সরকারি অফিস মানেই মাথার উপরে ঢিমেতালে পাখা, টেবিলে ফাইলের স্তূপ, স্টিলের আলমারি। এমন একটা ছবি আমাদের সকলেরই মাথায় ঘুরতে থাকে। এর সঙ্গে অবশ্যই রয়েছে চেয়ারে জড়ানো সাদা তোয়ালের সঙ্গত। কেবল বাংলা নয়, গোটা দেশেই একই ছবি। স্বাভাবিক ভাবে মাথায় প্রশ্নটা আসেই, কেন চেয়ারে সাদা তোয়ালে জড়িয়ে রাখার এই রীতি যুগের পর যুগ ধরে চলছে? সেই ব্রিটিশ আমল থেকে যার পরিবর্তন হল না!
সেই অর্থে কোনও ঘোষিত কারণ কিন্তু নেই। তবে ইতিহাসবিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য থেকে উঠে আসে, তিনটি বিষয়- আবহাওয়া, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অভ্যাস, ঔপনিবেশিক মানসিকতা। আসলে ব্রিটিশ আমলে না ছিল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র, না ছিল আধুনিক আসবাব। অফিসাররা গরম, ধুলের ভিতর দিয়ে অফিসে আসতেন। গাড়, ট্রেন এমনকী ঘোড়ার পিঠে চেপেও। আর সেই কারণেই তোয়ালে তাঁদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে! একে তোয়ালে দিয়ে ঘর্মাক্ত মুখ, ঘাড় দিব্যি মুছে নেওয়া যায়। সাদা তোয়ালে সহজেই সেসব শুষে নিয়ে অফিসারটিকে শুকনো করে তুলত। তাছাড়া অনেকেই মাথায় প্রচুর তেল মাখতেন। সেক্ষেত্রেও তোয়ালে তেল চুকচুকে মাথা ও চেয়ারের মাঝে অন্তরায় হয়ে উঠে চেয়ারটিকে রক্ষা করে!
কেবল বাংলা নয়, গোটা দেশেই একই ছবি। স্বাভাবিক ভাবে মাথায় প্রশ্নটা আসেই, কেন চেয়ারে সাদা তোয়ালে জড়িয়ে রাখার এই রীতি যুগের পর যুগ ধরে চলছে? সেই ব্রিটিশ আমল থেকে যার পরিবর্তন হল না!
কিন্তু যুগ বদলেছে। ইংরেজরা বিদায় নিলেও তাদের তৈরি করে দিয়ে যাওয়া আমলাতন্ত্র বদলায়নি। এমনকী, টেবিল থেকে ঘরের আকার, আসবাবের প্রকৃতি এসব দিয়েই বোঝায় সেই অফিসারের প্রতিপত্তি। আর এই সব কিছুর সঙ্গেই মিশে গিয়েছে সাদা তোয়ালেও! প্রাক্তন কূটনীতিক গুরদীপ সিং সপ্পল সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'ব্রিটিশরা চলে গিয়েছে, ঘোড়ারা চলে গিয়েছে, কিন্তু তোয়ালে রয়ে গিয়েছে।' আসলে সাদা মানে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সহজতা। সরকারি আধিকারিকরা সেই কারণেই এই তোয়ালে দিয়ে চেয়ার মুড়ে রাখতেন।
এখন সময় অনেক বদলেছে। সরকারি দপ্তরের চেহারাও বদলেছে। কিন্তু চেয়ারের গা থেকে সাদা তোয়ালেকে সরানো যায়নি আজও। হ্যাঁ, এখনও স্বাস্থ্য, অভ্যাসের মতো নানা কারণ রয়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি রয়েছে আরও একটা বিষয়। এতদিন চলে আসা রীতিকে ভাঙতে না পারার সাহস! ফলে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলিতেছে।
