Advertisement
রক্তের টানের চেয়েও বড় রাজনীতি! এক পরিবারে থেকেও আলাদা দলের নেতা, ভারতীয় রাজনীতিতে উদাহরণ বহু
গান্ধী থেকে যাদব, বহু পরিবারে রয়েছে একাধিক দলের নেতা। বাংলাতেও রয়েছে এমন উদাহরণ।
একদিন আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অসমের কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলুই। গত লোকসভা ভোটে অসমে কংগ্রেসের মাত্র ৩ জন সাংসদ জিতেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রদ্যুৎ। মজার কথা হল, প্রদ্যুৎ কংগ্রেসে থাকাকালীন তাঁর ছেলে প্রতীক বরদলুইকে মারঘেরিটা কেন্দ্র থেকে টিকিট দিয়েছিল দল। প্রতীক কংগ্রেসের সোশাল মিডিয়া ছেলের সহকারী ইনচার্জও।
বাবা দলত্যাগ করে বিজেপিতে যেতেই প্রতীকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বলাবলি শুরু হয়, বিজেপি নেতার ছেলে হয়ে প্রতীক কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে লড়বেন কোন যুক্তিতে? এই দোটানার পরিস্থিতিতে দলকে দায়মুক্ত করলেন প্রতীক নিজেই। দলের হাইকম্যান্ডকে চিঠি লিখে প্রার্থীপদ বাতিলের আর্জি জানালেন তিনি। তবে প্রার্থীপদ বাতিল হলেও কংগ্রেসের প্রতি তিনি অনুগতই থাকবেন, বলছেন ওই কংগ্রেস নেতা।
অর্থাৎ বাবা এবং ছেলে দুই দলে। অবশ্য এই প্রথম নয়। ভারতীয় রাজনীতিতে এমন বহু পরিবার রয়েছে, যে পরিবারের একেক সদস্য একেক দলে। সেটা দেশের একেবারে শীর্ষস্তরের পরিবারগুলির মধ্যেও রয়েছে। সেটা সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ পরিবার থেকে শুরু করে কংগ্রেসের 'ফার্স্ট ফ্যামিলি' পর্যন্ত, সব দলেই এই সমস্যা রয়েছে।
শুরুতেই আসা যাক কংগ্রেসের ফার্স্ট ফ্যামিলিতে। গান্ধী পরিবারের ৩ সদস্য রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসে। রাহুল লোকসভার বিরোধী দলনেতা, প্রিয়াঙ্কা দলের সাধারণ সম্পাদক, সোনিয়া সংসদীয় দলনেত্রী। সরকারিভাবে দলের সভাপতি পদে মল্লিকার্জুন খাড়গে থাকলেও বকলমে দল গান্ধীরাই চালান। অথচ সেই গান্ধী পরিবারেরই একটা অংশ দীর্ঘদিন বিজেপিতে।
সঞ্জয় গান্ধীর স্ত্রী ও পুত্র সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর থেকেই গান্ধী পরিবারের মূল স্রোত এবং কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন। পরে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন। মানেকা এবং বরুণ দুজনেই বিজেপির টিকিটে সাংসদ হয়েছেন। এখনও দু'জন বিজেপিতেই রয়েছেন।
রাজনৈতিক কেরিয়ারের শেষ লগ্নে এসে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেয়েছেন শরদ পওয়ার। যে ভাইপোকে নিজের হাতে গড়েপিঠে তৈরি করেছিলেন, সেই অজিত পওয়ারই তাঁকে একপ্রকার ছুরিকাঘাত করে অন্য দল গঠন করলেন। আমৃত্যু নিজের দল এনসিপিতে ছিলেন অজিত। এখন সেই দলের নেত্রী অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার। শরদ এখনও তাঁর নিজের দল এনসিপি শরদচন্দ্র পওয়ারে।
মহারাষ্ট্রেরই আরও এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার ঠাকরে পরিবার। ওই পরিবারের দুই সদস্য দু'টি আলাদা দলের প্রধান। একজন শিব সেনা ইউবিটির প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। বালাসাহেব ঠাকরের পুত্র নিজের বাবার দলের প্রতীক এবং নাম নিজের হাতে রাখতে পারেননি। এদিকে বাল ঠাকরের ভাইপো রাজ ঠাকরে অনেক আগেই শিব সেনা থেকে বেরিয়ে নিজের আলাদা দল এমএনএস তৈরি করেছেন। এখনও দুই ভাই দুই আলাদা দলে।
উত্তরপ্রদেশ রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবার মুলায়ম সিংয়ের পরিবারের অন্দরের রাজনীতিও বেশ মজার। মুলায়মের ছেলে অখিলেশের উত্থান পরিবারের অনেকে মানতে পারেননি। মুলায়মের ভাই তথা অখিলেশের কাকা শিবপাল যাদব অতীতে দল ছেড়ে আলাদা মঞ্চ গড়েছেন। এমনকী মুলায়মের সবচেয়ে ছোট পুত্রবধু অপর্ণা যাদব এখনও বিজেপিতে। তিনি অখিলেশের বিরুদ্ধে প্রার্থীও হয়েছেন।
উত্তরপ্রদেশের যাদব পরিবার থেকে বিহারের যাদব পরিবারে। তেজস্বী যাদব-তেজপ্রতাপ যাদব দুই ভাই একসময় লালুর দল আরজেডি-তেই ছিলেন। কিন্তু এবার ভোটের আগে তেজপ্রতাপকে দল এবং পরিবার দুই থেকেই বহিষ্কার করেন লালু। আলাদা দল গড়েন তেজপ্রতাপ। তাছাড়া শুধু তেজপ্রতাপ নন, লালু পরিবারের একাধিক সদস্য এখন আর আরজেডির সদস্য নন।
বসুন্ধরা রাজে সিদ্ধিয়া। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির প্রাক্তন সহ-সভাপতি। এখনও বিজেপির প্রথম সারির রাজনৈতিক মুখ। অথচ এই বসুন্ধরার দাদা মাধবরাও সিদ্ধিয়া দীর্ঘদিন ছিলেন কংগ্রেসে। হাত শিবিরের হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হন। মাধবরাওয়ের ছেলে জ্যোতিরাদিত্যও দীর্ঘদিন কংগ্রেসে ছিলেন। এখন পিষি ভাইপো এক দলে। তবে দু'জনের তেমন যোগাযোগ নেই।
এই রাজ্যেও এমন পরিবারের উদাহরণ রয়েছে। যে পরিবারের একেক সদস্য একেক দলে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ মালদহের গণি পরিবার। গণিখানের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের কিছু সদস্য রয়ে যান কংগ্রেস। ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী, ঈশা খান চৌধুরীরা কংগ্রেসের টিকিটি জনপ্রতিনিধি হন। অন্যদিকে আরেক ভাই আবু নাসের খান চৌধুরী, পরে মৌসম নূর যোগ দেন তৃণমূলে। এখন অবশ্য গণি পরিবারের আর কেউ তৃণমূলে নেই।
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:44 PM Mar 19, 2026Updated: 05:46 PM Mar 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
