সারমেয়প্রেম তাঁর মজ্জাগত। রাস্তাঘাটে কুকুর দেখলেই আদরে ভরিয়ে দেন। শুধু আদর নয়, খাবার দিয়ে পেটও ভরান পথকুকুরদের। কিন্তু বাড়িতে এতদিন একটিও পোষ্য ছিল না। এবার রাস্তা থেকে তুলে এনে ঘর দিয়েছিলেন গর্ভবতী এক কুকুরকে। ফুটফুটে সাদা-কালো একটি ছানাও হয় তার। বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে ভালোই যত্নআত্তি পাচ্ছিল সদ্যোজাত। কিন্তু দিন দুই হল, কুকুরছানাটি বেমালুম উধাও! তা নিয়েই চিন্তার ভাঁজ মালকিনের। ছানাটি যে তাঁর প্রাণের ধন! তাকে খুঁজে পেতে এবার অভিনব কাণ্ড করলেন মালকিন। গোটা শহরজুড়ে কচি সারমেয়র ছবি দিয়ে 'সন্ধান চাই' দিলেন। সেইসঙ্গে হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করলেন। এখন অপেক্ষা, সাদা-কালো কুকুরছানাটি কার কোলে চড়ে তাঁর কোলে ফিরে আসে।
প্রাণপ্রিয় নিখোঁজ কুকুরছানাকে পেতে 'সন্ধান চাই' পোস্টার বর্ধমান শহর জুড়ে। নিজস্ব ছবি
বর্ধমান শহরের খাজা আনোয়ার বেড় এলাকার বাসিন্দা বছর চব্বিশের রাজশ্রী দে। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের ইন্টার্ন তিনি। তবে তার চেয়েও বড় পরিচয়, রাজশ্রী প্রবল পশুপ্রেমী। বিশেষত কুকুরের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অফুরান। সারাবছর পথকুকুরকে নাইয়েখাইয়ে যত্ন করেন। মাস তিনেক আগে এক পথকুকুরকে গর্ভবতী দেখে রাজশ্রী নিজের বাড়িতে তাকে নিয়ে আসেন। সময়মতো সে শাবকের জন্ম দেয়। পৃথিবীর আলো দেখে সাদা-কালো লোমশ এক ফুটফুটে ছানা। তাকে পেয়ে রাজশ্রীর দ্বিগুণ আনন্দ! বেশ যত্নে মা ও ছানাকে নিজের বাড়িতে রেখে দেন তিনি।
কিন্তু রাস্তায় যারা জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে ফেলে, তাদের কাছে তো ঘরদোরই সব। চার দেওয়ালের মধ্যে থাকতে কি আর ভালো লাগে? মোটেই না। আর তাই ছানা একটু বড় হয়ে হাঁটাচলা শিখেই ঘরের বাইরে দে ছুট! কিংবা অন্য কোনও কারণ হোক, আচমকা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে সে। গত ২০ তারিখ, শুক্রবার থেকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না খুদে কুকুরটিকে।
কুকুরছানাকে খুঁজে পেতে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বর্ধমানের বাসিন্দা রাজশ্রী দে। নিজস্ব ছবি
স্বভাবতই ভেঙে পড়েছেন রাজশ্রী। মাত্র ৩৮ দিনের ছোট্ট পোষ্যকে খুঁজে পেতে শহরজুড়ে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। তার শুরুতেই লেখা - খুঁজে দিতে পারলে পুরস্কার ১০০০ টাকা। দেওয়া রয়েছে যোগাযোগের নম্বর। পাশাপাশি বর্ধমান থানায় নিখোঁজ ডায়রিও করেছেন রাজশ্রী। তাঁর কথায়, ''গত পরশু সকালে আমার বাড়ি থেকে একটি দেশি সারমেয় ছানা চুরি অথবা নিখোঁজ হয়। আমি তাকে খুঁজছি। আমি চাই, সবাই আমার পাশে দাঁড়িয়ে ওকে খুঁজে দিন। এর জন্য আমি ১০০০ টাকা পুরস্কারও রেখেছি। কেউ ওকে আমার কাছে দিয়ে গেলে আমি সঙ্গে সঙ্গে ওই টাকা তাঁর হাতে তুলে দেব।'' এখন আশা একটাই, জনতা অথবা পুলিশ - কেউ নিশ্চয়ই প্রিয় কুকুরছানাটি খুঁজে রাজশ্রীর কোলে এনে দেবেন।
