হাসনাবাদের রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরোজ কামাল গাজী ওরফে বাবু মাস্টার। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরলেন। এই প্রত্যাবর্তন বসিরহাট মহকুমার রাজনৈতিক অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একসময় তৃণমূলের দাপুটে মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বাবু মাস্টার। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর সভা থেকে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। সেই সময় তাঁর দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। তবে কিছুদিনের মধ্যে বিজেপির সঙ্গে ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে থাকে তাঁর। পরে তিনি বিজেপি ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেন। এরপর থেকেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি ফের তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর এই ‘ঘর ওয়াপসি’ হল। তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন। পাশাপাশি যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর তথা বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র বাদল এবং সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতৃত্ব। তাঁদের উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়, এই প্রত্যাবর্তনকে দল কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাবু মাস্টারের প্রত্যাবর্তন তৃণমূলের সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করতে পারে, বিশেষ করে হিঙ্গলগঞ্জ এবং সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় স্তরে তাঁর প্রভাব এবং সংগঠনের ওপর দখল এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই মনে করা হয়। সেই কারণেই তাঁকে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট, দল তাঁর উপর আস্থা রাখছে। একইসঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
