Advertisement
নোরার 'উও ডালদো' থেকে 'ললিপপ লাগেলু', পর্দার কোন অশ্লীল গানে বারবার উঠেছে নিন্দার ঝড়?
নোরা ফতেহি এবং সঞ্জয় দত্তের 'কেডি: দ্য ডেভিল' ছবির গান 'সরকে চুনর তেরি সরকে' নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক।
গানের প্রতিটি শব্দ যৌন উদ্দীপক। নাচের ভঙ্গিমাও অশালীন। নোরা ফতেহি এবং সঞ্জয় দত্তের 'কেডি: দ্য ডেভিল' ছবির গান 'সরকে চুনর তেরি সরকে' নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক। গীতিকার রকিব আলমের গানটি পরিবারের সঙ্গে দেখার অযোগ্য বলে দাবি উঠেছিল। 'অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন' গানটি নিষিদ্ধ করার দাবি করেন। গান নির্মাতাদের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়। দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদে অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
গানটি আপাতত আর দেখা যাচ্ছে না। গীতিকার আবারও গানটির একটি মার্জিত সংস্করণ লিখছেন বলেই জানা গিয়েছে। পরবর্তীকালে গানের সেই সংস্করণটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলেই খবর। তবে প্রশ্ন উঠছে, সোশাল মিডিয়ার যুগে গান ডিলিট করলেও কি সত্যি তা পাওয়া খুব দুরূহ? অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এমন রুচিহীন গান তৈরি করতে হচ্ছে নির্মাতাদের? শুধু কি ব্যবসায়িক স্বার্থই সব?
অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার চটুল গান প্রকাশ্যে এসেছে। যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। ওঠে সমালোচনার ঝড়। গান সরিয়েও দেওয়া হয়। তবে তা সত্ত্বেও কেন সতর্ক হচ্ছেন না গীতিকাররা, সে প্রশ্ন থাকছেই। চলুন দেখে নেওয়া যাক, এর আগে আর কোন কোন গান নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে।
বিতর্ক আর বাদশা একে-অপরের সমার্থক। গানের কথা থেকে দৃশ্যায়নের কারণে সমালোচনায় জড়িয়েছেন খ্যাতনামা ব়্যাপার। দিনকয়েক আগে ‘টাটিরি’ গানের দৃশ্যায়ণে নারীদের আপত্তিকরভাবে তুলে ধরায় বিতর্ক মাথাচাড়া দেয়। মিউজিক ভিডিওতে দেখা যায়, কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে স্কুলছাত্রীরা নাচতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং গানের চটুল কথা। এর আগে বাংলার লোকশিল্পী রতন কাহারের ‘বড়লোকের বেটি লো’ গানটির রিমেক করে বিতর্কে জড়ান বাদশা।
একাধিক গান নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন হানি সিংও। তাঁর 'নাগান' গানটি যেমন যৌন উত্তেজক শব্দে ভরা তেমনই তার দৃশ্যায়ণও বেশ অশ্লীল। অভিযোগ, পাঞ্জাবি ভাবাবেগে আঘাত করেছে এই গানটি। অনেকের দাবি, এই গানটি তরুণ প্রজন্মকে ভুলপথে চালনা করতে উৎসাহ জোগাতে পারে। সে কারণে হানি সিংয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন এক বিজেপি নেতা। গানটি সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলার দাবিও তোলেন তিনি।
গত বছর হানি সিংয়ের 'গ্লোরি' অ্যালবামের 'মিলিনিয়ার' গানটি নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। মহিলা কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। এর আগে ২০১৩ সালেও একবার গানের লিরিক্স নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। ওই গানটিতে হানি সিং লিখেছিলেন, ‘ম্যায় হুঁ বলৎকারি’। এছাড়া গানে আরও একটি লাইন রয়েছে ‘সিলিকন ওয়ালি লড়কিয়োঁকো ম্যায় পটাতা হুঁ’। এছাড়া ‘লাক ২৮’, ‘ব্লু আইজ’, ‘কিকলিকালেরেদ্রি’ ও ‘ব্লাউন রং’ গান নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হানি সিং।
'ললিপপ লাগেলু' ভোজপুরি গায়ক ও অভিনেতা পবন সিংয়ের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গান। ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই গানটি ভোজপুরি সঙ্গীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় গান। সুরকার বিনয় বিনায়ক এবং লিখেছেন জাহিদ আখতার। এই গানে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই।
গুরু রান্ধাওয়ার 'সিরা' গান নিয়ে একসময় তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। তাঁর গানে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগার মতো একটি শব্দ ব্যবহার করা হয় বলেই অভিযোগ। এই বিতর্কের জল গড়ায় আদালতেও। সামরালা আদালত থেকে তাঁকে নোটিসও পাঠানো হয়। আইনি জটিলতার চাপে অবশেষে বাধ্য হয়ে শব্দটি বাদ দিতে হয় গুরু রান্ধাওয়াকে। সবমিলিয়ে জলঘোলা কম হয়নি।
করণ অজলার 'এম এফ ঘাবরু' গানটি শুনেও একসময় রে রে করে ওঠেন শ্রোতারা। ওই গানটি নারীদের অপমানজনক একাধিক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। পাঞ্জাবের মহিলা কমিশনের তরফে আপত্তি তোলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় গায়ককে। যদিও শেষমেশ গান সরিয়ে ফেলার মতো কোনও বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
একসময় 'দাবাং'য়ের 'মুন্নি বদনাম হুয়ি' গানটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। দৃশ্যায়ণে দেখা গিয়েছিল সলমন খান এবং মালাইকা অরোরা এবং সোনু সুদকে। এই গানটি ঘিরে বিতর্কের ঝড় ওঠে। এই গানটি শব্দ এবং দৃশ্যায়ণ নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায়। ছবি নির্মাতাকে নোটিসও পাঠানো হয়। তবে এখনও গানটি সরিয়ে ফেলা হয়নি। তাই চাইলে যে কেউ এক ক্লিকে শুনতে পারেন চটুল গানটি।
একসময় জিনাত আমনের 'দম মারো দম' ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ওই গানে ব্যবহৃত 'হরে কৃষ্ণ হরে রাম' শব্দের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি ওঠে। তীব্র সমালোচনার শিকার হয় গান নির্মাতা। কাট টু ২০১১ সাল। দীপিকা পাড়ুকানের 'দম মারো দম' গানটিও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। এই গানটিও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছে বলেই অভিযোগ ওঠে। আইনি জটিলতার মধ্যে পড়তে হয় নির্মাতাদের।
Published By: Sayani SenPosted: 09:09 PM Mar 18, 2026Updated: 09:12 PM Mar 18, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
