shono
Advertisement

বিজ্ঞাপনী জারিজুরিতে ভুলবেন না, অনিয়ন্ত্রিত প্রকল্পে লগ্নি নয়, জেনে নিন বিশেষজ্ঞের মতামত

নিয়ম-নীতি মেনে বিনিয়োগের পরামর্শ বিশেষজ্ঞের।
Posted: 02:11 PM Mar 25, 2023Updated: 02:11 PM Mar 25, 2023

চকচক করলেই সোনা হয় না। এই প্রবাদ আশৈশব আমরা জেনে এসেছি। বিনিয়োগক্ষেত্রেও এই প্রবাদ খাটে। অর্থাৎ চমকে ভুলে, বিশদে না জেনে অনিয়ন্ত্রিত প্রকল্পে লগ্নি করলেই নিশ্চিত ভরাডুবি! তাই সংযম ও
ধৈর্য‌ অত‌্যন্ত জরুরি। নিয়ম-নীতি মেনে এগোন যে কোনও বিনিয়োগ প্রকল্পে। জানালেন লগ্নি পরামর্শদাতা গৌতম কর্মকার। 

Advertisement

কী ভাবছেন? অনিয়ন্ত্রিত প্রকল্পে লগ্নি করলে আপনার টাকা মার যাবে না? তাই চটজলদি বিনিয়োগ (Investment) করার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না, নিয়ন্ত্রক যাই বলুক না কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে দিচ্ছি। ভুলেও এমন করবেন না। অনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ প্রকল্পে লগ্নি করে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, মনে রাখবেন। সুতরাং প্লানটেশন সংস্থার স্কিমে হোক বা তথাকথিত স্ব-নির্ভর যোজনায়, সন্দেহজনক প্রকল্প দেখলেই এড়িয়ে যান। মূলধন যে ফেরত পাবেনই, তার প্রতিশ্রুতি এখানে কেউ দেবে না। দিলেও কথার খেলাপ করা খুব সোজা। আর আপনার বিপদের মুখে পড়াও অসম্ভব নয়। নিজের ব‌্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলছি, এমনও দেখেছি সাধারণ মানুষ বেশি লাভ করতে প্রলোভিত হয়েছেন, টাকা দ্বিগুণ বা তিনগুণ হবে শুনে ইনভেস্ট করেছেন। লাভ তো হয়ইনি, অনিয়ন্ত্রিত স্কিম মুখ থুবড়ে পড়েছে, কিছু দিনের মধ্যেই।

আমাদের মতো দেশে যেখানে অর্থ বিনিয়োগ পরিকল্পনা (Financial Planning) এখনও শৈশবে, সেখানে দরকার নিয়ম-নিষ্ঠা মেনে চলা বিনিয়োগ প্রকল্প। যেখানে চটজলদি টাকা বাড়ার অলীক আশ্বাস কেউ দেবে না। লোভের বশে রিটেল ইনভেস্টর রিস্কের মান‌্যতা না দিয়ে বিনিয়োগ করতে ছুটবেন না। আমার বক্তব‌্য খুব সরল। সরকারি হোক বা বেসরকারি, আপনার নির্বাচিত ইনভেস্টমেন্ট প্রকল্প যেন নিয়ন্ত্রণের ‘রাডার’ থেকে দূরে না থাকে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা (ক‌্যাপিটাল মার্কেটে যেখানেই তার অবস্থান হোক না কেন) যেন নিয়মমাফিক হয়। ব‌্যতিক্রম দেখলে সাবধান, অযথা বিজ্ঞাপনের চমক দেখে লালায়িত হওয়ার কুফল থেকে শত হস্ত দূরে থাকাই ভাল।

[আরও পড়ুন: ‘ভয় দেখানো যাবে না, আদানি-মোদির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলবই’, সাংসদ পদ খারিজের পরও অনড় রাহুল]

এতক্ষণ আপনাদের যা বললাম, তা হল পটভূমিকা। আমি জানি, ‘সঞ্চয়’-এর পাতায় আমার পূর্বসূরিরা নানা শিক্ষণীয় বিষয় আলোচনা করেছেন। তাই পুনরাবৃত্তি করব না। শুধু প্রসঙ্গ বদলে বলি, আপনার অর্জিত মূলধনের ভ‌্যালুয়েশন কিন্তু প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইনফ্লেশনের দৌলতে। মুদ্রাস্ফীতিকে প্রতিহত করতে সঠিক বিনিয়োগই একমাত্র পন্থা। দৈনন্দিন জীবনে স্বাধীনভাবে থাকতে হলে প্রথমেই অর্থনৈতিক স্বাধীনতার কথা চলে আসে। আমাদের প্রত্যকের চেষ্টা করা উচিত যাতে পরাধীনতার প্রভাবমুক্ত হতে পারি। আগামিদিনে যদি কোনও ঘটনা (বা দুর্ঘটনা) ঘটে এবং কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন, তাহলে আপনার নিয়মিত রোজগার বন্ধ হতে পারে। কেবলমাত্র সুষ্ঠু সঞ্চয়-ই তখন আপনার সম্বল।

তাই সাধারণভাবে আরও একটু বেশি টাকার বিমা (Insurance) করুন। জীবন এবং স্বাস্থ‌্য, দুইয়ের কথাই বলছি। আরও একটু বেশি অ‌্যালোকেট করুন শেয়ারে, যদি সরাসরি (ডিরেক্ট) করার সুযোগ থাকে। অথবা মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ‌্যমে (Indirect), যেখানে পেশাদার ফান্ড ম‌্যানেজার আপনার সহায়তা করবেন। অ‌্যাসেট অ‌্যালোকেশনই ভবিষ‌্যতে প্রধান নির্ণায়ক হবে, এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। লগ্নি শুরু করলাম আর বিনা পরিকল্পনায় কিছু অ‌্যাসেট কিনে ফেলে পোর্টফোলিও ভরিয়ে তুললাম, এমন বেখাপ্পা পদ্ধতির দিন শেষ। অ‌্যালোকেশন যাতে রিস্ক-প্রোফাইল মেনে হয়, ডাইভারসিফিকেশন যাতে যথেষ্ট হয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হবে, তাই দরকার আর্থিক সুরক্ষা। কর সাশ্রয়, বিমা এবং গ্রোথের সঙ্গে খেয়াল রাখুন যাতে যথেষ্ট লিকুইডিটিও থাকে। তাহলেই ভাল বিনিয়োগকারী হতে পারবেন।

[আরও পড়ুন: চাওয়ালা থেকে বিজেপি বিধায়ক! রাহুলের বিরুদ্ধে মামলাকারী পূর্ণেশ মোদির পরিচয় কী?]

উল্লেখ্য, জীবন বিমা (Life Insurance) ও স্বাস্থ‌্য বিমা (Medical Insurance) পলিসি কেনার সময় নির্ভরশীলদের জন্য সাম অ্যাসিওর্ডের পরিমাণ যথাযথ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম অনুযায়ী, বাৎসরিক আয়ের দশ গুণ সাম অ্যাসিওর্ড তথা নিশ্চিত রাশির পরিমাণ হওয়া উচিত। তবে আমি আপনাদের জন্য বলব অন্য কথা। আয়ের নয় বরং আপনার পারিবারিক বাৎসরিক খরচের উপর মূল‌্য বৃদ্ধি (ইনফ্লেশন)মেয়াদ হিসাব করে জীবন বিমা করুন।

সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কোনওটিই সহজ বিষয় নয়। হয় নিজে জেনে বুঝে করুন নয়তো বিনিয়োগ পরামর্শদাতাদের সাহায্য নিয়ে করুন। সজাগ বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা বেশি। ঝুঁকিগত বিনিয়োগ ততটুকুই করুন যতটুকু ক্ষতি সহ‍্য করার ক্ষমতা বা সার্মথ‌্য আছে।

[আরও পড়ুন: সেনা মহড়ার সময় পোখরানে ভুলবশত ছোঁড়া হল তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র! তদন্তের নির্দেশ]

মনে রাখবেন, বতর্মানে বাজারে একদল অসাধু ব্যবসায়ী এবং দালাল চক্র উচ্চ হারে মাসিক সুদ গ‌্যারান্টি দেওয়ার কথা বলে, টাকা সংগ্রহ করার চেষ্টায় আছে। কিছুদিন সুদ দেওয়ার পর তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তার পর আসল টাকা ফেরত অনিশ্চিত। বিশেষ করে জেলা, শহর ও মফস্বলে এদের ব্যবসার রমরমা। সর্তক, সচেতন ও সজাগ থাকুন, সঠিক নির্বাচন করুন সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করার আগে।
প্রত্যেককে নতুন অর্থবর্ষের জন‌্য শুভেচ্ছা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement