Advertisement
সিনেমা নিয়ে এভাবেও পরীক্ষা করা যায়! সিনেপ্রেমী হলে এই ১০ ভারতীয় ছবি মিস করবেন না
ভিন্নস্বাদের গল্পের মেলবন্ধন ঘটে ভারতীয় ছবিতে। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা যেমন দর্শকের মনোরঞ্জন করে ঠিক তেমনই ছকভাঙা গল্পও প্রাধান্য পায়। এমন কিছু গবেষণামূলক ভারতীয় ছবিও আছে যা মুক্তির পর দর্শক মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। হলে বসে ভাবতে বাধ্য হয়, সিনেমা নিয়ে এভাবেও পরীক্ষা করা যায়! এক নজরে দেখে নিন এইরকমই গবেষণামূলক সেরা দশটি ভারতীয় ছবির তালিকা।
আটের দশকে মুক্তি পেয়েছিল 'ওম ডর বি ডর'। কমল স্বরুপের নির্দেশনায় এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অনীতা কনওয়ার, আদিত্য লাখিয়া ও গোপী দেশাই। নিজস্ব ভাবনায় ভর করে ছবি তৈরি করেছিলেন পরিচালক। ১৯৮৯ সালে 'ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস'-এর মঞ্চে সেরা চলচ্চিত্রের জন্য ঝুলিতে এসেছিল 'ফিল্মফেয়ার ক্রিটিক্স অ্যাওয়ার্ড'
গবেষণামূলক ভারতীয় সিনেমার তালিকায় রয়েছে 'সিস্টার মিডনাইট'। ২০২৪ সালের ডার্ক কমেডি পরিচালনা করেছিলেন করণ কান্ধারি। প্রথম ছবিতেই ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছিলেন। রাধিকা আপ্তের অভিনয়ের ভুঁয়োশি প্রশংসা করেছিলেন সিনে সমালোচকরা। ছবি মুক্তির বছরেই কান চলচ্চিত্র উৎসবের 'ডিরেক্টর্স ফোর্টনাইট' বিভাগে ২০২৪-এর ১৯ মে প্রিমিয়ার হয়। পরে ৭৮ তম 'বাফটা অ্যাওয়ার্ডস'-এ নবাগত ব্রিটিশ লেখক ও প্রযোজক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিল।
'কল-আ কলিং', একেবারে অন্য ধরনের গল্পে দর্শকের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। গ্রামে বসবাসকারী এক শিক্ষক এমন এক অপ্রাকৃতিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন, যা তিনি কোনওভাবেই ভুলতে পারেন না। যখনই সেই ঘটনার কথা মনে করেন ভয়ে কুকড়ে যান। তবুও অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচনের আকাঙ্ক্ষায় সেই একমাত্র সাক্ষীর খোঁজে বের হন। বাস্তবধর্মী ফ্যান্টাসি ঘরানার এই ছবির প্রতি পরতে যে রহস্যের গন্ধ তা দর্শকের মনকেও শিহরিত করে।
'অরণ্য কনদম' যার বাংলা তর্জমা করলে হয় জঙ্গলের অধ্যায়। ২০১১ সালের ভারতীয় তামিল ক্রাইম-কমেডি চলচ্চিত্র। নবাগত পরিচালক তিহগারঞ্জন কুমারারাজারের এইঈ ছবিটিকে তামিল সিনেমার প্রথম নিও-নয়ার ছবি হিসেবেও মান্যতা দেওয়া হয়। ছয়জন প্রধান চরিত্রের জীবনকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলে মাল্টিস্টারকাস্ট ভিত্তিক এই ছবি। মুক্তির পর দর্শকমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল।
অমিত দত্ত পরিচালিত ছবি 'নয়নসুখ'। পাল বংশের ক্ষুদ্রচিত্র শিল্প নয়নসুখের জীবনী ও শিল্পকর্মের উপর ভিত্তি করে ছবি তৈরি করেছিলেন পরিচালক। ২০১০ সালে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর গবেষণামূলক সিনেমা হিসাবে বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছিল।
ভারতীয় গবেষণামূলক সিনেমার তালিকায় নিঃসন্দেহে উঠে আসে 'অজ্জি' যার বাংলা অর্থ ঠাকুমা। দেবাশীষ মাখিজা পরিচালিত ভারতীয় হিন্দি ক্রাইম-ড্রামায় অভনয় করেছিলেন সুশমা দেশপাণ্ডে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশ কুমার, মনুজ শর্মা, সুধীর পাণ্ডে সহ আরও অনেকে। সিনেমার মাধ্যমে রূপকথার গল্প 'লিটল রেড রাইডিং হুড'-এর উপস্থাপন করেছেন। ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি।
পরীক্ষামূলক ছবি তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য নাম 'হিউম্যানস ইন দ্য লুপ'। অরণ্য সাহার নির্দশনায় ২০২৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল এই ছবি। সাংবাদিক করিশ্মা মেহরোত্রার ২০২২ সালের 'ফিফটি টু' পত্রিকার 'হিউম্যান টাচ' শীর্ষক একটি প্রবন্ধ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি তৈরি করেছিলেন। ২০২৫-এর ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধান শহরগুলোতে সীমিত পরিসরে মুক্তি পায়। তার আগে ২০২৪-এ 'মামি'তে প্রিমিয়ার হয়েছিল।
২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'আঁখো দেখি' ভারতীয় গবেষণামূলক সিনেমাগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় মিশ্র এবং রাজত কাপুর। ২০১৪ সালে ২১ মার্চ বড় পর্দায় মুক্তি পায়। ২০১৪-তে টরন্টোতে অনুষ্ঠিত অষ্টম 'মোজাইক ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল'-এর উদ্বোধনী সিনেমা হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিল।
নবাগত পরিচালক হিসেবে পরীক্ষামূলক ছবি তৈরি করেছিলেন অজিতপাল সিং। সৌজন্যে 'ফায়ার ইন দ্য মাউনটেইনস'। ২০২১-এর ৩১ জানুয়ারি 'সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল'-এ প্রিমিয়ার হয়। প্রথধম ছবিতেই নিজের ভাবনার জয়জয়কার তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
২০১৮ সালের একটি ভারতীয় মারাঠি সিনেমা 'ন্যুড'। চিত্রনাট্যের মাধ্যমে এমন এক মডেলের গল্প পরিবেশন করা হয়েছিল যিনি তার ছেলের শিক্ষার খরচ জোগাতে ক্যামেরার সামনে নগ্ন হতে বাধ্য হন। 'ন্যুড' মডেলিংয়ের মাধ্যমে সন্তানের লালনের গল্প দর্শকের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। বিভিন্ন আঙ্গিকে গল্প দর্শকের দরবারে পরিবেশন করা যায় সেইরকম এক নজির গড়েছিলেন পরিচালক রবি যাদব।
Published By: Kasturi KunduPosted: 06:16 PM May 19, 2026Updated: 06:19 PM May 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
