Advertisement
শুধুই শরীরী নেশা! প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া সম্পর্কের জন্য কতটা জরুরি, কী জানাচ্ছে গবেষণা?
মেট্রো থেকে পার্ক— জনসমক্ষে উথালপাথাল চুমু আজকাল অতি পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এই খুল্লামখুল্লা প্রেম আদতে কি সম্পর্কের ভিত সত্যিই মজবুত করে? নাকি তা শুধুই ক্ষণিকের মোহ?
ভালোবাসার ধরন বদলেছে। এখন আর হাতচিঠির অপেক্ষা নেই। একপলকে একটু দেখা'র জমানাও শেষ। চার দেওয়ালের বাইরে এখন ছড়িয়ে পড়ছে শরীরী উষ্ণতা। মেট্রো থেকে পার্ক— জনসমক্ষে উথালপাথাল চুমু আজকাল অতি পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এই খুল্লামখুল্লা প্রেম আদতে কি সম্পর্কের ভিত সত্যিই মজবুত করে? নাকি তা শুধুই ক্ষণিকের মোহ?
চুমু কেবল দুই ঠোঁটের আবেগি স্পর্শ নয়। এটি গভীর শারীরিক ও মানসিক সম্মতির এক নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি। ভিড়ের মাঝে সঙ্গীকে কাছে টেনে নেওয়া বা গালে আলতো চুমু আঁকা এক অদ্ভুত সুরক্ষার অনুভূতি দেয়। এটি সঙ্গীকে খোলাখুলি সামাজিক স্বীকৃতিও দেয়। আলতো স্পর্শে বুঝিয়ে দেয়, ওই শরীর ও মনের উপর তাঁর একচ্ছত্র অধিকার।
পাবলিক ডিসপ্লে অফ অ্যাফেকশন বা পিডিএ শরীরে আলাদা অনুভূতির দোলা দেয় সত্যি, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে না মোটেও। সম্পর্কের আসল বাস্তু তৈরি হয় মন দেওয়া-নেওয়ায়। সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনা, মানসিক সমর্থন, কিংবা বিপদে পাশে থাকাই যেকোনও সম্পর্কের প্রাথমিক বুনিয়াদ। শুধুই শারীরিক প্রদর্শনীতে আদৌ তা বাঁচে না।
ভিড় রাস্তায় সঙ্গীর হাত ধরুন। অফিস ফেরত উসকোখুসকো চুলে আলতো স্পর্শ করুন। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে এক কাপ চা হয়ে যাক? এই ছোট ছোট মুহূর্ত কিন্তু রাস্তায় দাঁড়িয়ে চুমু খাওয়ার চাইতেও সম্পর্কে ভীষণ দামি। কারণ, এই ছোট ছোট স্পর্শ শরীর পেরিয়ে মনেও গভীর দোলা দিয়ে যায়।
জনসমক্ষে শরীরী উত্তাপ ছড়ানোর আগে সঙ্গীর সম্মতি কিন্তু সবচেয়ে জরুরি। আপনার কাছে যা চরম রোমাঞ্চ, সঙ্গীর কাছে তা সামাজিক অস্বস্তির কারণও হতে পারে। এমন একতরফা কাম বা জোর করে কাছে টানা সম্পর্কের সূক্ষ্ম বাঁধন আলগা করছে না তো? জনসমক্ষে পা বাড়ানোর আগে সঙ্গীর মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিন।
ঝোড়ো চুমু মুহূর্তের জন্য রক্তে আগুন জ্বালাতে পারে। কিন্তু একটি সুন্দর সম্পর্ককে বছরের পর বছর টিকিয়ে রাখতে লাগে নিখাদ বিশ্বাস আর পারস্পরিক সম্মান। বিছানার উষ্ণতার চেয়েও বেশি জরুরি কঠিন দিনে একে অপরকে বোঝা। শারীরিক চাওয়া-পাওয়া কোনও সম্পর্ককে কখনওই মজবুত করতে পারে না।
আজকের ছেলেমেয়েরা সঙ্গীকে প্রকাশ্যে চুমু খায়। তাদের কাছে এ ধরনের আচরণ অবাধ শারীরিক মুক্তির প্রতীক। কিন্তু সমাজের একটা বড় অংশ একে সস্তা অভদ্রতা মনে করেন। তাই শারীরিক আকর্ষণ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সংযত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। লোকচক্ষুর সামনে প্রেম প্রকাশের ক্ষেত্রে সংযমী হওয়া আমাদের সামাজিক ব্যবস্থায় আবশ্যিক।
সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে মানসিক মিলনের উপর, অনিয়ন্ত্রিত কামনায় নয়। প্রাথমিক অনুঘটক হিসেবে শারীরিক আকর্ষণ আসতেই পারে, কিন্তু লম্বা পথ চলতে গেলে লাগে হৃদয়ের সখ্যতা। তাই ক্ষণিকের এই তীব্র উত্তেজনার চেয়ে সারাজীবনের ভরসা অনেক বেশি দামি। অহেতুক প্রকাশ্যে শরীর ছোঁয়ার চেয়ে সঙ্গীর মন ছুঁয়ে যাওয়াটাই সম্পর্কের আসল পাসওয়ার্ড।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 05:24 PM Aug 12, 2026Updated: 05:24 PM Aug 12, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
