স্বামী, সন্তান থাকা সত্ত্বেও এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন পুলিশকর্মী। ধীরে ধীরে সংসার থেকে আলাদাও হয়ে যান। স্বামীর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন থানায়। তদন্ত চলছিল। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু প্রেমদিবসেই 'কাহানি মে টুইস্ট'! ওই দিন রাস্তায় স্ত্রীকে প্রেমিকের হাত ধরে যেতে দেখে স্বামী যা করলেন, তা চমকপ্রদই বটে। রাস্তাতেই দু'জনকে ধরে বিয়ে দিয়ে দিলেন তিনি। শুধু বিয়ে দেওয়া নয়, একেবারে মালাবদল, সিঁদুরদান - সবই হল পথে। এনিয়ে বেশ হইহই এলাকায়। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া এবং এভাবে বিয়ে দেওয়া কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে তর্কাতর্কিও শুরু হয়েছে।
যে মহিলাকে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন, তিনি কাঁথির এক মহিলা কনস্টেবল। ৭ বছরের সন্তান রয়েছে। তা সত্ত্বেও উত্তর ২৪ পরগনার এক যুবকের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের এই সম্পর্ক। দু'জন মাঝেমধ্যে কাঁথি শহরের দিঘা বাইপাস এলাকার একটি ভাড়া ঘরে দেখা করতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে এই খবর পান কনস্টেবলের স্বামী। শনিবার, প্রেমদিবসে জাতীয় সড়কে প্রেমিকের সঙ্গে হাঁটছিলেন মহিলা। সেসময় স্ত্রীকে হাতেনাতে ধরেন স্বামী। এরপর রাস্তাতেই মালাবদল ও সিঁদুর পরিয়ে স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে কাঁথি থানায় নিয়ে যান।
অন্যদিকে, মহিলা পুলিশকর্মী স্বামীর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও স্বামী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রী আলাদা থাকেন, সংসারের দায়িত্ব সামলাতে হয় তাঁকেই। কাঁথি আদালতের সরকারি আইনজীবী মনজুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি সত্যি হলেও যুবক যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা মহিলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। এটি আইনবিরুদ্ধে কাজ। আইনের বিধানে যুবক অপরাধী হলেও যুবতীর এই ধরনের কাজ এটি একটি সামাজিক অবক্ষয় বলে তিনি দাবি করেছেন। যদিও সাম্প্রতিক আইন বলছে, পরকীয়া অপরাধ নয়। পুরো ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সত্যতা স্বীকার করলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
