Advertisement
সাংবিধানিক বৈধতা নেই, তবু মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ উপমুখ্যমন্ত্রী, কী কাজ মুখ্যমন্ত্রীর ডেপুটির?
এর আগে তিনবার উপমুখ্যমন্ত্রী পেয়েছে বাংলা, কবে কারা ছিলেন ডেপুটি পদে?
দীর্ঘ ২৬ বছর পর সম্ভবত উপমুখ্যমন্ত্রী পেতে চলেছে বঙ্গ। সূত্রের খবর, এক নয়, বরং দু'জন উপমুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পারে বিজেপি। একজন দক্ষিণবঙ্গের। একজন উত্তরবঙ্গের। কারা হবেন উপমুখ্যমন্ত্রী, সে নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছে।
যদি সত্যিই বিজেপি উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কারও নাম ঘোষণা করে, তাহলে বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে সেটা বেনজির হবে। প্রথমত শেষবার বাংলা উপমুখ্যমন্ত্রী পেয়েছিল সেই ২০০০ সালে। তারপর গত ২৬ বছরে একাধিক একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী বদল হয়েছে। কিন্তু উপমুখ্যমন্ত্রী পদে কাউকে বসানো হয়নি।
সব মিলিয়ে এর আগে বাংলা উপমুখ্যমন্ত্রী পেয়েছে ৩ বার। প্রথমবার ১৯৬৭ সালে প্রথম যুক্তফ্রন্টের সরকারে। তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বাংলা কংগ্রেসের অজয় মুখোপাধ্যায়। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক আদর্শ তিনিই। সেই অজয় মুখোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় দু'বার উপমুখ্যমন্ত্রী হন জ্যোতি বসু। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০, বাংলার রাজনীতির অস্থির এবং টালমাটাল পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর ডেপুটি হিসাবে কাজ করেছেন জ্যোতিবাবু।
মজার কথা হল ১৯৭১ সালে যুক্ত ফ্রন্ট সরকার ভেঙে গেলেও কংগ্রেসের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী থেকে যান অজয় মুখোপাধ্যায়। সেবারও তাঁর ক্যাবিনেটে একজন ডেপুটি ছিলেন। সেসময় উপমুখ্যমন্ত্রী হন বিজয় সিং নাহার। যদিও সেটা মাস তিনেকের জন্য। সেই সরকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এরপর সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সময় কোনও উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না।
জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন প্রথম দিকে কোনও উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। তিনি দীর্ঘদিন জোট সরকার চালানো সত্ত্বেও কোনও শরিকদলের নেতাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করেননি। পরে ১৯৯৯ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে কিছুদিনের জন্য উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে বুদ্ধবাবু রাজ্যের তৃতীয় উপমুখ্যমন্ত্রী। তারপর দীর্ঘদিন কোনও উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না।
আসলে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রীর পদের সাংবিধানিক কোনও বৈধতা নেই। উপমুখ্যমন্ত্রী হলে অতিরিক্ত কোনও সুবিধা মেলে না। তবে সচরাচর উপমুখ্যমন্ত্রীদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ কোনও দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেটাই আর সরকারি পদ। সেই পদেরই সুবিধা তিনি পান।
উপমুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার জন্য বাড়তি কোনও ক্ষমতা সচরাচর রাজনীতিকরা পান না। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হলে তাতে সভাপতিত্ব করার ভার পান উপমুখ্যমন্ত্রী। সেটা মূলত সিনিয়রিটির ভিত্তিতে। মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীদের সমন্বয়ক হিসাবে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবিধানিক দিক থেকে বিরাট গুরুত্বপূর্ণ না হলেও উপমুখ্যমন্ত্রী পদ রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জোট রাজনীতিতে ভারসাম্য রাখার ক্ষেত্রে, বা জাতিগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। অনেক সময় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতার বিন্যাস বজায় রাখার জন্যও উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।
Published By: Subhajit MandalPosted: 09:15 PM May 08, 2026Updated: 09:30 PM May 08, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
