কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণে উঠে এল 'লাল ইস্তেহার'। বিধানসভা নির্বাচনের আগে 'অতীতের রক্তাক্ত অধ্যায়' প্রসঙ্গ লাল ইস্তেহারের মাধ্যমে সুকৌশলে তুলে ধরলেন তিনি। 'বিশেষ সম্প্রদায়'কে নিশানা করলেন তাঁর বক্তব্যে। বাংলায় ভোট ঘোষণার পর প্রথম নির্বাচনী জনসভা করলেন মোদি। বাংলার শাসক দলকে তীব্র আক্রমণের পাশাপাশি অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাস ইস্যু উঠে এল তাঁর বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এসেছে মালদহের মোথাবাড়ি প্রসঙ্গও। উত্তরের সভা থেকে 'বিশেষ সম্প্রদায়'কে নিশানা করে ভোটের আগে আরও বেশি করে হিন্দুত্ববাদের বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদি! উত্তরে সভা হলেও দক্ষিণেও সেই বিভাজনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হল! এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
রবিবার বিকেলে কোচবিহারের জনসভা থেকে আগাগোড়া আক্রমণাত্মক ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি বরাবরই বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই অভিযোগ তুলছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন মোদির বক্তব্যে 'বিভাজনের রাজনীতি' আরও স্পষ্ট হল। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মদন মোহন মন্দিরের মাটি থেকে এদিন অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস নিয়েও বার্তা দিয়েছেন তিনি। এদিনের সভা থেকে ইস্তেহার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলি ভোটের আগে ইস্তেহার প্রকাশ করে। আগামী দিনের কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়। যদিও বিজেপি ভোটের আগে 'কর্মসংকল্প' প্রকাশ করে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এসেছে মালদহের মোথাবাড়ি প্রসঙ্গও। উত্তরের সভা থেকে 'বিশেষ সম্প্রদায়'কে নিশানা করে ভোটের আগে আরও বেশি করে হিন্দুত্ববাদের বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদি! উত্তরে সভা হলেও দক্ষিণেও সেই বিভাজনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হল! এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এদিন সেই ইস্তেহার বিষয় নিয়েই নিশানা করেছেন মোদি। তাঁর বক্তব্যেই উঠে এসেছে স্বাধীনতার আগে 'অতীতের রক্তাক্ত অধ্যায়'। কী এই লাল ইস্তেহার? এর সঙ্গ জড়িয়ে আছে লর্ড কার্জনের 'বঙ্গভঙ্গ' কালো অধ্যায়। কার্জনের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে ঢাকার নবাব খাজা সলিমুল্লাহর সমর্থন পুনরায় আদায় করেছিলেন। ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতেই কার্জন সলিমুল্লাহকে বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে রাজি করিয়ে ফেলেছিলেন, বলে খবর। লাল কালিতে লেখা হয়েছিল ইস্তেহার। এরপরের ইতিহাস আরও রক্তাক্ত। বাংলায় বহু হিন্দু প্রাণ হারিয়েছিলেন। অবিভক্ত বাংলার ঢাকা, চট্টগ্রাম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জ্বলেছিল আগুন। রক্তে লাল হয়েছিল রাস্তা। হিংসার আগুন ছড়িয়েছিল দাবানলের মতো। অনেক প্রাণ যাওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল।
হিন্দু ভোটকে একত্র করে রক্তাক্ত অধ্যায় মনে করালেন মোদি? প্রথম প্রচার থেকেই বাছাই করা শব্দবন্ধ কি তাহলে 'পাহাড় থেকে সাগর' তীব্র মেরুকরণের চেষ্টা! সেই প্রশ্ন উঠে আসছে।
পরবর্তীকালে ইংরেজ চলে গেলে দেশ স্বাধীন হয়। বাংলাকে ভাগ করে গিয়েছিল ইংরেজরা। পশ্চিমবঙ্গ অন্তর্ভুক্ত হয় ভারতের মধ্যে। বাংলাদেশের সেইসময় নাম হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান। পরে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। ভারত স্বাধীন হলেও ১৯০৫ সালের সেই ক্ষত এখনও বাংলার ইতিহাসে দগদগে। সেই বিষয়কেই এবার কৌশলে বক্তব্যে রাখলেন মোদি। হিন্দুত্ববাদকে উসকে ভোটের আগে মোদি কি এবার সরাসরি বিভাজনের বার্তা দিলেন? হিন্দু ভোটকে একত্র করে রক্তাক্ত অধ্যায় মনে করালেন? প্রথম প্রচার থেকেই বাছাই করা শব্দবন্ধ কি তাহলে 'পাহাড় থেকে সাগর' তীব্র মেরুকরণের চেষ্টা! সেই প্রশ্ন উঠে আসছে।
