Advertisement
ব্যর্থ কোহলি-গিলরাও! ভারতের ৩ বছরের রোগ সারালেন 'বদলি' পাড়িক্কল, কোন মন্ত্রে?
দ্রাবিড়-পূজারাদের জুতোয় পা গলাতে তৈরি পাড়িক্কল?
৩ বছরের অপেক্ষা। অন্তত ৫ জন তারকা ক্রিকেটারের পরীক্ষানিরীক্ষা। তবু কিছুতেই 'রোগ' সারছিল না। অবশেষে এলেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। তাও কোচ গৌতম গম্ভীরের প্রথম পছন্দ হয়। 'বদলি' হিসেবে দলে এসেছেন কর্নাটকের ব্যাটার। আর শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরার পর টিম ইন্ডিয়ার 'রোগ' সারিয়ে ফিরবেন। যেটা গত তিন বছরে বিরাট কোহলি, শুভমান গিলরাও পারেননি।
কথা হচ্ছে, ভারতের টেস্ট দলের তিন নম্বর জায়গাটা নিয়ে। ওপেনিং জুটিতে সাফল্য পেয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল, কেএল রাহুল। বিরাট কোহলির পর চার নম্বর জায়গাটা নিজের নামে করে নিয়েছেন শুভমান গিল। শুধু তিন নম্বর জায়গাটার কোনও সমাধান ছিল না। রাহুল দ্রাবিড় ও চেতেশ্বর পূজারার পর যে জায়গাটায় খামতি ছিল টিম ইন্ডিয়ার। গত ৩ বছরে ৫ জনকে সেই জায়গায় মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
অবশেষে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে এলেন দেবদত্ত। পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন। গলে প্রথম টেস্টে ১৬৭ ও ৪৪ রান করেছিলেন। কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১১৭ রান। শ্রীলঙ্কার বোলারদের একাই শাসন করেন। আবার আক্রমণও করেন। কেশারা নুয়ান্থার স্পিনের সামনে হার মানেন তিনি। অথচ এই সিরিজে খেলার কথাই ছিল না দেবদত্তের। গম্ভীরের 'প্রিয়পাত্র' সাই সুদর্শন চোট পাওয়ায় আচমকা দরজা খুলে যায়।
এমন নয় যে ভারতীয় দলে পাড়িক্কল অপরিচিত মুখ। ২০২৪-এ প্রথম সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পঞ্চম টেস্টে হাফসেঞ্চুরি করেন। এরপর বছর শেষে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েও খেলেন। প্রথম টেস্টে অধিনায়ক ছিলেন রোহিত শর্মা। পরেরটায় জশপ্রীত বুমরাহ। দু'টো টেস্টেই ভারত জিতেছিল। তারপর অপেক্ষা করতে হল আরও দু’বছর। আর ভারতীয় দলের মিটল ৩ বছরের অপেক্ষা। ২০২৩-র জুনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের পূজারা খেলার পর কারও তিন নম্বর জায়গা নিশ্চিত ছিল না।
গত তিন বছরে কেএল রাহুল, সাই সুদর্শন, করুণ নায়ার, ওয়াশিংটন সুন্দরকে খেলানো হয়েছে। সাফল্য আসেনি। শুভমান গিলও কয়েকটি টেস্টে তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন। এমনকী নিজের চার নম্বর জায়গা ছেড়ে একধাপ উপরে উঠে এসেছেন বিরাট কোহলিও। ২০২৪-এ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে তিনে খেলেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে রান করেন মাত্র ৭০। অনেকে পরামর্শ দিয়েছেন, সরফরাজ খান বা ধ্রুব জুরেলকে ওই জায়গায় খেলানো। তবে গম্ভীর খুঁজছিলেন বাঁহাতি ব্যাটার।
এবার সম্ভবত পাড়িক্কলকে ওই জায়গায় ধারাবাহিকভাবে দেখা যাবে। কীভাবে কামব্যাক হল তাঁর? প্রথম টেস্টের পর পাড়িক্কল বলেন, "গত দু’বছর প্রচুর পরিশ্রম করেছি। জানতাম সুযোগ পেলে ভালো কিছু করে দেখাব। স্পিনের বিরুদ্ধে খেলতে হলে লেংথ ঠিক রাখতে হয়। কিছু পরিকল্পনা আগে থেকে ভেবে রাখতে হয়। আমি রানের খিদে বাড়িয়েছি। ব্যাটিং আরও উপভোগ করছি।"
পাশাপাশি প্রাক্তনীদের সমর্থনও পেয়ে যাচ্ছেন পাড়িক্কল। ইরফান পাঠান, এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "ওর ব্যাটিং দেখতে দারুণ লাগে। টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় দলের ৩ নম্বর জায়গা পাকা করার দাবিদার।" আকাশ চোপড়াও বলছেন, "সাই সুদর্শনের থেকে দেবদত্ত এগিয়ে গেল। এবার নিশ্চিত সাইকে বাইরে বসতে হবে।" ৪ টেস্টে দেবদত্তর রান ৪১৮। দু'টি সেঞ্চুরি। সেখানে সুদর্শন ৭ টেস্টে ৩৮৩ রান করেছেন।
এই সিরিজে সম্ভবত আরও একটা জায়গা নিশ্চিত হয়ে গেল। সেটা হল ৬ নম্বরে ধ্রুব জুরেল। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে সেঞ্চুরি পেলেন। তারপর জার্সি তুলে হাতের পেশি দেখান। যেখানে লেখা ছিল, ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান।’ আসলে জুরেলের বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। এখনও পর্যন্ত ১২ টেস্টে ৬৫১ রান হয়ে গিয়েছে। দু'টি সেঞ্চুরি। সরফরাজ খানকেও তাই বোধহয় দলের বাইরেই থাকতে হবে।
Published By: Arpan DasPosted: 07:59 PM Aug 24, 2026Updated: 07:59 PM Aug 24, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
