দিল্লি ক্যাপিটালস: ১৪২/৮ (নিশঙ্কা ৫০, আশুতোষ ৩৯, কার্তিক ২৫/২, অনুকূল ৩১/২)
কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১৪৭/২ (অ্যালেন ১০০*, গ্রিন ৩৩*, অক্ষর ২৭/১)
৮ উইকেটে জয়ী কেকেআর।
আইপিএলের শুরুতে যে দলকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই দলেই যেন পালাবদলের হওয়া। ইডেনে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচ। রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে প্রত্যাবর্তন হয়েছিল কেকেআরেরও। সেদিনকার জয়ের চাকা আজ তা আরও বেগবান। এবার দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৮ উইকেটে হারিয়ে টানা চার জয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের, আঁটসাঁট বোলিং এবং ফিন অ্যালেনের ঝোড়ো সেঞ্চুরির দাপটে। তাও আবার গ্যালারিতে গৌতম গম্ভীরের উপস্থিতিতে। নাইটদের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা মেন্টরের সামনেই যেন আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠল গোটা দল। ৩৪ বল বাকি থাকতে এই জয়ের ফলে প্লেঅফের দৌড়ে নিজেদের লড়াই আরও জমিয়ে দিল কেকেআর।
শুক্রবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ গৌতম গম্ভীর বসেছিলেন ভারতীয় নির্বাচক আর পি সিংয়ের পাশে। দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করতে দেখা যায় তাঁদের। পাশাপাশি বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লার সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। দু'বছর আগে কেকেআর মেন্টর হিসাবে দুর্দান্ত সাফল্য এনে দেওয়ার পর এই প্রথম কোনও আইপিএল ম্যাচে দেখা গেল গম্ভীরকে। তাঁর মেন্টরশিপেই কেকেআর তৃতীয়বার আইপিএল ট্রফি ঘরে তোলে। এরপরই ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেন।
গ্যালারিতে দেখা গেল ভারতীয় দলের টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচকে। সঙ্গে আরপি সিং। ছবি সংগৃহীত।
দিল্লির সঙ্গেও গম্ভীরের সম্পর্ক বরাবরই স্পেশাল। আইপিএলে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল তৎকালীন দিল্লি ডেয়ারডেভিলসে। পরে কেকেআরের জার্সিতে তিনি হয়ে ওঠেন ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম সফল অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বেই কলকাতা দু'বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়। শুধু অধিনায়ক হিসাবেই নয়, মেন্টর হিসেবেও কেকেআরকে শিরোপা এনে দিয়ে নিজের গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ করেন তিনি। তাঁর সামনেই দাপুটে জয় পেল কেকেআর। আইপিএলের এই পর্যায়ে এসে কলকাতার কাছে প্রতিটি ম্যাচই কার্যত ‘বাঁচা-মরা’র। একটি ম্যাচে হোঁচট খেলেই শেষ হয়ে যেতে পারে শেষ চারের স্বপ্ন। সেই কঠিন সমীকরণ মাথায় রেখেই দিল্লিবধ অজিঙ্ক রাহানের দলের।
টস জিতে ফিল্ডিং করতে নেমে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিল্লিকে মাত্র ১৪২ রানে আটকে দেয় কলকাতা। অনুকূল রায় ও কার্তিক ত্যাগীর জোড়া উইকেট। ক্যামেরন গ্রিন, সুনীল নারিন, বৈভব আরোরাদের শিকার একটি করে উইকেট। বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে দিলেন মাত্র ২৮ রান। তবে উইকেটশূন্য থাকলেন নাইটদের ‘রহস্য স্পিনার’। দিল্লির হয়ে সর্বোচ্চ রান পাথুম নিশঙ্কার (৫০)। শেষের দিকে ২৮ বলে ৩৯ রানের কার্যকারী ইনিংস আশুতোষ শর্মার। তবে যে মাঠে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫২৯ রান উঠেছিল, সেই মাঠে এত কম রানের পুঁজি নিয়ে জেতা কার্যত অসম্ভব। অক্ষর কিছুটা চেষ্টা করলেন কুলদীপ যাদব এদিনও ছন্দে ফিরলেন না। দিলেন ৩ ওভারে ৪১ রান। ফলস্বরূপ রাহানে (১৩) এবং রঘুবংশীর (১) উইকেট দ্রুত তুলে নিলেও ম্যাচে ফিরতে পারল না দিল্লি। ছয় মেরে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করে ম্যাচ জেতালেন অ্যালেন। ৩৩ রানে অপরাজিত থাকলেন গ্রিন। মাত্র ১৪.২ ওভারে জয়ের রান তুলে নিল কলকাতা।
রাজস্থান ম্যাচে ‘ফিনিশার’ রিঙ্কু কেকেআরের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর কাজটা করেছিলেন। তারপর থেকে যেন বদলে গিয়েছে নাইটদের শরীরী ভাষা। একের পর এক ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স কলকাতার। দিল্লির বিরুদ্ধেও সেই একই ছন্দ বজায় থাকল। প্লেঅফের রাস্তা এখনও কঠিন। তবে টানা চার জয়ের পর আট থেকে সাতে উঠে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে কেকেআর শিবির।
