Advertisement
'দুষ্টু' ছবি পাঠিয়ে এপস্টেইনের সঙ্গে রাত্রিবাস! কেচ্ছা মাথায় নিয়েই সিংহাসনে নরওয়ের নতুন রানি
আর্লিং হালান্ডের দেশের রানিকে এপস্টেইন বলেছিলেন, 'বউ খুঁজতে এসেছিলাম, কিন্তু তোমার নেশা ধরে গেল।'
এপস্টেইন ফাইল। গোটা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে এই কেচ্ছার ডায়েরি। ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু থেকে শুরু করে ভারতের মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী- সকলেরই নাম জড়িয়েছে এই কুখ্যাত ফাইলে। সেখানে রয়েছে এক রানির নামও। রূপকথা নয়, বাস্তবেই তিনি বসেছেন সিংহাসনে। কিন্তু কেচ্ছার ডায়েরিতে তাঁর সম্পর্কে যা লেখা রয়েছে, তাতে রাজাসন কলঙ্কিত হতে বাধ্য।
রানির নাম মেত-মারিত। এতদিন পর্যন্ত তাঁর পরিচয় ছিল নরওয়ের রাজকুমারী হিসাবে। কিন্তু দিনকয়েক আগে প্রয়াত হয়েছেন নরওয়ের রাজা। ফলে অভিষেক না হলেও মেত-মারিত এখন আর্লিং হালান্ডের দেশের রানি। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতেই নরওয়েজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর কেচ্ছা। যৌন অপরাধী এপস্টেইনকে অশ্লীল ছবি পাঠাতেন, একসঙ্গে একাধিক রাতও কাটিয়েছেন।
এপস্টেইন ফাইল বলছে, ১০০০-এর বেশিবার নাম এসেছে নরওয়ের রানির। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল দু’জনের। সেই কথোপকথনের পুরোটাই যৌন আবেদনে ভরা। যথেষ্ট আপত্তিকর আলোচনা হয়েছে দু'জনের মধ্যে। ওই ইমেল থেকেই ইঙ্গিত, সম্ভবত নরওয়ের রাজকুমারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ছিল এপস্টেইনের। সেসময়ে সঙ্গী হতেন অন্য মহিলারাও। ফ্লোরিডায় এপস্টেইনের বাড়িতে গিয়ে রাত কাটাতেও দ্বিধা করেননি নরওয়ের রানি।
দু’জনের ইমেলের অশ্লীল কথোপকথনে এপস্টেইন একটা সময়ে বলছেন, “তুমি আমাকে নেশা ধরিয়ে দাও।” কোথাও রানি ‘চার্মিং’, ‘সুইট হার্ট’-বলে উল্লেখ করছেন। অজস্র মহিলার অশ্লীল ছবিও এপস্টেইনকে পাঠাতেন মেত-মারিত। এমনকি এপস্টেইনের থেকে নিজের ছেলের ঘরের ওয়ালপেপার নিয়েও পরামর্শ চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, "আমার ছেলের বয়স ১৫ বছর। ওর ঘরে কি দু'জন নগ্ন মহিলার ছবি রাখা যাবে?"
২০১৪ সালের পর থেকে দু'জনের ঘনিষ্ঠতা কমতে থাকে। তবে এপস্টেইন ফাইলে একের পর এক অশ্লীল তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয় নরওয়ের রানিকে নিয়ে। যদিও এপস্টেইনের এই নতুন ফাইল প্রকাশ্যে আসার পর মেত-মারিত বলেন, "আমার বিচারবুদ্ধি লোপ পেয়েছিল। এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাটা নিয়ে আমি আজও আফসোস করি। গোটা বিষয়টি খুবই অপমানজনক।"
অতি সাধারণ পরিবার থেকে দেশের রানির সিংহাসন পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া মেত-মারিতের জীবন বেশ রঙিন। একাধিক আপত্তিকর ঘটনায় জড়িয়েছে তাঁর নাম। নরওয়ের অতি সাধারণ পরিবারে তাঁর জন্ম। পরে তাঁর বাবা এক স্ট্রিপারকে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিনের চেষ্টায় পড়াশোনা শেষ করেন। ওয়েটার হিসাবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন মেত-মারিত। বেপরোয়া জীবনযাপনের সেই শুরু।
বিয়ে না করলেও ওয়েটার থাকাকালীনই একটি পুত্রের জন্ম দেন মেত-মারিত। সেই ছেলের ওয়ালপেপারেই নগ্ন মহিলাদের ছবি লাগাতে চেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধেই এখন ঝুলছে ধর্ষণের মামলা। তবে ওয়েটার হিসাবে কাজ করতে করতেই পার্টি গার্ল' হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন মেত-মারিত। ৯০ দশকের শেষদিকে আলাপ হয় নরওয়ের তৎকালীন যুবরাজ হাকোনের। ২০০১ সালে নরওয়ের তৎকালীন যুবরাজকে বিয়ে করেন মেত-মারিত। দু'টি সন্তান রয়েছে তাঁদের।
বিয়ের বছর দশেক পর এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় মেত-মারিতের। তার জেরে একাধিক সাম্মানিক পদ থেকে ছাঁটাই করা হয় তাঁকে। বেশ কিছু পদ আগামী দিনেও হারাতে পারেন মেত-মারিত। এমনকী নরওয়েবাসীর ৪৫ শতাংশই মনে করেন, রানি পদের যোগ্য নন তিনি। শেষ পর্যন্ত রানির সম্মান না পেয়ে স্রেফ রাজার স্ত্রী হয়েই থেকে যেতে পারেন মেত-মারিত।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 05:03 PM Sep 14, 2026Updated: 05:03 PM Sep 14, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
