Advertisement
বিজেপির প্রার্থী তালিকায় একগুচ্ছ সেলেবমুখ, কীভাবে ভোটযুদ্ধের রোডম্যাপ সাজাচ্ছেন রূপা-হিরণরা?
কে, কোন কেন্দ্রে ভোটে লড়ছেন? কীভাবেই বা নির্বাচনী প্রচারকৌশলী সাজাচ্ছেন? জেনে নিন।
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় আরও ১১২টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে একাধিক সেলেবমুখ রয়েছে তালিকায়। রুদ্রনীল ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পালের নাম আগেই ঘোষণা হয়েছিল। এবার জুড়ল রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নাম। কে, কোন কেন্দ্রে ভোটে লড়ছেন? কীভাবেই বা নির্বাচনী প্রচারকৌশলী সাজাচ্ছেন? জেনে নিন।
টালিগঞ্জ কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন পাপিয়া অধিকারী। এমন হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে নির্বাচনী লড়াই লড়ার আগে কতটা প্রস্তুত? পাপিয়া জানালেন, "আমার দল আমার উপর আস্থা রেখেছে, তার জন্যে আমি কৃতজ্ঞ। চেষ্টা করব তাঁদের ভরসা রাখার। সব কা সাথ, সব কা প্রয়াস, সব কা বিশ্বাস- মোদিজির এই মূলমন্ত্র নিয়েই ভোটের মাঠে নামব। ২৯৪টি সিটে মোদিজিই লড়ছেন। আমরা তো যোদ্ধামাত্র।"
গতবার উলুবেড়িয়া থেকে লড়েছিলেন পাপিয়া। নতুন কেন্দ্র নিয়ে পাপিয়ার সংযোজন, "টালিগঞ্জ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কেন্দ্র। আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষ এই এলাকার সঙ্গে জড়িত। যে ঘুঘুর বাসা হয়েছে, সেগুলিকেও তো একটু দেখতে হবে। যিনি বিরোধী রয়েছেন, তার সঙ্গে আমার কোনও লড়াই নেই। বরং লড়াইটা সিস্টেমের। সেই সিস্টেমের বিরুদ্ধেই লড়ব।"
সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে আবার সেলেব বনাম সেলেব লড়াই। একদিকে তৃণমূল প্রার্থী লাভলী মৈত্র, অন্যদিকে পদ্মপ্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার টিকিট পেয়েই অভিনেত্রীর মন্তব্য, "ভোটের সংখ্যাত্বত্ত্ব নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। মানুষের কাছে পৌঁছনো গুরুত্বপূর্ণ। আমজনতা যা ঠিক করবে সেটাই হবে।
রূপার সংযোজন, "এই কেন্দ্রে তিনজন মহিলা প্রার্থী। বাকি দু'জনের প্রতি সম্মান জানিয়ে শুভকামনা জানাচ্ছি। কিন্তু আমি জানি মানুষ বিজেপিকেই চাইছে। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে আমরা মার খেয়েছি দিনেরক পর দিন আমি সেটা ভুলিনি। আমাদের কার্যকর্তারাও মার খেয়েছেন সিপিএম এবং তৃণমূলের কাছে। সেসময়ে আমি বন্দুক চালাতে পারি বলে আমাকে অনেক কথাও শুনতে হয়েছিল।"
বৃহস্পতিবার গেরুয়া শিবিরের তরফে দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতেই দেখা যায়, শত বিতর্ক সত্ত্বেও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের উপর ভরসা হারায়নি দল। জেতা আসন খড়গপুর কেন্দ্র হাতছাড়া হলেও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে শ্যামপুর কেন্দ্রের পদ্মপ্রার্থী হিরণ। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসী জানার বিরুদ্ধে ভোটে লড়বেন তিনি।
খড়্গপুরের বিদায়ী 'মাচো' বিধায়কের কথায়, "এক বছর আগেই দল জানিয়ে দিয়েছিল যে খড়গপুরে টিকিট দেবে না। কিন্তু আমি তো খড়্গপুরের মাটি ছেড়ে যাইনি, কাজ করে গিয়েছি। খড়্গপুরের ইতিহাসে ১৯৫১ সালের পর পর এখানে যদি কোনও উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে সেটা গত ৫ বছরে আমার সময়ে হয়েছে। আগামীর প্ল্যান শ্যামপুরের উন্নয়ন।"
চলতিবারে যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বামপ্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদারের মতো হেভিওয়েটদের সঙ্গে লড়তে হবে অভিনেত্রীকে। এদিন নাম ঘোষণার পরই শর্বরীকে নিয়ে গাঙ্গুলিবাগান থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল বেরোয়।
শিবপুর থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রুদ্রনীল ঘোষ। একুশের বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়ে পরাজিত হন। তবে এবার স্বভূমে টিকিট পেতেই আত্মবিশ্বাসী অভিনেতা। হাওড়ার শিবপুর। যেখানে ছেলেবেলা কেটেছে রুদ্রনীলের। এই মাটিই অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ হওয়ার কাঠামো তৈরি করেছে। এবার সেই এলাকাতেই ভোট চাইতে যাবেন বাম হয়ে ঘাসফুল থেকে পদ্মফুলে যাওয়া রুদ্রনীল।
রুদ্রনীলের কথায়, “এই এলাকায় কেউ আমার কাছে ভোটার নয়। সবাই কাকু-কাকিমা, জেঠু-জেঠিমা। আমার মনে হয় রুদ্রনীল ঘোষকে নয়, তাঁরা বাড়ির ছেলেকে ভোট দেবে।” আত্মবিশ্বাসের সুরেই তিনি বলছেন, “এবার ঘরের ছেলে ঘর থেকে লড়াই করছে।”
আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন অগ্নিমিত্রা পাল। গত সোমবার প্রার্থী ঘোষণা হতেই অগ্নিমিত্রার সমর্থনে একেবারে ঢাকঢোল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তবে শুধু নিজেরাই নাচেননি, বিদায়ী বিধায়ক তথা পদ্মপ্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালকেও নাচে শামিল করিয়েছিলেন। অগ্নিমিত্রাকে দ্বিতীয়বার প্রার্থী করায় আতসবাজিও ফাটান তাঁরা।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 08:38 PM Mar 19, 2026Updated: 08:53 PM Mar 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
