বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাংলায় নিষিদ্ধ হবে আমিষ! আশঙ্কা সত্যি হলে, মাছ শ্রমিকদের রোজকার উপার্জন এবং কারবার-জোড়া ধাক্কা খাবে! ভোটমুখী বাংলায় তাই আতঙ্ক বাড়ছে সল্টলেকের ‘মৎস্য পাড়া’র ভেড়ির বাঁকে বাঁকে।
কলকাতা শহরঘেঁষা বিধাননগর বিধানসভা। এই কেন্দ্র অধীনস্থ ছয়নাভি, নাওভাঙা, কুলিপাড়া, খাসমহল, গরুমারা, নলবন-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভেড়িপ্রধান। অধিকাংশই বিধাননগর পুরসভার ৩৫, ৩৬ এবং ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। সব মিলিয়ে সেখানে সরকারি ও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হাজার হাজার বিঘে জলাশয় রয়েছে। তাই স্থানীয়ভাবে এই এলাকাটি ‘মৎস্য মহল’ নামে পরিচিত। এখানে ভেড়ির কাজে জড়িত শ্রমিক (যাঁদের কাজ হল-মাছ ধরা, জলাশয় তৈরি, মাছের খাবার দেওয়া, জলের আগাছা পরিষ্কার ইত্যাদি) মালিক, রপ্তানি কারবার মিলে হাজার হাজার মানুষ মাছচাষে জীবিকা নির্বাহ করেন।
সল্টলেকের চিংড়িঘাটা-সুকান্তনগরের মুখ থেকে ডান হাতে একটি চায়ের দোকান ফেলে রেখে কালো পিচ এবং নতুন তৈরি পেপার ব্লক রাস্তা ধরে সোজা মাইল তিন-চারেক পথ সামনের দিকে এগোলেই ছয়নাভি, নাওভাঙা, কুলিপাড়া, খাসমহল, গরুমারা ইত্যাদি মৎস্যপাড়া। কুলিপাড়া বিধাননগর কেন্দ্রের শেষ সীমানা। তার পরেই বামনঘাটা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা শুরু। এই অঞ্চলটি আবার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। আর গোরুমারা ‘নীল-সাদা’ রঙের লকগেট টপকালেই বাসন্তী হাইওয়ে। এই রাস্তার উপরে কাঁটাতলা। বিখ্যাত মাছ বাজার। এখান থেকেই কসবা বিধানসভা।
তপ্ত দুপুরে ছয়নাভির ‘বি-এইট’ এলাকার বটগাছের নিচে মার্বেল বাঁধানো চাতালে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ছিপছিপে চেহারার ভজা মণ্ডল। ভোট প্রসঙ্গে বিজেপির কথা উঠতে কার্যত তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন তিনি। ক্ষিপ্ত ভজার সাফ কথা, “ওরা (বিজেপি) ক্ষমতায় এলে আমাদের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। শুনছি, মাছ উৎপাদন বন্ধ হবে। তাহলে খাব কী? ভিক্ষা করব?” ছয়নাভি সি-১২ পাড়ায় পুরসভার উদ্যোগে রাস্তা সংস্কারের কাজে পিচের প্রলেপ পড়ছে। সেখানকার ভেড়ির পাশেই বনবিবি মন্দির। এই মন্দিরের কারণ কী? স্থানীয়রা বলছেন, একদা অবিভক্ত ২৪ পরগনার এই অঞ্চলটি জল-জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবনের মধ্যেই ছিল। বনবিবির মন্দিরের পাশে বসে ছিলেন দীপক সিং। মাছচাষ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তাঁর সটান জবাব, ‘‘বিজেপি এলে তো, বাঙালি ঘরে মাছ ঢুকবে না। আমরা খাব কী?” গরুমারার সাঁওতাল ‘মুণ্ডা’ পাড়ার প্রসেনজিৎ মুণ্ডা বলছেন, ‘‘দেশজুড়ে মাছ-মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হলে, মাছচাষে জড়িত পরিবারগুলিতেও ভীষণ প্রভাব পড়বে।’’
