Advertisement
বাড়ছে সমুদ্রতলের উচ্চতা, ২১০০ সালের মধ্যে তলিয়ে যাবে কলকাতা! তালিকায় আর কোন শহর?
জলস্তর বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক ভাবেই গোটা বিশ্বের পরিবেশ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে চলেছে।
দ্রুত বদলাচ্ছে আমাদের নীল রঙের গ্রহটা। 'ভিলেন' বিশ্বায়ন। অতীতেও নানা পরিবর্তন দেখেছ পৃথিবী। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তনের হার আগের সময়ের চেয়ে অনেক দ্রুত। এমতাবস্থায় আশঙ্কা, ২১০০ সালের মধ্যে জলের তলায় চলে যেতে পারে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ! গোটা দেশ না ডুবে গেলেও দেশগুলির একাংশ ডুবে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই তালিকায় প্রথমেই এসে পড়ে মালদ্বীপের নাম। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যানুসারে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা খুব দ্রুত বাড়ছে। আর তার ফলেই মালদ্বীপের রাজধানী মালে ডুবে যেতে পারে। আসলে মালদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮০ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে এখনই। আর তাই আগামিদিনে এখানে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের এক দ্বীপরাষ্ট্র টুভালু বিশ্বের চতুর্থ ক্ষুদ্রতম দেশ। ৯টি প্রবালদ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশটি গোটাটাই বিলীন হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, ইতিমধ্যেই ফিজিতে জমি কেনা হয়েছে এখানকার মানুষকে পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য।
তালিকায় আরেক দেশ কিরিবাতি। এটিও একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যা ৩৩টি প্রবালদ্বীপ নিয়ে গঠিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা এখানেও পড়তে চলেছে। আশঙ্কা আর কয়েক দশকের মধ্যে এই গোটা দেশটাই চলে যেতে পারে জলের তলায়! যার মধ্যে ২০৫০ সালের মধ্যেই বেশির ভাগটাই ডুবে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২৯টি প্রবালপ্রাচীর ও ১ হাজারটিরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ। একসময় এখানেই নিয়মিত পারমাণবিক পরীক্ষা চালাত আমেরিকা। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে বারো বছরে পরীক্ষার সংখ্যা ৬৭। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বিকিনি দ্বীপ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে এই দ্বীপপুঞ্জটি ধ্বংস হওয়ার মুখে!
আশঙ্কার মেঘ রয়েছে 'ঘরের পাশে আরশি নগর' বাংলাদেশেও। আশঙ্কা আগামিদিনে সেদেশের রাজধানী ঢাকা চলে যেতে পারে জলের তলায়। সব মিলিয়ে দেশটার ১৭ শতাংশ অংশই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে ঠাঁইনাড়া হতে পারেন ২ কোটি মানুষ!
তালিকায় রয়েছে নেদারল্যান্ডসও। প্রসঙ্গত, 'নেদারল্যান্ডস' কথাটির অর্থ 'নিচু দেশ'। ইতিমধ্যেই সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থান করছে দেশটির ২৬ শতাংশ! আগামিদিনে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের ঘনবসতিপূর্ণ জলবেষ্টিত দেশটির বড় অংশই জলে সমাধিস্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে চলেছে মায়ামিতেও! আমেরিকার ফ্লোরিডার অন্যতম এই শহর তার সুনীল জলরাশি ও মনমাতানো আবহাওয়ার জন্য পর্যটকদের 'নয়নের মণি'। অনেকে একে 'ম্যাজিক সিটি' বলে। কিন্তু সেই শহরই 'ভ্যানিশ' হয়ে যেতে পারে! ২০৩০ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে শহরটির একটি বড় অংশ জোয়ারের সময় তলিয়ে যেতে পারে সমুদ্রের অতলান্ত নীলে! আসলে নিচু শহর হওয়ার সমুদ্রের জলস্তর আরও একটু বেড়ে যাওয়ার ফলেই ঘটে যেতে পারে অনর্থ!
তালিকায় রয়েছে চিনও। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াল প্রভাব পড়তে পারে চিনের সামনের দিকে! সেখানে চিনের প্রায় ৪.৩ কোটি মানুষ বাস করেন। ওই অংশটি তলিয়ে গেলে এত মানুষ একসঙ্গে গৃহহীন হয়ে পড়বেন। কেবল জলবায়ু পরিবর্তন নয়, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন এবং বন্যাও বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করা হচ্ছে। সাংহাইয়ের মতো বড় শহরগুলি দ্রুত বসে যাওয়ায় আশঙ্কার মেঘ আরও ঘন হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক-সহ দেশটির একটা বড় অংশও রয়েছে আশঙ্কার তালিকাতে। উষ্ণায়নের ধাক্কায় মাটির নিচে বসে যাচ্ছে এই শহরগুলি। যার ফলশ্রুতি ২১০০ সালের মধ্যে ওই সব জনপদ মুছে যেতে পারে। এমনিতেই ভৌগোলিক কারণে এই দেশের নদী উপত্যকাগুলি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। জলবায়ুর পরিবর্তন সেখানে আরও ভয়াল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:44 PM Mar 31, 2026Updated: 08:44 PM Mar 31, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
