নন্দীগ্রামের সঙ্গে ভবানীপুরেও বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী! দুই আসনে লড়াই করতে বিরোধী দলনেতাকে নির্দেশ বিজেপির উচ্চ নেতৃত্বের! সবকিছু ঠিক থাকলে আজ, শনিবারই হয়তো সেই ঘোষণা করতে পারে বিজেপি। সঙ্গে শুভেন্দুর দাদা দিব্যেন্দু অধিকারীকে উত্তর কাঁথিতে প্রার্থী করবে পদ্ম শিবির। এমনটাই খবর সূত্র মারফত। শুভেন্দুর ভবানীপুরে দাঁড়ানো নিয়ে তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ, শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপির সাহস থাকলে শুধু ভবানীপুর কেন্দ্রেই লড়াই করুক।
দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। আগামী সোমবার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই আবহে প্রার্থী বাছাই নিয়ে দিল্লিতে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার বাড়িতে বৈঠক করেছেন শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে 'হেভিওয়েট' প্রার্থী দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুভেন্দুর উপরই ভরসা করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শুভেন্দু নিজেও ভবানীপুরে দাঁড়ানো নিয়ে একাধিকবার মুখ খুলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে আনাগোনাও বাড়িয়েছিলেন তিনি। তবে নন্দীগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছেন না শুভেন্দু! কারণ, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার পর মরণবাঁচন লড়াইয়ে নন্দীগ্রাম তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করেন তিনি (যদিও নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে মামলা কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন)। তাই দু'টি আসনেই শুভেন্দু প্রার্থী হতে পারেন বলেই সূত্রের খবর।
আজ, শনিবার কলকাতায় নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড। আর আজই শুভেন্দুকে দুই আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে বলে অনুমান।
শুভেন্দুর ভবানীপুরে দাঁড়ানো নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, "অনেক নেতাই দু'টো আসনে দাঁড়ান। যেখানে যেকোনও একটি আসনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে দু'টো কেন্দ্রে লড়াই করে। যদি শুভেন্দু অধিকারী তথা বিজেপির সাহস থাকে, শুধু ভবানীপুর কেন্দ্রেই লড়াই করুক। কে বাধা দিয়েছে। দু'টো সিটে দাঁড়ানোর পিছনে হার মেনে যাওয়ার মানসিকতা রয়েছে।"
আজ, শনিবার কলকাতায় নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড। আর আজই শুভেন্দুকে দুই আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে বলে অনুমান। কিন্তু এত তাড়াহুড়ো কেন? গত বিধানসভা উপ-নির্বাচনের সময় এই ভবানীপুরেই মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী ঘোষণায় দেরি করেছিল বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও দেরি করে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, সেই জন্য অনেক ক্ষতি হয়েছিল। তাই এবার আর দেরি করতে চাইছে না বিজেপি। নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই প্রার্থীর নাম জানিয়ে শক্তি প্রদর্শন করতে পারে পদ্মশিবির, ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের। এমনকী ইতিমধ্যেই অধিকাংশ আসনে প্রার্থী ঠিক করা হয়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের বলেই খবর।
