Advertisement
দেশের দ্রুততম মানব, কমনওয়েলথ-এশিয়াডে সোনালি স্বপ্ন দেখানো গুরিন্দরবীরের লড়াইয়ের কাহিনি জানেন?
মিলখা সিংকে বহু পিছনে ফেলে জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন এই পাঞ্জাব দা পুত্তর। ভারতের ইতিহাসে দ্রুততম মানব হয়েছেন।
ভারতীয় দৌড়বিদ বলতেই মাথায় আসে মিলখা সিং, পিটি উষাদের নাম। সাম্প্রতিক সময়ে স্বপ্না বর্মন, দ্যুতি চাঁদরাও জনপ্রিয় হয়েছেন। তবে এবার ভারতের অ্যাথলেটিক্সে উঠে এল এক নতুন তারা। পাঞ্জাবের এক কৃষক পরিবারের সন্তান ভারতের নতুন ইতিহাস লিখলেন। ভারতের প্রথম দৌড়বিদ হিসাবে ১০.১০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ১০০ মিটারের দৌড় সম্পূর্ণ করলেন গুরিন্দরবীর সিং।
চলতি বছরের ফেডারেশন কাপ ছিল রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মেলা। রাঁচির বিরসা মুন্ডা স্টেডিয়ামে গত শুক্রবার ১০০ মিটার দৌড়ে ১০.১৭ সেকেন্ড সময় নেন গুরিন্দরবীর। গড়ে ফেলেন জাতীয় রেকর্ড। কিন্তু সেই রেকর্ড টিকেছিল মাত্র ৫ মিনিট। ভারতের উসেইন বোল্ট নামে পরিচিত অনিমেষ কুজুর ট্র্যাকে নেমে ১০.১৫ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে ফেলেন। জাতীয় রেকর্ড ফসকে যায় গুরিন্দরবীরের হাত থেকে।
কিন্তু রেকর্ড হাতছাড়া হওয়ার হতাশা নিয়ে পড়ে থাকেননি তিনি। বরং সামনে নতুন লক্ষ্য স্থির করে ফেলেন কয়েকঘণ্টার মধ্যেই। শুক্রবারের পর শনিবার ফেডারেশন কাপ ফাইনালে নামেন গুরিন্দরবীর। ট্র্যাকে নামার আগে তাঁর জার্সিতে লিখে নেন বিশেষ বার্তা, '১০.১০ আমার লক্ষ্য। এখনও ফুরিয়ে যাইনি।' এই বার্তা বুকে নিয়েই বাজিমাত। জাতীয় রেকর্ড গড়ে ফেললেন পাঞ্জাব দা পুত্তর।
১০.০৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করেছেন গুরিন্দরবীর। এই প্রথমবার কোনও ভারতীয় দৌড়বিদ ১০.১০ সেকেন্ডের কম সময়ে ১০০ মিটার দৌড় সম্পূর্ণ করলেন। চলতি বছরের এশিয়ান গেমসের যোগ্যতামান অনায়াসে পেরিয়ে গিয়েছেন তিনি। যোগ্যতা অর্জন করেছেন চলতি বছরের কমনওয়েলথ গেমসেও। পাশাপাশি সমালোচকদের মুখও বন্ধ করে দিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি এই দৌড়বিদ।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার পরিবেশে গুরিন্দরবীরের বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা কমলজিৎ জাতীয় স্তরে ভলিবল খেলতেন। কিন্তু পরে আর খেলাধুলায় এগিয়ে যেতে পারেননি। প্রথম থেকেই গুরবিবন্দরকে তিনি উৎসাহ দিয়েছেন খেলাধুলায়। ১২ বছর বয়স থেকেই দৌড়বিদ হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন ভারতের দ্রুততম ব্যক্তি। বাড়ি থেকে স্কুল পর্যন্ত দৌড়ে যাতায়াত করতেন। বাবার তত্ত্বাবধানেই পেশাদার দৌড়বিদ হয়ে ওঠার হাতেখড়ি। দশম শ্রেণিতে উঠে কোচের নজরে পড়েন।
কোচ সর্বজিৎ সিং হ্যাপি একেবারে নিজের ছেলের মতো করে গুরিন্দরবীরকে নিজের বাড়িতে রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ জোগাতেন তিনি। অনূর্ধ্ব ১৬ প্রতিযোগিতাগুলি থেকেই ধীরে ধীরে নজর কাড়তে শুরু করেন। তবে প্রচারের আলোয় এসে ফোকাস নড়ে যায় গুরিন্দরবীরের। প্রায় বছরখানেক অফ ফর্মে ছিলেন। গ্রাস করেছিল মানসিক অবসাদও। তবে হাল না ছেড়ে পরিশ্রম চালিয়ে যান গুরিন্দরবীর।
শনিবার তিনি যখন ট্র্যাকে নামলেন তখন স্রেফ দৌড়বিদরা নয়, আরও অনেক প্রতিপক্ষ ছিল গুরিন্দরবীরের বিরুদ্ধে। বহুবার সমালোচিত হতে হয়েছে তাঁকে। ১০০ মিটারের দৌড়ে বিশ্বমানের সাফল্য পাওয়ার 'যোগ্য' নয় ভারতীয়রা, এমন কটাক্ষও হজম করেছেন পাঞ্জাব দা পুত্তর। তারপর ট্র্যাকে নেমে সমালোচকদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন। ভারতীয় হিসাবে সবচেয়ে কম সময়ে ১০০ মিটার দৌড় সম্পূর্ণ করে জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন।
দ্রুততম ভারতীয় হিসাবে নজির গড়ার পর শচীন তেণ্ডুলকরের শুভেচ্ছাবার্তাও পেয়েছেন গুরিন্দরবীর। আগামীর জন্য উৎসাহ দিয়ে মাস্টার ব্লাস্টারের বার্তা, 'ভারতের দ্রুততম ব্যক্তি, দারুণ সাফল্য পেয়েছ। এভাবেই দৌড়ে যাও চ্যাম্পিয়ন।' চলতি বছরেই কমনওয়েলথ এবং এশিয়ান গেমস রয়েছে। সেখানে ট্র্যাকে নেমে তেরঙ্গা উড়িয়ে পদক আনবেন নৌসেনা কর্মী গুরিন্দরবীর, আশায় ভারতবাসী।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 02:19 PM May 26, 2026Updated: 03:06 PM May 26, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
