তিনি জীবিত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ। তথাপি ঘটা করে নিজের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান করতে চলেছেন। ইতিমধ্যে প্যান্ডেল বাধার জন্য খবর দিয়েছেন ডেকরেটর্সকে। আত্মীয়-প্রতিবেশীদের জন্য এলাহি খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্তও করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, হিন্দু রীতি মেনে তেরো দিনের কাজের জন্য পুরোহিতকে খবর দিয়েছেন। সেই যোগারযন্ত চলছে। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, কেন এমন কাণ্ড করতে চলেছেন মধ্যপ্রদেশের সাতনার বাসিন্দা এক বৃদ্ধ?
উছেরা অঞ্চলের আত্রবেদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রামলোতন কুশওহা। ইতিমধ্যে নিজের শ্রাদ্ধের কার্ড বিলি করেছেন। আগামী ১৩ মে বুধবার হবে অভিনব শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। আসলে কিছুদিন আগে দেহদানের সংকল্প করেন তিনি। ঠিক করেন, তাঁর মৃত্যুর পর সাতনা মেডিক্যাল কলেজে দেহ দান করবেন আত্মীয়রা। এই সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করার বদলে অনেকই কটুক্তি শুরু করেন রামলোতনকে। তাঁরা অভিযোগ করেন, শ্রাদ্ধের পয়সা বাঁচাতে দেহদানের ছুঁতো দিচ্ছেন তিনি। তা যে নয় কীভাবে বোঝাবেন?
সে কথা বোঝাতে জীবিত অবস্থায় নিজের শ্রাদ্ধনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেন রামলোতন কুশওহা। উছেরা এলাকায় সচেতন মানুষ হিসাবেই তিনি পরিচিত। এই অঞ্চলের ঔষধি গাছ এবং দেশীয় ফসলের জাত সংরক্ষণের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর কাজ রাজ্য স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং নরেন্দ্র মোদি 'মন কি বাত'-এ তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালে ভোপালে তাঁকে রাজ্য জীববৈচিত্র্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নিজের মৃত্যু পরবর্তী অনুষ্ঠান করে রামলোতন সম্ভবত দেহদানের মতো সিদ্ধান্তের প্রতি সমাজের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, তা জানতে এবং এই বিষয়ে একটি বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন। এই পদক্ষেপ এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, অন্যরা বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
