Advertisement
'ছুটি ছুটি' থেকে প্যাকেট পেপসি, মোবাইল ছাড়াও কতটা স্মার্ট ছিল নয়ের দশকের গ্রীষ্মকাল?
তপ্ত দুপুর। গাছেদের আদর। চিলেকোঠায় পায়রার বকম বকম। আইসক্রিম কলের ঠান্ডা বরফ। আর হাফটিকিটে গোটা যাত্রাপালা। সঙ্গে আদার চাটনি দিয়ে বাদামভাজা। রূপকথার ঝুলি ওই খুলল বুঝি? গরমে ঘামাচির চুলকানি ছাপিয়েও শৈশবের 'নব্বই' আজও অমলিন। কেমন ছিল সেদিনের গ্রীষ্মকাল?
তপ্ত দুপুর। গাছেদের আদর। চিলেকোঠায় পায়রার বকম বকম। আইসক্রিম কলের ঠান্ডা বরফ। আর হাফটিকিটে গোটা যাত্রাপালা। সঙ্গে আদার চাটনি দিয়ে বাদামভাজা। রূপকথার ঝুলি ওই খুলল বুঝি? গরমে ঘামাচির চুলকানি ছাপিয়েও শৈশবের 'নব্বই' আজও অমলিন। কেমন ছিল সেদিনের গ্রীষ্মকাল?
৯০-এ এসি ছিল না। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ির বড়রা ছাদে জল ছিটিয়ে দিতেন। পেতে দেওয়া হত সার সার মাদুর। কিংবা নারকোল দড়ির খাটিয়া। খোলা চাঁদের আলোয় মা-ঠাকুমার রূপকথার গল্প। ঘুমের দেশে সে এক অন্য জগৎ। প্রকৃতির কোলই ছিল তখন আসল বেডরুম।
ফ্রিজ তখন বিলাসিতা। ঠান্ডা জলের তৃষ্ণা মেটাতে ভরসা মাটির কলসি বা কুঁজো। সেই মাটির পাত্রের সোঁদা গন্ধ আর স্নিগ্ধ শীতলতা আজও অম্লান। কোনও রাসায়নিক ছাড়াই জল থাকত একদম ফ্রেশ। এই আদি অকৃত্রিম পদ্ধতিতে জল খাওয়ার তৃপ্তি বোতলবন্দি পানীয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি আকর্ষণীয় ছিল। একই সঙ্গে লাল-সবুজ রঙের প্যাকেট পেপসি হোক বা মটকা কুলফি, তার লোভ সামলানো মুশকিল!
কোল্ড ড্রিঙ্কসের চেয়ে বাড়িতে তৈরি শরবতেই ছিল গ্রীষ্মের আসল আমেজ। লেবু জল, আমপোড়া শরবত বা বেলের পান্না ছিল গ্রীষ্মের অন্য আকর্ষণ। মা-কাকিমাদের হাতে তৈরি এই পানীয় শরীরে জোগাত অফুরন্ত শক্তি। কোনও প্রিজারভেটিভ ছাড়াই এই পানীয়গুলো যেমন ছিল সুস্বাদু, তেমনই শরীরবান্ধব। স্বাস্থ্যকরও বটে!
দুপুর মানেই ছিল বইয়ের পাতায় ডুব দেওয়া। বাঁটুল, হাঁদাভোঁদা, ফেলুদা কিংবা শুকতারা নিয়ে জানলার ধারে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেত। স্ক্রিন টাইমের বালাই ছিল না। সেই নিঃশব্দ দুপুরে বইয়ের গন্ধ আর আনমনা বিকেল এক অদ্ভুত শান্তি দিত। কল্পনার জগতে হারিয়ে যেত নব্বইয়ের সেই শৈশব।
গ্রীষ্মের ছুটি মানেই ব্যাগ গুছিয়ে মামার বাড়ি। ট্রেনের জানলার সিট নিয়ে দাদা-বোনের কাড়াকাড়ি ছিল মাস্ট। স্টেশনে স্টেশনে ঘটিগরম আর শনপাপড়ি ছিল উপরি পাওনা। যৌথ পরিবারের সেই হইহুল্লোড় গ্রীষ্মের দুপুরগুলোকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
এখনকার মতো হাইব্রিড নয়। সিজনাল ফলের স্বাদ তখন মুখে লেগে থাকত। দুপুরবেলা নুন-লঙ্কা দিয়ে জাম মাখা। কিংবা দিদির হাতের কাঁচা আমমাখার আনন্দই আলাদা। কাঁঠালের গন্ধে ম ম করত চারপাশ।
লুকোচুরি, কিতকিত কিংবা স্রেফ আড্ডা। ঘামে জবজবে শরীরেও উত্তেজনার শেষ ছিল না। তখন শরীর চর্চার জন্য আলাদা জিম লাগত না। পড়শিদের সঙ্গে সামাজিক মেলামেশাই ছোটদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করত অনেক বেশি। তখনকার গোটা পাড়াই ছিল একেকটা বড় পরিবার।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 09:15 PM May 05, 2026Updated: 09:36 PM May 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
