তৃণমূলের একসময়ের 'তাজা নেতা' আরাবুল ইসলাম। ভোটের মুখে 'অভিমানে' দলত্যাগ করেন। যোগ দেন আইএসএফে। তাঁকেই ক্যানিং পূর্ব আসনে প্রার্থী করেছে আইএসএফ। সেই আরাবুলকে নিয়েই বামেদের তীব্র আপত্তি। প্রার্থী নিয়ে দু'পক্ষের ফাটল কার্যত স্পষ্ট। এই জটিলতার মাঝে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে মুখের উপর জবাব দিয়েছেন আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আইএসএফ কারও 'শাসানি' বরদাস্ত করবে না বলেই সাফ হুঁশিয়ারি তাঁর।
একুশের মতো ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও আইএসএফের হাত ধরে সিপিএম লড়াইয়ে নেমেছে। সোমবার আইএসএফ ক্যানিং পূর্ব আসনে সদ্য দলবদলকারী আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করার পর থেকেই জোটে নতুন জট দেখা গিয়েছিল। একদা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন করতে নারাজ ছিল সিপিএম। ফলে এনিয়ে প্রভূত সমস্যা তৈরি হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সিপিএমের পার্টি অফিস থেকে স্পষ্ট বার্তা গিয়েছিল, ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী বদল না করলে তারা বয়কট করবে।
নওশাদ বলেন, "আইএসএফ কাকে প্রার্থী করবে, সেটা সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা অন্য কোনও দলের ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে পারি না বা কারও লেজুড়বৃত্তি করতে পারি না।"
এই প্রসঙ্গে নওশাদ আরও বলেন, "আইএসএফ কাকে প্রার্থী করবে, সেটা সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা অন্য কোনও দলের ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে পারি না বা কারও লেজুড়বৃত্তি করতে পারি না।" সুতরাং আইএসএফ কাকে প্রার্থী করবে আর কাকে করবে না - এই বিষয়ে কারও 'মাতব্বরি' যে সহ্য করবে না নওশাদের আইএসএফ, তা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবারই মহম্মদ সেলিম নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "দুর্বৃত্তকে বগলদাবা করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না।" এই পরিস্থিতিতে সেলিম কিংবা নওশাদ - দু'জনেই নিজের অবস্থানে এককাট্টা হয়ে থাকলে জোট ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনাকেও একেবারে অস্বীকার করা যাবে না। সময় যত গড়াচ্ছে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ততই যে প্রশ্ন উঠছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
