের নাম ডিলিট করা হয়েছে।
ডিলিট ভোটারের তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর পরিবার, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য-সহ সাধারণ ভোটাররা। এদিকে নকশালবাড়ির হাতিঘিসার ২৫/৬২ নম্বর বুথের সেবদুল্লা জোত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বাদ পড়েছেন ৬৬ জন। অভিযোগ, এখানে ৯৬৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম সম্পূর্ণ ভোটার তালিকায় ৪০জন ভোটারের নাম ডিলিট হয়। পাশাপাশি ১১১ জনের নাম বিচারাধীন অবস্থায় ছিল। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বাদ পড়েন ৬৬ জন। এখনও পর্যন্ত ১১জন ভোটারের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। যাদের নাম ডিলিট করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আসরফ আনসারি। পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বলেন, "সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সুযোগ করে দিতে এই কাজ করছে।" অন্যদিকে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নিয়ে ক্ষোভের পারদ পাহাড়েও চড়েছে। সোমবার কার্শিয়াং শহরে ডিলিট ভোটাররা বিক্ষোভ দেখায়।
