ঝকঝকে স্পষ্ট ছবির দিন বুঝি শেষ! সোশাল মিডিয়া জানাচ্ছে, জেন জি'র (Gen Z) মন মজেছে ‘ব্লারি’ ফটোতে! মিলেনিয়ালরা (জেন জি'র আগের প্রজন্ম) যেমন সামান্য কেঁপে যাওয়া ফটোকে নির্দ্বিধায় বাতিলের তালিকায় ফেলে দিত, জেন জি কিন্তু তা করছে না! বরং ইচ্ছে করেই খানিক কাঁপিয়ে দিচ্ছে বিশেষ মুহূর্তের ছবিটিকে। তাই সোশাল মিডিয়া খুললেই চোখে পড়ছে পাহাড়-সমুদ্র বা সিনেমা-কনসার্টে তোলা ব্লারি ফটো!
কিন্তু এমনটা কেন? বিশেষ কোনও অভিজ্ঞতার মুহূর্তটি কেন অস্পষ্টভাবে ক্যামেরাবন্দি করতে আগ্রহী এই নতুন যুগের দূতেরা? মনোবিদেরা বলছেন, নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু কারণ!
‘আনফিল্টারড’ যাপনের প্রতি আগ্রহী জেন-জি
জীবন হোক অ্যান্টি-অ্যাস্থেটিক!
জীবন এমনই, এলোমেলো, ছন্নছাড়া। তাতে কোনও কিছুই ‘পিকচার পারফেক্ট’ নয়- মনোবিদদের মতে, এ কথাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে নতুন প্রজন্ম। জীবনের ভুলভালকে ঢাকা-চাপা দিয়ে ‘ছবির মতো সুন্দর’ দেখানোর বদলে তাই বাস্তবের মতো সদা সচল হিসেবেই প্রকাশ করতে চায় তারা।
এমনিতে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই যে বহুকালের চলে আসা প্রথা ভাঙতে উদ্যত জেন জি, তা দেখা গিয়েছে বারেবারেই। ‘আনফিল্টারড’ যাপনের প্রতিই আগ্রহী তারা। ব্লারি ছবিতেই নাকি ধরা পড়ে তাতে উপস্থিত ভুলভ্রান্তিতে ভরা মানুষটির স্বরূপ।
রয়েছে মনস্তত্ত্বের কোনদিক?
তবে ব্লারি ফটোর পিছনে থাকতে পারে চিন্তার কারণও, জানাচ্ছেন মনোবিদেরা। তাঁদের মতে, সামাজিকভাবে মিলেনিয়ালদের চাইতে অনেক বেশি অনিশ্চিত জেন জির জীবন। চাকরি, পড়াশোনো, সম্পর্ক— সবক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তায় ভুগতে দেখা যায় তাদের। এর অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ডিজিটাল এক্সপোজার। সোশাল মিডিয়ার উপস্থিতি এই প্রজন্মের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে নিঃসন্দেহে। তাই বাস্তব জীবনের পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি সম্পর্কেও সর্বদাই ভাবিত তারা।
নিজেদের সামাজিক যোগ্যতা বারেবারে যাচাই করে নেওয়ার ইচ্ছের প্রতিফলন এই ঝাপসা ফটো, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
তাদের মানসিক দুর্বলতা, সিদ্ধান্তহীনতা, ডিপ্রেশন, এমনকী নিজেদের সামাজিক যোগ্যতা বারেবারে যাচাই করে নেওয়ার ইচ্ছের প্রতিফলন এই ঝাপসা ফটো, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নিজের অস্পষ্ট ফটো পোস্ট করে সোশাল মিডিয়ার মধ্যেও যেন এক ব্যক্তিগত পরিসর সৃষ্টির চেষ্টায় জেন জি।
তবে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, বলছেন মনোবিদরাই। অন্যান্য হাজারও ট্রেন্ডের মধ্যেই অন্যতম ব্লারি ফটো, মনে করছেন তাঁরা। বরং এ ধরনের ছবিতে কেবল নিজেকে দেখানোর পাশাপাশি সৃজনশীলতা দেখানোর সুযোগও রয়েছে। তাই শৈল্পিক কারণেও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এই কেঁপে যাওয়া ফটোর ট্রেন্ড!
