Advertisement
চোখ ঝাপসা হওয়ার আগেই সতর্ক হোন! ডায়াবেটিসে চোখের ক্ষতি ঠেকাতে বদলান এই ৭ অভ্যাস
ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রাই বাড়ায় না, শরীরের নানা অঙ্গেও ধীরে ধীরে ক্ষতি করতে পারে। যার মধ্যে সবচেয়ে জটিল সমস্যাগুলোর একটি হল ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা (ডিএমই)। এতে চোখের রেটিনায় তরল জমে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। সময়মতো সচেতন না হলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের আশঙ্কাও থাকে। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা সাধারণত দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ফল। রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিকে দুর্বল করে দেয়। ফলে সেগুলো থেকে তরল বেরিয়ে রেটিনায় জমতে শুরু করে। শুরুতে অনেকেই কোনও লক্ষণ বুঝতে পারেন না। তাই নিয়মিত যত্ন ও জীবনযাপনে পরিবর্তন খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। বারবার সুগার ওঠানামা করলে রেটিনার রক্তনালিতে ক্ষতি দ্রুত বাড়তে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া, সময়মতো ইনসুলিন নেওয়া এবং নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা প্রয়োজন। HbA1c নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখাও জরুরি। ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ চোখের ক্ষতি কমাতে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা ঠেকাতে সাহায্য করে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনও ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেশি করে শাকসবজি, ফল, দানা শস্য এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী। মেডিটেরেনিয়ান বা উদ্ভিজ্জ ডায়েট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত মিষ্টি, প্রসেসড খাবার ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট এড়ানো উচিত। সঠিক খাবার শুধু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেই নয়, চোখকেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার চোখের জন্য বিশেষ উপকারী। বেরি, পালং শাক, গাজর, টম্যাটো কিংবা বাদামের মতো খাবারে এমন উপাদান থাকে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এই স্ট্রেসই রেটিনার ক্ষতির অন্যতম কারণ। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলে চোখের কোষ ভালো থাকে এবং প্রদাহের ঝুঁকি কমে। দীর্ঘসময় এটি দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবারও চোখের জন্য উপকারী। মাছের মধ্যে স্যামন, সার্ডিন, এছাড়া আখরোট বা তিসিতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এতে রক্তনালির কার্যক্ষমতা ভালো থাকে এবং চোখে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রেও ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
ধূমপান ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি শরীরের রক্তনালিকে সংকুচিত করে এবং চোখে অক্সিজেন কম পৌঁছয়। ফলে রেটিনার ক্ষতি দ্রুত বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রদাহও বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমার ঝুঁকি আরও বাড়ায়। ধূমপান ছাড়লে রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং ভবিষ্যতে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
নিয়মিত শরীরচর্চা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটার মতো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজনও কমে। পাশাপাশি ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন উন্নত করে, যা চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন আধঘণ্টা করে ব্যায়াম জরুরি। দীর্ঘসময় বসে থাকা শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত মুভমেন্ট জরুরি। শরীরচর্চা শুধু শরীর ফিট রাখে না, মানসিক চাপও কমায়। আর কম স্ট্রেস মানেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাও তুলনামূলক সহজ হয়ে ওঠে।
রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখাও চোখের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ রেটিনার রক্তনালির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। আবার খারাপ কোলেস্টেরল জমে রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করতে পারে। এতে চোখে তরল জমার প্রবণতা বাড়ে। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজন হলে ওষুধের মাধ্যমে এই দুই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল, শুরুতে অনেক সময় কোনও উপসর্গ থাকে না। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে রেটিনার পরীক্ষা করালে সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়তে পারে। যত দ্রুত রোগ ধরা পড়বে, চিকিৎসার ফল তত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অবহেলা করলে ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।
চোখ সুস্থ রাখা মানে শুধু দৃষ্টি রক্ষা নয়, জীবনযাত্রার মানও ভালো রাখা। ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিনের অভ্যাস আরও সচেতনভাবে গড়ে তুলতে হয়। সঠিক খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান থেকে দূরে থাকা এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এই কয়েকটি নিয়মই ভবিষ্যতের বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে। কারণ চোখের যত্নে প্রতিরোধই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 07:51 PM May 08, 2026Updated: 07:51 PM May 08, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
