shono
Advertisement
Snake on Train

জঙ্গল ছেড়ে ট্রেনের সিটের নিচে ভিড় বাড়াচ্ছে কিং কোবরা! নেপথ্যে যাত্রীদের এই বিরাট গাফিলতি

বিশ্বের সবচাইতে বিষধর সাপগুলির মধ্যে অন্যতম শঙ্খচূড়রা দৈর্ঘ্যে ১৩ ফুট পর্যন্ত হতে পারে! সচরাচর আক্রান্ত অনুভব না করলে, ঘুরিয়ে আক্রমণ করে না।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 04:52 PM Feb 23, 2026Updated: 07:12 PM Feb 23, 2026

দূরপাল্লার ট্রেনজার্নিতে সঙ্গে রাখেন কোন কোন জিনিস? কার্বলিক অ্যাসিড রাখেন কি? না রাখাই স্বাভাবিক, তবে গোয়ায় গিয়ে ট্রেনে চাপেন যদি, এ জিনিসের দরকার পড়তেই পারে!

Advertisement

পশ্চিমঘাটের পাহাড়ি রেলপথে এগোচ্ছে ট্রেন। জানলার বাইরে চোখ মেললেই মনোরম প্রকৃতি। ঘন সবুজ বনাঞ্চল, মাঝেমধ্যে জলপ্রপাত। কিন্তু এরই মধ্যে দেখা মিলতে পারে সাক্ষাৎ মৃত্যুদূতের। যার নাম, কিং কোবরা! বাংলায় যা শঙ্খচূড় নামে পরিচিত। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গত দশ-বারো বছরে মোট ৪৭ বার এই সাপের দেখা মিলেছে গোয়ার ট্রেনগুলিতে। এর মধ্যে উত্তর গোয়ায় ১৮টি ও দক্ষিণ গোয়ায় ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

বিশ্বের সবচাইতে বিষধর সাপগুলির মধ্যে অন্যতম শঙ্খচূড়রা দৈর্ঘ্যে ১৩ ফুট পর্যন্ত হতে পারে! সচরাচর আক্রান্ত অনুভব না করলে, ঘুরিয়ে আক্রমণ করে না। তবে ট্রেনযাত্রাকালে এমন সহযাত্রীর দেখা মিললে, ভিরমি খেতে হবে বৈকি!

চাষের জমি ছেড়ে কেন ট্রেনের কামরা বেছে নিচ্ছে কিং কোবরা?

কিন্তু চাষের জমি ও বনাঞ্চল ছেড়ে কেন ট্রেনের কামরা বেছে নিচ্ছে এই সাপেরা? এ বিষয়ে একটি গবেষণা করেন জার্মানির বন শহরের ‘লেইবনিজ ইন্সটিটিউট ফর দ্য অ্যানালিসিস অফ বায়োডায়ভার্‌সিটি চেঞ্জ’-এর সরীসৃপ ও উভচর বিশেষজ্ঞ দিকাংশ পরমার। তাঁর মতে, বন-জঙ্গলের পাট চুকিয়ে ট্রেনের প্রতি সাপেদের আগ্রহ পরোক্ষে নাকি জাগাচ্ছে মানুষরাই!

সাধারণত, ট্রেনে চলতে যত্রতত্র খাবারের প্যাকেট, আধখাওয়া টুকরো সিটের নিচে চালান করেই থাকেন যাত্রীরা। লোকাল ট্রেন বা দূরপাল্লা— এ দৃশ্য রোজের। পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বারেবারে আলোচনা হলেও দৃশ্য তেমন বদলায় না। এই খাবারের টুকরোর লোভে ট্রেনে ওঠে বড় ইঁদুর, ছুঁচো প্রভৃতি। আর এই ইঁদুরের পিছন পিছনেই এসে জোটে কিং কোবরার মতো ভয়াবহ সাপ!

বিশ্বের সবচাইতে বিষধর সাপগুলির মধ্যে অন্যতম কিং কোবরা!

এরপর ট্রেন চলতে শুরু করলে ‘প্যাসিভ ট্রান্সপোর্‌ট’-এর অংশ হিসেবে সাপেরাও যাত্রা করতে থাকে এক জায়গা থেকে অন্যত্র। এমন ঘটনা যে কেবল মানুষের জন্যই ক্ষতিকারক তা নয়, সামগ্রিকভাবে প্রকৃতির পক্ষে আশঙ্কাজনক, মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

তাই পরেরবার খাবারের টুকরো সঠিক আবর্জনাদানিতেই ফেলুন। ট্রেনে যেখানে সেখানে তা ফেলে দেওয়ার আগে ভেবে দেখুন, প্রাণহানীর আশঙ্কা, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্ন- আপনার সামান্য একটা কাজ, বড় রকমের ক্ষতি ডেকে আনছে না তো?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement