Advertisement
৩ দিনে ৭০ হাজার সদস্য! ব্যঙ্গের আড়ালে বড় রাজনৈতিক বার্তা 'ককরোচ জনতা পার্টি'র, নয়া দলের আদর্শ কী?
যুবসমাজের এই উদ্যোগ অতি ক্ষুদ্র হলেও তুচ্ছ নয়। বর্তমান সরকারের জন্য এটা মোটেই স্বস্তির বার্তা নয়।
ককরোচ জনতা পার্টি। নয়া এই ‘রাজনৈতিক দলে’ই এখন মজে ‘জেন জি’ থেকে গোটা সমাজমাধ্যম। তবে আপাতভাবে এটি একটি রাজনৈতিক দল মনে হলেও ব্যাপার ঠিক তা নয়। বলা যেতে পারে, এটি একটি প্রতীকী বা ব্যঙ্গাত্মক ‘রাজনৈতিক দল’।
কীভাবে গঠিত হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’? আসলে গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতের শুনানির সময় তিনি বলেন, “বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ আরশোলার মতো আচরণ করেন।” তাঁর কথায়, “ওই তরুণ-তরুণীরা কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন এবং সকলকে আক্রমণ করেন।”
দেশের প্রধান বিচারপতির এহেন মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। নিন্দায় সরব হন নেটিজেনদের একাংশ। এরপরই প্রকাশ্যে আসে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। যদিও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পরে জানান, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যখ্যা করা হচ্ছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠতা অভিজিৎ দীপক। সূত্রের খবর, এর আগে তিনি আম আদমি পার্টি (আপ)-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে অভিজিৎ আপের হয়ে সমাজমাধ্যমে প্রচারের কাজ করেছিলেন।
নয়া এই রাজনৈতিক ফ্রন্টটির আদর্শবাণী হল- ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, অলস। ইতিমধ্যেই তাঁরা নিট কেলেঙ্কারি-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদেও সরব হয়েছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বয়স মাত্র ৩ দিন। এর মধ্যেই নাকি ফ্রন্টটির সদস্য সংখ্যা ৭০ হাজারে পৌঁছেছে বলে দাবি। সমাজমাধ্যমেও প্রভুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সূত্রের খবর, এই ফ্রন্টটিতে যোগ দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ।
দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ নিয়ে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা করছেন। মাঝে ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আম আদমি পার্টির সমাজমাধ্যমের শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের যুবসমাজের ভাবনা, তাঁদের প্রতিবাদ তুলে ধরতেই নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ার ভাবনা মাথায় আসে।
এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বলেছেন, "সম্মানীয় প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের বিরুদ্ধে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের প্রতিবাদী স্বর তুলে ধরে আরশোলা জনতা পার্টি। প্রধান বিচারপতি সংবিধান, বাক স্বাধীনতার রক্ষক। তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য কাম্য নয়।" দীপকের সাফ কথা, অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা সিস্টেমের সমালোচনা করলে তাঁদের ভাবে ছোট করা যায় না।
অভিজিতের সাফ কথা, তাঁদের সংগঠন জাতিবিদ্বেষবর্জিত। মহত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব আম্বেদকর, জওহরলাল নেহরুর আদর্শ অনুসরণ করে চলবে। দলে যোগ দেওয়ার জন্য চারটি শর্তও রেখেছেন তিনি। বেকার, অলস, অনলাইনে অনেক সময় ব্যয় করেন এবং যাঁরা ভালো সমালোচনা করতে পারেন, তাঁরা যোগ দিতে পারবেন এই সংগঠনে।
মজার কথা হল, এই দল একটি ইস্তেহারও প্রকাশ করেছে। তাতে আসনসংখ্যা না বাড়িয়ে মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, দলবদলুদের ভোটে লড়তে না দেওয়া, অবসরের পর বিচারপতিদের রাজ্যসভায় জায়গা না দেওয়া, বৈধ ভোটার বাদ পড়লে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেপ্তার করা, ‘গোদি মিডিয়া’র অ্যাঙ্করদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে তদন্তের আওতায় আনার মতো প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
আপাত দৃষ্টিতে এই দল বানানো বা সোশাল মিডিয়ায় আরশোলার নামে অ্যাকাউন্ট তৈরি, পুরোটা নির্ভেজাল মজা বলে মনে হলেও এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। রয়েছে প্রতিবাদের ভাষা। যে প্রতিবাদ হয়তো দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ব রাজনৈতিক দলগুলির করার কথা ছিল, সেটাই করছে যুবসমাজের তৈরি ওই ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক মঞ্চ।
Published By: Subhajit MandalPosted: 09:04 PM May 19, 2026Updated: 09:04 PM May 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
