shono
Advertisement
China

বেশি ঘুমোলেই মিলবে হাজার হাজার টাকা! 'কুম্ভকর্ণ' হওয়ার লড়াই ঘিরে উৎসাহ তুঙ্গে

ভাবুন তো, যদি শুধু ভালো করে ঘুমিয়েই পকেটে ঢোকানো যেত হাজার হাজার টাকা? হ্যাঁ, তাহলে বোধয় 'কুম্ভকর্ণ' নামের কালিমা কিছুটা ফিকে হত। ফিকে যে হয়েছে তা সত্য। তবে সেই 'কুম্ভকর্ণ' হওয়ার লড়াই শুরু হয়েছে খোদ চীনে। স্বপ্ন নয়, এ যে এক্কেবারে ঘোর বাস্তব! সাংহাইয়ের দংপিং ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্কে চলছে এমনই এক হুলস্থুল কাণ্ড, যার নাম 'ফরেস্ট স্লিপ চ্যালেঞ্জ'। অফিসের কাজ নেই, ঝক্কি নেই— শুধু জঙ্গলের মধ্যে গভীর ঘুম।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 06:54 PM Mar 26, 2026Updated: 07:24 PM Mar 26, 2026

সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়? আর তাতেই বাড়ি মাথায় করেন মা? কিংবা 'কুম্ভকর্ণ' হিসেবে কি আপনি বন্ধুমহলে পরিচিত? ঘুমোতে ভালোবাসি আমরা সকলেই। কিন্তু ভাবুন তো, যদি শুধু ভালো করে ঘুমিয়েই পকেটে ঢোকানো যেত হাজার হাজার টাকা? হ্যাঁ, তাহলে বোধয় 'কুম্ভকর্ণ' নামের কালিমা কিছুটা ফিকে হত। ফিকে যে হয়েছে তা সত্য। তবে সেই 'কুম্ভকর্ণ' হওয়ার লড়াই শুরু হয়েছে খোদ চীনে। স্বপ্ন নয়, এ যে এক্কেবারে ঘোর বাস্তব! সাংহাইয়ের দংপিং ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্কে চলছে এমনই এক হুলস্থুল কাণ্ড, যার নাম 'ফরেস্ট স্লিপ চ্যালেঞ্জ'। অফিসের কাজ নেই, ঝক্কি নেই— শুধু জঙ্গলের মধ্যে গভীর ঘুম।

Advertisement

সাংহাইয়ের চংমিং দ্বীপের এই অরণ্যে আপাতত ভিড় জমিয়েছেন প্রায় ৫০ জন ঘুমকাতুরে। বিশ্ব ঘুম দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে এই অভিনব উৎসব। নিয়মকানুন বেশ কড়া। অংশগ্রহণকারীদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫০-এর মধ্যে। বনের মৃদুমন্দ বাতাসে ঝরা পাতার বিছানায় দেদার ঘুম। সেখানে শুয়েই দেখাতে হবে ঘুমের কামাল। প্রতিযোগীদের শরীরে লাগানো থাকছে বিশেষ সেন্সর। বড় স্ক্রিনে ফুটে উঠছে কার হৃদস্পন্দন কত, কে কতটা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কে কত দ্রুত চোখের পাতা এক করতে পারছেন, তারও হিসেব রাখছে অত্যাধুনিক যন্ত্র।

ছবি: সংগৃহীত

পুরস্কারের অঙ্কটাও নিছক মন্দ নয়। যে প্রতিযোগী সবচেয়ে ভালো ঘুমোতে পারবেন, তাঁর পকেটে ঢুকবে ৩০০০ ইউয়ান। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। আবার যিনি সবচেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বেন, তাঁর জন্য রয়েছে ২০০০ ইউয়ানের ইনাম। আর যাঁরা নিয়ম মেনে শেষ পর্যন্ত শুয়ে থাকতে পারবেন, তাঁদের জন্য আছে ১০ হাজার ইউয়ানের একটি বড় প্রাইজ পুল। তবে শর্ত একটাই— ঘুম আসুক বা না আসুক, বিছানা ছাড়া যাবে না। এমনকী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে উঠে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে ডিসকোয়ালিফিকেশন! স্মার্টফোন বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক যন্ত্র ছোঁয়া বারণ। পাশ ফিরে শোওয়া যাবে ঠিকই, কিন্তু বিছানার নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে পা রাখা চলবে না।

শহরবাসীর ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মেটাতেই এই উদ্যোগ। চংমিং দ্বীপটি এমনিতেই তার স্বচ্ছ বায়ু আর জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, প্রকৃতির কোলে এমন শান্ত পরিবেশ মানুষের মানসিক চাপ কমিয়ে দেবে কয়েক গুণ। আগামী ২৬ এপ্রিল এবং মে মাসের শুরুতেও চলবে এই প্রতিযোগিতা। আলস্যের এমন দাম আগে কবে মিলেছে? মনে করতে পারছেন না অনেকেই। তাই তো এই আজব প্রতিযোগিতার কথা শুনে সোশাল মিডিয়ায় এখন ঘুম ছুটছে বাকি দুনিয়ার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement