shono
Advertisement
PV Sindhu

কপালে কালো টিপ নাকি প্রযুক্তির চমক! উবের কাপে সিন্ধুর স্বামীর দেওয়া 'উপহার' নিয়ে তুঙ্গে চর্চা

আলোচনার কেন্দ্রে ভারতীয় শাটলার পিভি সিন্ধু। তাঁর ডান চোখের উপর দেখা গেল এক ইঞ্চি মতো কালো টিপ! যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 04:25 PM Apr 26, 2026Updated: 04:26 PM Apr 26, 2026

ডেনমার্কের হরসেন শহরে শুরু হয়েছে টমাস ও উবের কাপ। ব্যাডমিন্টনের এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা ১৬টি দেশ অংশ নিচ্ছে। পুরুষদের লড়াই টমাস কাপে। মেয়েদের প্রতিযোগিতা উবের কাপে। শুক্রবার রাতে উবের কাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের মহিলা দল মুখোমুখি হয়েছিল আয়োজক দেশ ডেনমার্কের। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ভারতীয় শাটলার পিভি সিন্ধু। তাঁর ডান চোখের উপর এক ইঞ্চি মতো কালো টিপ! যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

Advertisement

শুক্রবার প্রথম সিঙ্গলসে নামেন পিভি সিন্ধু এবং ড্যানিশ শাটলার লিনে ক্রিস্টোফারসেন। তিন গেমের লড়াইয়ে ম্যাচ জেতেন সিন্ধু। স্কোরলাইন ২১-১৩, ১৮-২১, ২১-১৭। নির্ণায়ক গেমে ১২-১৫ পিছিয়ে থেকেও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তবে ম্যাচের থেকেও বেশি চর্চায় 'টেম্পল' নামের নতুন প্রযুক্তি। এই ডিভাইসটি তৈরি করেছেন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম জোম্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েল। কী এই ‘টেম্পল’? এটি একটি ছোট্ট যন্ত্র, যা কপালে পরতে হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘ব্রেন-ফ্লো মনিটর’। এটি মূলত মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনের উপর নজরদারি চালাবে। রিয়েল-টাইমে জানা যাবে মস্তিষ্কের অন্দরে রক্ত চলাচলের গতিপ্রকৃতি। দীপিন্দর নিজেই গত এক বছর ধরে এই যন্ত্রটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করছেন।

কী এই ‘টেম্পল’? এটি একটি ছোট্ট যন্ত্র, যা কপালে পরতে হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘ব্রেন-ফ্লো মনিটর’। এটি মূলত মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনের উপর নজরদারি চালাবে। রিয়েল-টাইমে জানা যাবে মস্তিষ্কের অন্দরে রক্ত চলাচলের গতিপ্রকৃতি।

দু'বারের অলিম্পিক পদকজয়ী সিন্ধু জানান, এখন আর তিনি ১৯ বছরের মতো ফিট নন। তবে লক্ষ্য একটাই, ২০২৮ অলিম্পিক্সে আবারও পদক জেতা। সেই লক্ষ্য পূরণে আগামী দু’বছর নিজেকে সেরা অবস্থায় রাখতে চান তিনি, আর তার জন্যই নিচ্ছেন প্রযুক্তির সহায়তা। সিন্ধুর কপালে দেখা যাওয়া কালো টিপের ওই ডিভাইস আসলে অনুশীলন বা ম্যাচ চলাকালীন এটি তাঁর ভুল-ত্রুটি শনাক্ত করে। শরীরের নড়াচড়া এবং পারফরম্যান্স কতটা কার্যকর হচ্ছে, তাও মাপতে সাহায্য করে। পরে সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে নিজের খেলার মান আরও উন্নত করছেন সিন্ধু।

তবে এই ডিভাইসটি এখনও বাজারে আসেনি। সিন্ধু যা হাতে পেয়েছেন তাঁর ইঞ্জিনিয়ার স্বামী ভেঙ্কট দত্ত সাইয়ের মাধ্যমে। সিন্ধুর কথায়, "ভেঙ্কট ব্যাডমিন্টনের টেকনিক্যাল দিক খুব একটা বোঝে না, কিন্তু প্রযুক্তি ভালোই বোঝে। আমার উন্নতির জন্যই ও এই ডিভাইসটি এনে দিয়েছে।" দীপিন্দর গয়াল আগেই জানিয়েছিলেন, আমরা যখন সোজা হয়ে বসে থাকি বা দাঁড়িয়ে থাকি, তখন মহাকর্ষ বলের বিরুদ্ধে রক্তকে হৃদযন্ত্র থেকে মস্তিষ্কের দিকে ঠেলতে হয়। তাঁর ধারণা, দীর্ঘ সময় এভাবে থাকলে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ কমে বার্ধক্য দ্রুততর হয়। অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার অবশ্য এই তত্ত্বে পুরোপুরি সায় দিচ্ছেন না। তাঁর মতে, মানব শরীর অত্যন্ত জটিল ও সুরক্ষিত। ‘সেরিব্রাল অটোরেগুলেশন’ এবং ‘ব্যারোরিফ্লেক্স’-এর মাধ্যমে শরীর নিজেই রক্তের চাপ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণ কাজকর্মে মস্তিষ্কে রক্ত কম পৌঁছানোর কোনও প্রশ্নই নেই।

আমরা যখন সোজা হয়ে বসে থাকি বা দাঁড়িয়ে থাকি, তখন মহাকর্ষ বলের বিরুদ্ধে রক্তকে হৃদযন্ত্র থেকে মস্তিষ্কের দিকে ঠেলতে হয়।

অন্যদিকে সিন্ধুর স্বামী বলেন, “এটি এমন একটি ডিভাইস যা ওর (সিন্ধুর) পারফরম্যান্সের বিভিন্ন মেট্রিক্স ট্র্যাক করে। আমরা এখন এটি পরীক্ষা করছি এবং ফলাফল পর্যালোচনা করছি। প্রাথমিক ফল অত্যন্ত উৎসাহজনক।" জানা গিয়েছে, প্রায় এক ইঞ্চির এই ডিভাইসটিতে ব্লুটুথ কাজ করে না। একবার চার্জে ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। মনে করা হচ্ছে, পরীক্ষায় সফল হলে ভবিষ্যতে ক্রীড়াজগতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এই প্রযুক্তি। ম্যাচ জয়ের পর সোশাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে সিন্ধু লেখেন, “দু’ঘণ্টার মধ্যে দু’টি ম্যাচ খেলেছি। দু’টোই জিততে হত। শরীর আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, আমি আর ১৯ বছরের নই। তবু দেশের জন্য জিততে পেরে ভীষণ খুশি।” এখন প্রশ্ন, এই ‘টেম্পল’ ডিভাইস আদৌ পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলবে? তার উত্তর সময়ই দেবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement