Advertisement
কোটি কোটি মানুষের অশ্রুজলে বিদায় গান্ধীজি থেকে ওসমান হাদির, কার শেষযাত্রায় কত জনসমারোহ?
হয়তো দেখা হয়নি কোনওদিন। কিন্তু সেই বিখ্যাত ব্যক্তিদের প্রয়াণে শোকে মুহ্যমান হয়েছে কোটি কোটি মানুষ।
হয়তো দেখা হয়নি কোনওদিন। কিন্তু সেই ব্যক্তির প্রয়াণে শোকে মুহ্যমান হয়েছে কোটি কোটি মানুষ। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখার জন্য তাঁরা রাস্তায় ভিড় জমান। বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের শেষযাত্রায় কত ভিড় হল, সেটা নিয়েও তৈরি হয় নজির। রেকর্ডভাঙা ভিড়ের তালিকায় রয়েছেন মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে জুবিন গর্গ সকলেই।
শেষযাত্রায় সবচেয়ে বেশি ভিড়ের বিশ্বরেকর্ড রয়েছে সিএন আন্নাদুরাইয়ের। ডিএমকে প্রতিষ্ঠাতা, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু হয় ১৯৬৯ সালে। মৃত্যুর মাত্র ২০ দিন আগে তামিলনাড়ুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন তিনি। চেন্নাইয়ে তাঁর শেষযাত্রায় অন্তত দেড় কোটি মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণেও অন্তত এক কোটি মানুষের ভিড় হয়েছিল বলে জানা যায়। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট জোড়াসাঁকো থেকে নিমতলা শ্মশান পর্যন্ত যাত্রায় ভিড় নিয়ে নানা কাহিনী আজও প্রচলিত আছে। কবিগুরুর পুত্র শ্মশান পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি, এমনটাও শোনা যায়।
ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার কাশেম সোলেমানির মৃত্যু হয় আমেরিকার ড্রোন হামলায়। ২০২০ সালে প্রিয় কমান্ডারকে চোখের জলে শেষ বিদায় জানাতে পথে নামেন অন্তত ৭০ লক্ষ মানুষ। তিনটি শহরে তিনদিন ধরে তাঁর শেষকৃত্য হয়।
ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে অত্যন্ত নৃশংসভাবে। নিজের দেহরক্ষীদের গুলিতেই ঝাঁজরা হয়ে যান ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। ৩০টি গুলি লেগেছিল তাঁর দেহে। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরাকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে অন্তত ৩৫ লক্ষ মানুষ ভিড় জমান।
তামিল সিনেমার সুপারস্টার থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী- এমজি রামাচন্দ্রনের জীবনটাই ছিল রূপকথার গল্পের মতো। নিজের দল গঠন করে রাজনীতিতে চূড়ান্ত সাফল্য পেয়েছিলেন। তিন দফায় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এমজিআর। ১৯৮৭ সালে তাঁর প্রয়াণে কার্যত দাঙ্গা বেঁধে যায় রাজ্যজুড়ে। ৩৫ লক্ষ মানুষের ভিড়ে সাধিত হয় তাঁর শেষকৃত্য।
রামচন্দ্রনের সহঅভিনেত্রী থেকে রাজনৈতিক শিষ্যা হয়ে উঠেছিলেন জয়ললিতা। এমজিআরের মৃত্যুর পর যাবতীয় প্রতিরোধকে উড়িয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেন তিনি। ২০১৬ সালে 'আম্মা' জয়ললিতার প্রয়াণে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে গোটা রাজ্য। ২০ লক্ষ মানুষ ভিড় জমায় তাঁর শেষযাত্রায়।
১৯৪৮ সালে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে প্রকাশ্য জনসভায় গুলি করে হত্যা করে আরএসএস কর্মী নাথুরাম গডসে। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে সদ্য স্বাধীন হওয়া ভারতবর্ষ। বিড়লা হাউস থেকে গান্ধী ঘাটের শেষযাত্রায় অন্তত ১ কোটি মানুষ যোগ দেন। হাতে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় মহাত্মার দেহ বহনকারী গাড়িটি।
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০২৫ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকায় তাঁর শেষকৃত্যে অন্তত ৩২ লক্ষ মানুষের ভিড় হয়। খালেদার স্বামী জিয়াউর রহমানের শেষকৃত্যেও বাংলাদেশের অন্তত ২০ লক্ষ মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। খালেদার মৃত্যুর দু'মাস পরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তাঁর পুত্র তারেক।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 05:11 PM May 19, 2026Updated: 05:11 PM May 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
