ওয়াকফ হিংসা প্রাণ কেড়েছে স্বামী ও সন্তানের। ছাব্বিশে ব্যালটে তার 'বদলা' নিলেন মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী অর্থাৎ চন্দন দাসের মা। বৃহস্পতিবার সকালে অর্থাৎ প্রথম দফায় ভোট (West Bengal Assembly Election) দিলেন তিনি। বললেন, "স্বামীর মৃত্যুর বিচার চাই।"
গত বছরের এপ্রিলে ওয়াকফ আইন লাগু হওয়ার পর তার বিরোধিতায় পথে নেমে বিক্ষোভে শামিল হন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো বঙ্গেও তার সাময়িক আঁচ পড়ে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, সুন্দরবন এলাকায় অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল। তার মাঝে গত বছরের ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে এই ওয়াকফ হিংসার প্রতিবাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক না থাকলেও প্রাণ গিয়েছিল স্থানীয় দাস পরিবারের বাবা-ছেলের। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যাওয়ায় বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়। এতে আগুনে নতুন করে ঘি পড়ে।
গত বছরের ২২ ডিসেম্বর বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর ছাব্বিশের ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে নিহত বাবা-ছেলের স্ত্রী গেরুয়া শিবিরের হয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁরা বলেছিলেন , “বিজেপি প্রথম থেকেই আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের পাশে থেকে সবরকম সহযোগিতা করেছে। এখনও আমাদের পাশে আছে। তাই বিজেপির আমন্ত্রণে এসেছি।” এদিন ভোট দিয়ে বেরিয়েও সেই স্বামী-সন্তানের করুণ পরিণতি ও বিচারের আর্জিই শোনা গেল দাস পরিবারের গলায়।
