সোনা (Gold) কি কেবলই এক ধাতু? তা নয়। এদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে হলুদ ধাতুর প্রগাঢ় যোগাযোগ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে একবছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এরপর থেকেই সোনার দামের বৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে কি সোনা বিক্রি করা লাভজনক হবে? নাকি আপাতত অপেক্ষাই শ্রেয়? উঠছে প্রশ্ন।
সোনার দাম বিশ্ববাজারে ঐতিহাসিকভাবে কিছুটা বেশি থাকলেও জানুয়ারিতে যে বিপুল দাম উঠেছিল, সেই তুলনায় প্রায় ১৬% কমেছে গত কয়েক মাসে। আর তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতত বাজারের দিকে নজর রাখতে। যদি এখনই অর্থের প্রয়োজন না হয়, তবে অপেক্ষা করাই ভালো। সোনার দামের এই অস্থিরতার কারণেই, তাড়াহুড়ো না করে আপাতত বিক্রির ভাবনা মুলতুবি রাখারই পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। বরং অর্থের প্রয়োজন থাকলে সম্পূর্ণ সোনা বিক্রি না করে গোল্ড লোন নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভালো রিটার্ন পাওয়ার আশা রাখা যায়।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার তেলেঙ্গানার এক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জনগণের কাছে আবেদন করব, আগামী এক বছর বিয়ের জন্য সোনা কিনবেন না।” ভারতের মতো দেশে বিবাহের মতো সামাজিক প্রথায় স্বর্ণের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু আচার পালন নয়। নতুন পরিবারে সোনার গয়না সম্পদও বটে। তবে, যুদ্ধের আঁচ থেকে বাঁচতে সোনার মতো মহামূল্যবান ধাতুর পিছনে অহেতুক মোটা টাকা খরচ না করাই এই মুহূর্তে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতির নেপথ্যে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক উদ্বেগ কাজ করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জেরে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ বাড়ছে। ক্রমাগত পতন হচ্ছে ডলারের নিরিখে টাকার দামের। যা সরাসরি দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে অস্বস্তিতে ফেলছে।
