Advertisement
দেশের 'মিনি সুইজারল্যান্ড' প্রি-ওয়েডিং শুটের হিড়িক! পর্যটকদের জন্য লুকিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি
রাজস্থানের কিশনগড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’-এ ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকেরা। তুষারের মতো সাদা এই দৃশ্য আসলে মার্বেল শিল্পের বর্জ্য স্তূপ, যাকে বলা হয় মার্বেল স্লারি। চিকিৎসকদের সতর্কতা, এই সূক্ষ্ম ধুলোকণা বাতাসে উড়ে ফুসফুসে গেলে গুরুতর শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ এমনকি সিলিকোসিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল রাজস্থানের 'মিনি সুইজারল্যান্ড'! কিশনগড়ে সাদা বরফের মতো বিস্তৃত প্রান্তর দেখে অনেকেই তাতে মজেছেন। মুগ্ধ হয়ে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর বাস্তবতা, যা অনেক পর্যটকেরই অজানা।
যে জায়গাটিকে এতদিন ধরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন বলে মনে করা হচ্ছিল, সেটি আসলে একটি মার্বেল স্লারি বা বর্জ্য ফেলার জায়গা। মার্বেল কাটিং ও পালিশ করার সময় যে সূক্ষ্ম ধুলো ও তরল বর্জ্য তৈরি হয়, সেটিই এখানে বছরের পর বছর ধরে জমে এই সাদা পাহাড়ের মতো চেহারা নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ৩১২.৫ একর এলাকা জুড়ে এই স্লারি ডাম্পিং ইয়ার্ড বিস্তৃত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমে থাকা সাদা ধুলোর স্তূপ এমন এক ভিজ্যুয়াল তৈরি করেছে, যা অনেকটা বরফে ঢাকা প্রান্তরের মতো দেখায়। এই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জায়গাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
অনেকেই এখানে ফটোশুট করতে যান, এমনকী প্রি-ওয়েডিং ছবি তোলার জন্য় বেছে নেন এই 'সাদা মরুভূমি'-কে। কিন্তু কেউ ভাবেন না, এই সৌন্দর্যের ভেতরে কতটা বিপজ্জনক উপাদান লুকিয়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জায়গাটি আসলে একটি শিল্প বর্জ্যের ক্ষেত্র, যেখানে দীর্ঘসময় থাকা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
মার্বেল স্লারি মূলত সূক্ষ্ম কণার মিশ্রণ, যা শুকিয়ে গেলে হালকা ধুলোয় পরিণত হয়। এই ধুলো খুব সহজেই বাতাসে ভেসে মানুষের শ্বাসনালীতে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে শুষ্ক আবহাওয়ায় এই ধুলোর পরিমাণ আরও বেশি হয়ে যায়, যা অদৃশ্য হলেও অত্যন্ত ক্ষতিকর।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধুলোর মধ্যে থাকা সূক্ষ্ম কণাগুলো ফুসফুসে ঢুকে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। প্রথমদিকে হালকা কাশি, শ্বাসকষ্ট বা গলায় জ্বালা অনুভূত হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন এই ধুলো শ্বাসের সঙ্গে শরীরে গেলে তা বড় ধরনের রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হল, এই স্লারিতে সিলিকা বা কোয়ার্টজের মতো উপাদান থাকতে পারে, যা ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে, শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা একে আটকাতে পারে না এবং সহজেই ফুসফুসের অভ্য়ন্তরে পৌঁছে যায়।
যখন এই কণাগুলো ফুসফুসে জমা হয়, তখন শরীরের প্রতিরোধক কোষ এগুলোকে ধ্বংস করতে গিয়ে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ফুসফুসে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে সেখানে দাগ বা স্কার টিস্যু তৈরি হতে থাকে, যা একসময় মারাত্মক আকার নিতে পারে।
এই অবস্থাকে বলা হয় সিলিকোসিস, যা একটি স্থায়ী এবং প্রায় অপরিবর্তনীয় ফুসফুসের অসুখ। এই রোগে আক্রান্ত হলে ফুসফুস শক্ত হয়ে যায়, স্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হতে পারে না এবং শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায়। ফলে রোগীর দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:20 PM Mar 18, 2026Updated: 08:41 PM Mar 18, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
