পেশায় চিকিৎসক হলেও এবার রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের পাশাপাশি ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি ক্রীড়া দফতরে অতীতে হওয়া দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়া বিভাগেও আগের সরকারের আমলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সামনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে রাজ্যের ক্রীড়ার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাই জানিয়েছেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী।
রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ দায়িত্ব নেওয়ার পরই একাধিক বিতর্কিত বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। জাতীয় গেমসের দুর্নীতি থেকে শুরু করে বহুল আলোচিত ‘মেসিকাণ্ড’ নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর কথায়, "মেসির মতো একজন বিশ্ববন্দিত ও কিংবদন্তি ফুটবলারকে এনে অপমান করা হয়েছে। শুধু মেসিকেই নয়, বাংলার মানুষ এবং গোটা ভারতবর্ষকেও অপমান করেছিল আগের সরকার।" পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে ক্রীড়াক্ষেত্রে নানা ধরনের সিন্ডিকেটও গড়ে উঠেছিল।
রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ দায়িত্ব নেওয়ার পরই একাধিক বিতর্কিত বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। জাতীয় গেমসের দুর্নীতি থেকে শুরু করে বহুল আলোচিত ‘মেসিকাণ্ড’ নিয়ে সরব হয়েছেন।
ডায়মন্ড হারবার এফসিকে ঘিরেও একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা তুলে ধরেছেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, "ডায়মন্ড হারবার এফসির মাধ্যমে টাকা তোলা ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। সবে দায়িত্ব পেয়েছি, এর মধ্যেই ক্লাবটিকে নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইমেলেও বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।" তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সল্টলেক স্টেডিয়ামের সামনে থাকা বিতর্কিত ‘কিম্ভূতকিমাকার’ মূর্তি নিয়েও মুখ খুলেছেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তবে এই বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না বলেই জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর কথায়, "এই বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আমরা সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। সরকার কৃতী ফুটবলারদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবে।" স্টেডিয়াম চত্বরে একটি প্রতীকী মূর্তি বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে আগের ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেই বিষয়ে ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, "এটা পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। সময়মতো সব জানানো হবে।"
সল্টলেক স্টেডিয়ামের সামনে থাকা বিতর্কিত ‘কিম্ভূতকিমাকার’ মূর্তি নিয়েও মুখ খুলেছেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তবে এই বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসাবে দুর্বল অর্থনীতি ও বিনিয়োগের অভাবকেই দায়ী করেছেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ক্রীড়া পরিকাঠামো কার্যত বিকলাঙ্গ হয়ে গিয়েছিল। মন্ত্রীর কথায়, "পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির খারাপ হাল করে দিয়েছে আগের সরকার। সিএসআর কোনও অ্যাক্টিভিটি স্পোর্টসে হচ্ছে না। বিনিয়োগকারীরা মনে করতেন, এখানে সিন্ডিকেট চলে এবং খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হবে না। সেই কারণেই অনেকেই বিনিয়োগ করতে ভয় পেয়েছেন, আগ্রহ দেখাননি।" তবে তাঁর আশা, শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন পরিবেশ তৈরি হলে সেই অচলাবস্থা কাটবে। "পশ্চিমবঙ্গে যখন শিল্প আসবে, হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। তখন ক্রীড়াক্ষেত্রও সিএসআর কার্যক্রমের ইতিবাচক সুফল পাবে এবং তার প্রভাব মাঠেও দেখা যাবে," বলেন তিনি।
রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। নিজস্ব চিত্র।
ক্রীড়াক্ষেত্রে কর্পোরেট অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রসঙ্গে চার দশক আগের জাপানের উদাহরণ টেনে প্রশ্ন করা হলে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, সরকারের লক্ষ্য কোনও সংস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করা নয়। তবে তাঁর মতে, কর্পোরেট সংস্থাগুলির সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসাবেই খেলাধুলার উন্নয়নে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি বলেন, "কাউকে চাপ দেওয়া আমাদের লক্ষ্য নয়। কিন্তু দেশের আইন অনুযায়ী প্রতিটি কর্পোরেট সংস্থারই সিএসআর কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি, খেলাধুলা ও বিনোদনের জগৎ একসঙ্গে মিশে গিয়েছিল বলেই ক্রীড়াক্ষেত্র সেই সুবিধা পায়নি।"
ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, সরকারের লক্ষ্য কোনও সংস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করা নয়। তবে তাঁর মতে, কর্পোরেট সংস্থাগুলির সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসাবেই খেলাধুলার উন্নয়নে এগিয়ে আসা উচিত।
একইসঙ্গে তিনি বহুল আলোচিত ‘মেসিকাণ্ড’র প্রসঙ্গ তুলে বলেন, "সেখানে ১০ টাকার জলের বোতল ২০০ টাকায় এবং হাজার টাকার টিকিট ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। গোটা বিষয়টাই ছিল অরাজকতার উদাহরণ। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা কীভাবে আগ্রহ দেখাবেন?" তবে বর্তমান পরিস্থিতি বদলাবে বলেই আশাবাদী মন্ত্রী। তাঁর কথায়, "এখন পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন শিল্প আসছে, বিনিয়োগও বাড়বে। শিল্পের সঙ্গে সঙ্গে সিএসআর কার্যক্রমও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে, সেই সুবিধা যাতে সরাসরি ক্রীড়া পরিকাঠামো ও খেলাধুলার উন্নয়নে কাজে লাগে।"
