ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল। ৬১ বছরের খরা কাটিয়ে ফাইনালেও উঠেছিলেন। কিন্তু খেতাবি যুদ্ধে এসে স্বপ্নপূরণ হল না ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের নতুন তারার। রবিবার এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হেরে গেলেন ভারতের আয়ুষ শেট্টি। চিনা প্রতিপক্ষের কাছে স্ট্রেট সেটে হারলেন তিনি। তবে রুপোর পদক নিয়ে দেশে ফিরছেন ২০ বছর বয়সি তরুণ তুর্কি।
শনিবার বিশ্বের এক নম্বর কুনলাউত উইতিতসান-কে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন আয়ুষ। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক্সে রুপো জিতেছিলেন থাইল্যান্ডের উইতিতসান। সেই হেভিওয়েট প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেন মাত্র ২০ বছর বয়সি আয়ুষ। গত ৬১ বছরে এই প্রথমবার এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষদের সিঙ্গলস ফাইনালে উঠে নজির গড়ে ফেলেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে দীনেশ খন্না এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিলেন। তারপর ভারতের আয়ুষ। রবিবার ফাইনালে আয়ুষের প্রতিপক্ষ ছিলেন চিনা ব্যাডমিন্টন তারকা শি ইউ কি। তাঁর বিরুদ্ধেও আয়ুষের জয় দেখতে মুখিয়ে ছিলেন ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।
তবে প্রতিপক্ষ হিসাবে শি মোটেও সহজ ছিলেন না। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন শি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন। রবিবার ম্যাচ শুরু হতেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করেন শি। মাত্র ১৮ মিনিটে প্রথম সেট জিতে নেন তিনি ২১-৮ ফলে। কিন্তু দ্বিতীয় গেমে নতুন উদ্যম নিয়ে খেলা শুরু করেন আয়ুষ। একটা সময়ে ৭-৩ লিড নিয়েও ফেলেছিলেন তরুণ তুর্কি। তবে খানিকক্ষণের মধ্যেই ফের ঘুরে দাঁড়ান শি। দ্বিতীয় গেমে সমতা ফেরানোর পর আর রোখা যায়নি তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ২১-১০ ফলে জিতে যান তিনি।
ফাইনালে হারলেও রুপো নিয়ে দেশে ফিরছেন আয়ুষ। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও বিশ্বের ৭ নম্বর চিনের লি শি ফেং, বিশ্বের ৪ নম্বর জোনাথন ক্রিস্টিকে হারান তিনি। ২০ বছর বয়সি তরুণ তুর্কির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীরা। উল্লেখ্য, এই প্রতিযোগিতায় ভারত শেষ বার পদক জিতেছিল ২০২৩ সালে ডাবলসে। সেবার সাত্ত্বিকসাইরাজ রনকিরেড্ডি -চিরাগ শেট্টি জুটি চ্যাম্পিয়ন হয়। তিনবছর পর ফের পদক এল ভারতের ঘরে।
