Advertisement
আইনি জট কাটিয়ে ৪০ একর জমিতে বোর্ডের ক্রিকেটার তৈরির কারখানা, কীভাবে সফল জয় শাহ?
পুরনো ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির অস্থায়ী পরিকাঠামো ছেড়ে ভারতীয় ক্রিকেটকে একটি স্থায়ী ঠিকানা দেওয়ার যে পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়িত হয় মাত্র দু'বছরেরও কম সময়ে।
৪০ একর জমি। দীর্ঘদিন ছিল খালি, রিক্ত। ছিল আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাও। সেই জমিতেই আজ ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তৈরির কারখানা। সেন্টার অফ এক্সেলেন্স। পুরনো ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির অস্থায়ী পরিকাঠামো ছেড়ে ভারতীয় ক্রিকেটকে একটি স্থায়ী ঠিকানা দেওয়ার যে পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়িত হয় মাত্র দু'বছরেরও কম সময়ে।
পথটা অবশ্য মোটেই মসৃণ ছিল না। জমি ছিল। কিন্তু সেই জমি ব্যবহার করার আগে পেরতে হয়েছে একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক বাধা। জমিটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় তা ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। বিসিসিআইয়ের বর্তমান সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার কথায়, গোটা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যাপারে তৎকালীন বোর্ড সচিব জয় শাহ ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। তাঁর কথায়, “জয় বিসিসিআইয়ের অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এই প্রকল্প যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করতে হবে। পুরনো অস্থায়ী জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ব্যবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।”
শুধু বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নয়, জমির জট কাটাতেও মাঠে নেমেছিলেন জয়। একাধিকবার বেঙ্গালুরুতে এসে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি দেখেছিলেন তিনি। সাইকিয়া বলছেন, “কাজ শুরু করার আগে সমস্ত আইনি জটিলতা দূর করতে জয় নিজে একাধিকবার এখানে এসেছিলেন। এত বড় প্রকল্প শুরু করতে অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। তার উপর জমিটিকেও নিয়ম মেনে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে হয়েছিল।”
কেন এতটা সমস্যা হয়েছিল? সাইকিয়া জানান জমির ‘রেগুলারাইজেশন’ নিয়েও ছিল বড় সমস্যা। “৪০ একর জমি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। অনেকেই সেটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কাজ শুরু করার আগে তাই সব কিছু পরিষ্কার করতে হয়েছিল।” মন্তব্য সাইকিয়ার।
এর মধ্যে পুরনো এনসিএ থেকে নতুন সিস্টেমে যাওয়াটাও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। সেই পরিবর্তনের সময় সামনে থেকে দায়িত্ব সামলেছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। ২০২১ সালে তাঁকে বেঙ্গালুরুতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জয় শাহ এবং তৎকালীন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। কারণ, রাহুল দ্রাবিড় তখন ভারতীয় দলের হেডকোচ হওয়ার পথে।
লক্ষ্মণ বলছেন, "সিদ্ধান্তটা আমার জন্য কঠিন ছিল। ক্রিকেটার হিসাবে সব সময় মনে করেছি, যাঁরা এই খেলাটা খেলেছেন, তাঁদের দায়িত্ব ক্রিকেটকেও কিছু ফিরিয়ে দেওয়া। সেই ভাবনা থেকেই ২০২১-এর ডিসেম্বরে বেঙ্গালুরু চলে আসি।" এরপর প্রায় দু'বছর খুব কাছ থেকে প্রকল্পটির কাজ এগোতে দেখেছেন। স্থপতিদের সঙ্গে বৈঠক থেকে নির্মাণ সংস্থা এলঅ্যান্ডটির সঙ্গে আলোচনা– প্রতিটি কাজেই জয় শাহকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে দেখেছেন তিনি।
লক্ষ্মণের কথায়, “প্রায় দু’বছরের মধ্যে প্রকল্পটি তৈরি হয়ে যায়। এর জন্য জয়কে বিশাল কৃতিত্ব দিতেই হবে। স্থপতি এবং এলঅ্যান্ডটির সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে তিনি নিজে অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে অংশ নিতেন। সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রতিটি বিষয় ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, তাঁর নজরে থাকত।” ২০২৪ সালের নভেম্বরে সেই স্বপ্ন বাস্তবের চেহারা নেয়। অব্যবহৃত ৪০ একর জমির জায়গায় বাস্তবায়িত যায় ভারতীয় ক্রিকেটের অত্যাধুনিক কেন্দ্র।
যেখানে শুধু বর্তমান ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। লক্ষ্মণ বলছেন, “সব নেতারই কিছু না কিছু দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। কিন্তু সেই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবে রূপ না পেলে তার কোনও মূল্য নেই। আমরা ২০২৪ সালের নভেম্বরে সেই দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব রূপ দেখেছি।” এভাবেই বেঙ্গালুরুতে রূপ পেয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন উৎকর্ষ কেন্দ্র।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 01:12 PM Aug 10, 2026Updated: 01:13 PM Aug 10, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
