Advertisement
৬২৪ কোটির সম্পত্তির মালিক! রুপোলি পর্দা থেকে শাসকের কুরসিতে, 'জন নায়াগন' বিজয়ের উত্থান যেন রূপকথা
কমল হাসান কিংবা রজনীকান্তের মতো মেগাস্টাররা যা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন তিনি।
‘বিজয় ধান ভারুভারু…’, বাংলায় যার তর্জমা করলে দাঁড়ায়- ‘বিজয়ের জয় অবশ্যম্ভাবী।’ সোমবার গণনা শুরু হতেই পরিষ্কার হতে থাকে দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়ই শাসকদল ডিএমকে’র মুখে ঝামা ঘষে দিতে চলেছেন। পর্দায় তিনি অসম্ভব জনপ্রিয়। একের পর এক সুপারহিট ছবির নায়ক। কিন্তু ভোটের ময়দানে এই প্রথমবার। আর নেমেই তৈরি করলেন ইতিহাস।
তাঁর ভালো নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ছোটবেলাতেই পর্দায় পা রাখা। তারুণ্যে নায়ক হয়ে ওঠা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তামিল ছবির এক জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠা। কেবল জনপ্রিয়তাই নয়, থলপতির ইমেজটাও যেন গোড়া থেকেই ছিল জননেতার! একের পর এক ছবিতে সাধারণ মানুষের জন্য লড়াই করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সেই সময় অবশ্য কেউ কল্পনাও করতে পারেননি একদিন বিজয় সত্যিই রাজনীতির ময়দানে পা রাখবেন!
চলচ্চিত্র জগৎকে আগেই বিদায় জানিয়েছিলেন। আগামী ৮ মে মুক্তি পাবে 'জন নায়াগন'। আশ্চর্য সমাপতন, তিনি সিনে দুনিয়া ছেড়ে রাজনৈতিক ময়দানে পা রেখে হয়ে উঠলেন আক্ষরিক অর্থেই জননায়ক। শিবাজি গণেশন, কমল হাসান কিংবা রজনীকান্তের মতো মেগাস্টাররা যা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময়ে নিজস্ব দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’-এর সঙ্গে সকলের পরিচয় করিয়ে দেন বিজয়।
ভোটের মাঠে নবাগত বিজয় আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিজেপির দয়া-দাক্ষিণ্যে তিনি নির্বাচনে লড়বেন না। বরং একাই সাজিয়েছিলেন ভোট মহারণের স্ট্র্যাটেজি। যার জেরে তিন দশক ধরে রাজত্ব করা তামিল সিনেইন্ডাস্ট্রি থেকেও দূরত্ব বাড়ান নেতা-অভিনেতা। প্রতিশ্রুতিমাফিক বিগত দু’বছর ধরে রাজনীতির ময়দানে বেশ সক্রিয়ই ছিলেন দক্ষিণী তারকা। এবার তামিলনাড়ুর মসনদে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসতে চলেছেন তিনিই।
বুথফেরত সমীক্ষা বলেছিল, সরকার গড়তে না পারলেও তামিলভূমের ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম অন্তত বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসবে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই দেখা যায় একেবারে শীর্ষে রয়ে গিয়েছেন তিনি। অথচ দাক্ষিণাত্যভূমের সুপারস্টারকে দমানোর কম চেষ্টা হয়নি! নির্বাচনের প্রাক্কালে সেন্সরের গেরোয় সিনেমা নিষিদ্ধ হওয়া, ‘বিয়ে-পরকীয়া’ কেচ্ছার পালে হাওয়া তোলা... বাকি ছিল না কিছুই।
সমস্ত চ্যালেঞ্জ সামলে বিজয় প্রমাণ করেছেন নিজের ক্যারিশ্মা। রুপোলি পর্দা তাঁকে অনেক দিয়েছে। তিনি গত মার্চে যখন মনোনয়ন দাখিল করেন, তখন জানা গিয়েছিল, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৬২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪০৪ কোটি টাকা। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২২০ কোটি টাকা।
বিজয়ের মনোনয়নপত্রে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে রাখা ২১৩ কোটি টাকা! জানা যায়, ২০২৪-২৫ সালে তিনি রোজগার করেছেন ১৮৪.৫৩ কোটি টাকা। তাঁর সম্পদের প্রায় পুরোটাই নগদ আমানত, স্থির আয় এবং সম্পত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। এই উপার্জন, খ্যাতি একপাশে সরিয়ে রেখে বিজয় এরপর নজর রাখেন রাজনীতির ময়দানে। আর সেখানেও পেলেন চূড়ান্ত সাফল্য।
তারকা খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ কিন্তু নতুন কথা নয়। যদিও বিজয়ের জয়ের সাফল্য কেবল নির্দিষ্ট এক সমীকরণে মাপলে হবে না। জনপ্রিয়তা তাঁর নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু কেবল সেটাকে কাজে লাগিয়েই তিনি বিজয়ী হননি। সাংগঠনিক ক্ষমতা কিংবা কূটনৈতিক সমীকরণ, সবেতেই তিনি অনবদ্য। যা জনসংযোগের এমন একটা সেতু তৈরি করেছে, যেটা কেবল জয়ের তোরণের সামনেই উন্মুক্ত হয়।
তবে চ্যালেঞ্জ কিন্তু এখনও রয়ে গিয়েছে। মনে রাখতে হবে, জয়ী হওয়া মানে আসলে একটা সূচনা। এবার বিজয়কে প্রমাণ করতে হবে, মানুষ তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তা তিনি পূরণ করতে সক্ষম। আপাতভাবে দেখলে মনে হয় কাজটা কঠিন। কেননা বিজয়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শূন্য। কিন্তু যেভাবে তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন, তাতে একথা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, বিজয় ঠিকই নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:06 PM May 04, 2026Updated: 08:06 PM May 04, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
