Advertisement
ক্রিকেট-গলফ-কুস্তিতে 'বহু রূপে সম্মুখে' খেলোয়াড় বিবেকানন্দ, স্বামীজির ক্লাবে খেলতেন শামিও!
গীতা ছেড়ে ফুটবল খেলার কথা বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।
গীতা ছেড়ে ফুটবল খেলার কথা বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। নিজে অবশ্য সব খেলাতেই সমান পারদর্শী ছিলেন। শোনা যায়, একসময় কলকাতার ক্লাবে চুটিয়ে খেলেছেন ক্রিকেটও। সেই হিসেবে কিন্তু মহম্মদ শামিও তাঁর 'জুনিয়র' হতে পারেন। আর শুধু ক্রিকেট কেন, গলফ, অ্যাথলিট, বডিবিল্ডিং এমনকী শুটিংয়েও পারদর্শী ছিলেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত।
এ দেশে ক্রিকেটের আগমন ব্রিটিশদের হাত ধরে। একসময় কলকাতার সমস্ত ক্লাবেই নিয়মিত ক্রিকেট প্রাকটিস করতেন সাহেবরা। প্রথমদিকে কোনও ভারতীয়র এই খেলায় অংশ নেওয়ার অধিকার ছিল না। ধীরে ধীরে এই খেলা ছড়িয়ে পড়ে ভারতীয়দের মধ্যে। তখনও নরেন্দ্রনাথ স্বামীজি হয়ে ওঠেননি। সেই সময় কিন্তু নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। সন্ন্যাস গ্রহণের পরেও খেলাধুলোর অভ্যাস থেকে সরেননি।
তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর মেধার জোরে সকলের থেকে আলাদা হয়ে উঠতেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত। পাশাপাশি ক্রিকেট খেলার প্রতি তাঁর অদ্ভুত টান ছিল। নিয়মিত খেলতেন কলকাতার নামকরা টাউন ক্লাবে। তাঁর আগুনে বোলিং-এর সামনে দাঁড়াতে ভয় পেতেন তাবড় ক্রিকেটাররা। শোনা যায়, কোনও এক ম্যাচে তিনি একাই সাত উইকেট ঝুলিতে ভরেছিলেন।
অন্যদিকে মহম্মদ শামিও কলকাতাতেই ক্রিকেট জীবনের প্রথম অধ্যায় কাটিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশ থেকে কলকাতায় এসে শামিও যোগ দিয়েছিলেন টাউন ক্লাবেই। সেখানেই খেলেছেন দীর্ঘদিন। আর সেই সূত্রেই মহম্মদ শামিকে স্বামীজির 'জুনিয়র' বলা যেতেই পারে।
স্বামীজি যে ক্রিকেটটা ভালোই খেলতেন, তা নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু সেটাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখাতে গিয়ে 'ভুয়ো' তথ্যও ছড়িয়েছে। যেমন বছর কয়েক আগে, বিখ্যাত প্রাক্তন ইংরেজ স্পিনার হেডলি ভেরিটির ছবি সুপারইম্পোজ করে স্বামী বিবেকানন্দের মুখ বসিয়ে যা বাজারে ছাড়া হয়েছিল।
কেমন খেলতেন স্বামীজি? মহেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছেন, "এখন যাহাকে ক্রিকেট খেলা বলা হয়, তখন ব্যাট আর বলকে চলিত কথায় বলা হত বাটাম্বল। বেশ সুন্দর খেলা। বীরেশ্বর এই খেলায় বেশ উৎসাহ দেখাত। সে বল ঠিক মারিতে পারিত। বীরেশ্বর ছিল এই খেলার সর্দার।"
মহেন্দ্রনাথ আরও লিখছেন, 'বিবেকানন্দ ক্রিকেট খেলছেন- ছবিটা মনে আনা যাক-তা কি হ্যামণ্ডের মতো? নিতে হলে হ্যামণ্ডের মর্যাদার ভাবটাই শুধু নিতে হয়, নচেৎ বিবেকানন্দ আরও ডায়ন্যামিক। ও বস্তুটা নেওয়া যাক ব্রাডম্যানের কাছ থেকে। তবে ঐ গতিশীলতা পর্যন্তই, নইলে ব্রাডম্যানের সুদীর্ঘ যান্ত্রিকতা বিবেকানন্দের পছন্দসই হবে না।'
ফুটবলও খেলতেন এবং বন্ধুদের অনুশীলন করতে উৎসাহিত করেছিলেন। ভালোবাসতেন শারীরিক কসরত, ব্যায়াম করতেও। ফেন্সিং ও বক্সিংয়ে বেশ হাত পাকিয়েছিলেন। দেশে-বিদেশে তাঁর খেলাধুলোর প্রমাণ রয়েছে। খোলা মাঠে ও খেলার মাঠে 'পরিব্রাজক' বিবেকানন্দের কীর্তি ছড়িয়ে।
ছোটবেলা থেকেই ডানপিটে নরেন্দ্রনাথ দত্ত। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, কুস্তিগীর অম্বু গুহর অধীনে গুহ আখড়ায় কুস্তি শিখেছিলেন নরেন। অম্বু ছিলেন বিখ্যাত কুস্তিগির গোবর গুহর কাকা। তবে নরেন্দ্রনাথ দত্তের ফুটবল খেলায় সক্রিয় অংশ নেওয়ার সে অর্থে কোনও প্রমাণ নেই।
এখানেই শেষ নয়। দুরন্ত ঘোড়া তাঁর হাতে বশ। আলমোড়ার পাহাড়ি রাস্তায় কুড়ি-ত্রিশ মাইল ঘোড়ায় চড়ে চলে যেতেন। কিন্তু কোনও কষ্ট হত না। ইংল্যান্ডেও সেই অভ্যাস ত্যাগ করেননি। আবার গলফ খেলে বাজিও জিতেছেন। নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন, 'ডাম্বেল ভাঁজতেন।'
নবগোপাল মিত্রের আখড়ায় ব্যায়াম করতেন। জিমন্যাস্টিকে পুরস্কার পেয়েছেন। আবার এমন বর্ণনাও আছে, যেখানে তিনি বন্দুকের এক শটে হরিণ মেরে ফেলতেন। তিনি বলতেন, "আমাদের যুবকগণকে প্রথমত সবল হইতে হইবে, ধর্ম পরে আসিবে। হে আমার যুবক বন্ধুগণ, তোমরা সবল হও – তোমাদের নিকট ইহাই আমার বক্তব্য। গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরও নিকটবর্তী হইবে।"
Published By: Arpan DasPosted: 04:51 PM Jan 12, 2026Updated: 04:57 PM Jan 12, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
