Advertisement
খেলতে হবে ভারতেই, বাংলাদেশের জন্য কলকাতা ছাড়াও বিকল্প ভেন্যু তৈরি আইসিসি'র!
ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলার যে প্রস্তাব বাংলাদেশ দিয়েছে সেটা একপ্রকার অসম্ভব, অবাস্তব।
ইউনুস সরকারের চাপে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড। তাদের ম্যাচ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার আর্জি জানিয়ে আইসিসি’কে চিঠিও দেয় বিসিবি। ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলার যে প্রস্তাব বাংলাদেশ দিয়েছে সেটা একপ্রকার অসম্ভব, অবাস্তব। তাই বাংলাদেশের দাবি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই।
সূত্রের খবর, বিসিবিকে ভারতেই বিকল্প কোনও ভেন্যুর প্রস্তাব দিতে চলেছে আইসিসি। শ্রীলঙ্কা নয়, ভারতেরই অন্য দুই ভেন্যুতে খেলার কথা নাকি জানানো হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। বিকল্প হিসাবে ভাবা হচ্ছে, চেন্নাই ও তিরুঅনন্তপুরমের কথা। এমনটা হলে ইডেন গার্ডেন্স বা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের বদলে দক্ষিণী রাজ্যে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুসারে, আইসিসি এবং বিসিসিআই নাকি ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু এবং কেরালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারাও রাজি। যদিও এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষ থেকেই সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে ইতিমধ্যেই আইসিসিকে গোটা দুয়েক চিঠি লিখেছে বিসিবি। প্রথম চিঠির জবাবে জয় শাহর আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, শেষমুহূর্তে ভেন্যুবদল সম্ভব নয়। ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয় চিঠিরও ওই একই রকম জবাব আইসিসি দেবে বাংলাদেশ বোর্ডকে। আইসিসির যুক্তি, বিসিবি শুধু মুখেই নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কথা বলছে। কিন্তু আদতে কোনও যুক্তিপূর্ণ কারণ দর্শাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
কিন্তু বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দেওয়া হলেও কি রাজি হবে বিসিবি? বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেছেন, "আইসিসির তরফে আমরা এখনও কোনও উত্তর পাইনি। অপেক্ষায় আছি।” তাঁর কথায়, “অন্য যে মাঠেই খেলা দেওয়া হোক সেটা তো ভারতের মাঠই হবে। এ সব ব্যাপারে একা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। সরকারের কথা অনুযায়ীই আমাদের চলতে হবে। আমাদের অবস্থান আগে যা ছিল এখনও সেটাই আছে।”
সরকারের অঙ্গুলিহেলনেই যে বিসিবি চলছে, সেটা মেনে নিয়েছেন বুলবুল। একই সঙ্গে তিনি মেনে নিয়েছেন, শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাবে খেলতে দেওয়া না হলে বাংলাদেশ কী করবে সেটা স্পষ্ট নয়। বিসিবি সভাপতি বলেছেন, "হায়দরাবাদ বা চেন্নাইয়ে আমাদের খেলা দেওয়া হতে পারে, এমন কোনও কথা শুনিনি। সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে আইসিসির উত্তর পাব বলে আশা করছি।”
বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মালম্বী সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচারের কারণে কেকেআরের বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলা নিয়ে সরব হয়েছিলেন দেশের বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ। তীব্র আক্রমণ করা হচ্ছিল কেকেআর মালিক শাহরুখ খানের সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডকে। বলাবলি চলছিল, বাংলাদেশে যখন নির্বিচারে হিন্দু নিপীড়ন চলছে, তখন কোন যুক্তিতে মুস্তাফিজুরকে এখনও দলে রেখে দিয়েছে কেকেআর? কেন তাঁর সঙ্গে চুক্তি এখনই ছিন্ন করা হচ্ছে না? এই পরিস্থিতিতে শনিবার বিসিসিআইয়ের তরফে কেকেআর-কে বলা হয়, মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিতে। বদলে অন্য প্লেয়ারকে আনতে পারে তারা।
এর পরেই সুর চড়া করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এমনকী ঘুরপথে ‘প্রতিহিংসা’ চরিতার্থ করার চেষ্টা শুরু করে তারা। মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার ‘বদলা’ হিসাবে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না আসার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা লেখে, ‘বোর্ড গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। ভারতে বাংলাদেশের খেলাগুলো নিয়ে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ মেনে নিয়ে বিসিবি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, এই পরিস্থিতিতে জাতীয় দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে পাঠানো হবে না।’
তারা উল্লেখ করে ভেন্যু বদলের বিষয়টি। বাংলাদেশের সমস্ত ম্যাচ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে আইসিসিকে। ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, বোর্ড সদস্যদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বিসিবি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা একপ্রকার ‘অপরিহার্য’ হয়ে উঠেছিল তাদের কাছে। এখন তারা আইসিসি’র সিদ্ধান্তর দিকে তাকিয়ে।
রবিবার বরোদায় বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর একটি বৈঠক হয়। সেখানে বিকল্প ভেন্যু নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি।
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে এক বাংলাদেশি। বরোদায় আয়োজিত এই ম্যাচের টিভি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, ভারতে যদি নিরাপত্তাজনিত কোনও সমস্যা থাকত, তাহলে কি সৈকত সুষ্ঠুভাবে আম্পায়ারিং করতে পারতেন? আইসিসি নাকি এই উদাহরণটি তুলে ধরে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে খেলার পরামর্শ দিতে পারে। এরপরেও যদি ভারতে আসতে না চায় পদ্মাপাড়ের দেশ, তাহলে বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেবে ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা? প্রশ্ন উঠছে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 01:08 PM Jan 12, 2026Updated: 01:08 PM Jan 12, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
