মাটির তলায় বিশাল প্রাসাদ, লুকানো রয়েছে অপার ধনসম্পদ। প্রাসাদ (tomb in china) কার? চিনের প্রথম সম্রাট কুইন সি হুয়াং-এর, যার মৃত্যু হয় ২১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। এই প্রাসাদের ভিতর শায়িত রয়েছে তাঁর সমাধি। এরপর পেরিয়ে গিয়েছে বহু বছর। ১৯৭৪ সালে একদল স্থানীয় চাষি কুয়ো খুঁড়তে গিয়ে ভুলবশতই এই প্রাসাদের হদিশ পায়। আর তারপরেই চমকে যায় তারা। প্রাসাদটিকে ঘিরে রয়েছে একনিষ্ঠ সেনাদল! কেবল রক্তমাংস নয়, পাথরের তৈরি তারা। তবে সংখ্যা, হাজারেরও বেশি। ‘ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর তকমা পায় এই সমাধি।
গবেষণা শুরু হয় তৎক্ষণাৎ। তবে বহু বছর পেরিয়েও সম্রাটের মুখ্য কক্ষটি খোলার সাহস কিছুতেই হয়নি গবেষকদের।
কিন্তু কেন? কোন অজানার ভয়ে? এটি আদতে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রাচীনকালে সমাধির ভিতর বিপুল রাজ ঐশ্বর্য রাখা হত বলেই তা সংরক্ষণের নানা ব্যবস্থাও করা থাকত। চৈনিক ঐতিহাসিক সিমা কিয়ান তাঁর গবেষণায় লেখেন, কুইন সি হুয়াং-এর সমাধির ভিতর গাঁথা রয়েছে বিপুল সংখ্যক স্বয়ংক্রিয় তীর-ধনুক। ভিতরে প্রবেশ করা মাত্রই যা নিজে থেকে ছুটে এসে লাগবে অনুপ্রবেশকারীর শরীরে।
এছাড়াও চিনের মুখ্য জলপথগুলির আকারে মিনিয়েচার নদী তৈরি করে রাখা রয়েছে সমাধির ভিতর। যেখানে জলের বদলে বইছে পারদ! পরবর্তীকালের গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে যে সমাধি সংলগ্ন মাটিতে পারদের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। ত্বকে ছুঁয়ে যাওয়ার প্রয়োজনটুকুও নেই, কেবল পারদ মিশ্রিত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিলেই মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়। যদিও এমন সব মৃত্যুফাঁদ তৈরির পর আনুমানিক ২২০০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে! এখনও কি তা কাজ করবে একই রকমভাবে? ধন্দে গবেষকমহল।
এছাড়াও রয়েছে আরও একটি ভয়। দীর্ঘদিন কেটে যাওয়ার ফলে ভিতরে থাকা শিল্পকার্য কী অবস্থায় রয়েছে বর্তমানে, তা জানা যায় না। ধনসম্পদ যদি অক্ষতও থাকে, পোশাক অথবা মৃৎপাত্র প্রভৃতি নিঃসন্দেহে ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। গবেষকদের অনুপ্রবেশের ফলে যদি তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সমগ্র গবেষণাটি অমূলক হয়ে দাঁড়ায়।
কী করা যায় এমতাবস্থায়? গবেষকরা জানিয়েছেন, তা অপেক্ষায় বিশ্বাসী। এমন কোনও যন্ত্র, যা বাইরে থেকেই ভিতরের অবস্থা নির্ণয় করতে পারবে, অথবা মৃত্যুফাঁদগুলি নিরস্ত করতে পারবে, তা আবিষ্কার হলে ভিতরে ঢোকার কথা পুনর্বিবেচনা করবেন তাঁরা।
তাছাড়াও স্থানীয় মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এই সমাধির সঙ্গে। বাইরে থেকে আসা মানুষেরা প্রাচীন সমাধি খুললে, উপস্থিত সকলের উপরেই অভিশাপ নেমে আসে— এমন বিশ্বাস প্রায়শই প্রচলিত থাকে। ফলে কারও ভাবাবেগে আঘাত না দিয়ে তবেই গবেষণা চালিয়ে যাবেন, এমন মনস্থির করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
