Advertisement
বল বিকৃতির পর শাহিনের ঘরে রহস্যময় অতিথি, পিএসএল'কে 'বাঁচাতে' যেচে বিতর্ক বাঁধাচ্ছে পাক বোর্ড?
পাকিস্তান সুপার লিগ মানেই বিতর্ক।
পাকিস্তান সুপার লিগ মানেই বিতর্ক। বল বিকৃতির মতো ঘটনার সাক্ষী থাকল ক্রিকেট দুনিয়া। এর আগে দুর্নীতিদমনের নিয়ম ভেঙে বিতর্কে জড়িয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। সব দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছে, ইচ্ছাকৃত এই কাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছেন পাক ক্রিকেটাররা। পিএসএল নিয়ে ক্রিকেটদুনিয়ার আগ্রহ নেই। তাই বিতর্ক বাঁধিয়ে চর্চায় আসার চেষ্টা করছে।
ঠিক কী ঘটেছে পাক লিগে? লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে ম্যাচ ছিল করাচি কিংসের। শেষ ওভারে জয়ের জন্য কিংসের দরকার ছিল ১৪ রান। বল করতে আসেন হ্যারিস রউফ। দেখা যায়, রউফের হাত থেকে বল নিয়ে তাতে কিছু একটা ঘষছেন ফখর।
এই দৃশ্য নজর এড়ায়নি আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদির। পরিস্থিতি বুঝে তিনি বল পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। অন্য আম্পায়ার শারফুদ্দৌলার সঙ্গে আলোচনা করেন। খানিক পরে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, বলটি বিকৃতি করা হয়েছে। এরপর আইসিসির নিয়ম মেনে প্রতিপক্ষ করাচির ঝুলিতে ঢুকে পড়ে বাড়তি পাঁচ রান।
প্রাথমিকভাবে ফখর জামানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন। পুরো ঘটনাই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফলে ফখর যেন ‘লাইভ টেলিকাস্টেই’ হাতেনাতে ধরা পড়ে গেলেন। পরে ম্যাচ রেফারির কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ফখর। কিন্তু ম্যাচ রেফারি তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
ফখরকে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আচরণবিধির ২.১৪ ধারা অনুযায়ী ‘লেভেল থ্রি’ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের শুনানি হবে। তারপর ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। সম্ভবত দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হতে পারে ফখরকে।
যা নিয়ে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক রশিদ লতিফ বলছেন, "বল বিকৃতি নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। কারণ তাহলে আমার সময়ের ঘটনাগুলোও বলতে হয়। আসলে কোনও সিনেমা রিলিজের সময়ই বোঝা যায় ওটা ফ্লপ হবে না। তখন বিতর্ক বাঁধিয়ে দেওয়া হয়। যেমন ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড লিগ নিয়ে করা হল। ওই লিগের কথা কে জানত! এবার পাকিস্তানে বিতর্ক, সেগুলোই এগুলো শিরোনামে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পর লোকে এসব ভুলে যাবে।"
বিতর্ক কিন্তু এখানেই শেষ নয়। করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে চারজন অতিথিকে টিম হোটেলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহিনের বিরুদ্ধে। সঙ্গে ছিলেন জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটার সিকান্দার রাজা। তবে জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটার এখন সাফাই দিচ্ছেন, "আমিই দোষী, শাহিন নয়।"
পাঞ্জাব পুলিশের একটি চিঠিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চিঠিতে বলা হয়, করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জিম্বাবোয়ের তারকা ক্রিকেটার সিকান্দার রাজার চারজন পরিচিত ব্যক্তিকে ঘরে পাঠানোর জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে পিসিবির নিরাপত্তা ও দুর্নীতিবিরোধী শাখার কর্মকর্তা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
এর কিছুক্ষণ পর একই অনুরোধ করেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকও। এবারও নিরাপত্তার স্বার্থে নাকচ করে দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও শাহিনন আফ্রিদি ও সিকান্দার রাজা নিয়ম ভেঙে এবং নিরাপত্তা কর্মীদের উপেক্ষা করে ওই চারজনকে জোর করে ভেতরে নিয়ে যান। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা তাঁরা ওই ভিতরে ছিলেন।
আসলে ম্যাচ গড়াপেটা বন্ধ করার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বাইরের ব্যক্তিদের ফাঁদ থেকে ক্রিকেটারদের আটকাতে দুর্নীতিদমন শাখার কর্মকর্তারা সক্রিয় থাকেন। আইসিসি'রও কড়া নির্দেশ আছে এই নিয়ে। সেই নিষেধ উপেক্ষা করলেন শাহিদ-সিকান্দাররা। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কারণ তাহলে তাঁদের উপরও গড়াপেটার অভিযোগ উঠতে পারে।
Published By: Arpan DasPosted: 07:49 PM Mar 30, 2026Updated: 07:49 PM Mar 30, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
