Advertisement
সলমনের ছবিতে অভিনয়, ছাড়েন পুলিশের চাকরি, কাকে একলা করে চলে গেলেন প্রশান্ত তামাং?
২০০৭ সালে মুক্তি পায় প্রশান্তর মিউজিক অ্যালবাম 'ধন্যবাদ'। একইসঙ্গে অভিনয় জগতেও নয়া ইনিংস শুরু করেন প্রশান্ত। অভিনয় করেছেন 'গোর্খা পল্টন', 'পরদেশি', 'নিশানি'র মতো নেপালি ছবিতে।
কলকাতা পুলিশের চাকরি থেকে 'ইন্ডিয়ান আইডল'-এর মতো রিয়ালিটি শো এমনকী অভিনয়ের জার্নি সবটা মিলিয়েই ছিল প্রশান্ত তামাংয়ের জীবন। রবিবার, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন প্রশান্ত। দার্জিলিংয়ের ভূমিপুত্রের প্রয়াণে রীতিমতো শোকের ছায়া শৈলশহরে। শুধু তাই নয়, প্রশান্তের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিনোদুনিয়াও।
কলকাতার সঙ্গে ছিল তাঁর গভীর যোগাযোগ। ছিলেন কলকাতা পুলিশের কর্মী। এদিন প্রশান্ত তামাংয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, অরুণাচল প্রদেশে একটি গানের অনুষ্ঠান করে দিল্লিতে পৌঁছান প্রশান্ত তামাং। রবিবার হঠাৎই অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে দিল্লির এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
১৯৮৩ সালের জানুয়ারি মাসে দার্জিলিংয়ে জন্ম প্রশান্ত তামাংয়ের। পড়াশোনা করেছেন শৈলশহরের একটি স্কুলেই। মাত্র দশ বছর বয়সেই বাবাকে হারান প্রশান্ত। তাঁর বাবা ছিলেন কলকাতা পুলিশের কর্মী। বাবার মৃত্যুর পর কষ্টেই কেটেছে দিন। পরবর্তীকালে বাবার চাকরি পান প্রশান্ত। যোগ দেন কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল পদে। তবে চাকরির পাশাপাশি চালিয়ে গিয়েছিলেন সঙ্গীতচর্চাও। কলকাতা পুলিশের অর্কেস্ট্রার দলে গানবাজনা করার সুযোগ পান।
তাঁর সাধনা আর সহকর্মীদের সাহচর্যই তাঁকে আগামীতে গানের জগতে প্রবেশ করতে সাহায্য করেছিল। অনেকেই তাঁকে পরামর্শ দেন মিউজিক্যাল রিয়ালিটি শোয়ে অংশ নেওয়ার জন্য। এরপর ২০০৭ সালে 'ইন্ডিয়ান আইডল'-এর মতো শোয়ে যোগদান করেন। একের পর এক পর্বে বিজয়ী হন তিনি। সেই শোয়ের পর দেশে-বিদেশে গানের বিভিন্ন গানের শোয়ে পারফর্ম করতে শুরু করেন তিনি। ২০১০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে গীতা থাপার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন প্রশান্ত। রয়েছে এক কন্যাসন্তান। পরিবারে রেখে গেলেন স্ত্রী ও সন্তান।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ চ্যাম্পিয়ন হন প্রশান্ত। এরপরই তাঁকে নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। এক রেডিও জকি প্রশান্তকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে বসেন। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের প্রবল সমর্থক প্রশান্তকে নিয়ে এই মন্তব্যের রেশ আছড়ে পড়ে দার্জিলিং পাহাড়ে। শুরু হয় অশান্তি।
সেসময় পাহাড় প্রশাসনের অলিখিত রাশ ছিল GNLF নেতা তথা সেখানকার প্রবাদপ্রতিম নেতা সুবাস ঘিসিং। তাঁর প্রতিরোধী হিসেবে ধীরে ধীরে উঠে আসেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ের রাজনৈতিক চিত্রই বদলে গিয়েছিল এই প্রশান্তকে ঘিরেই।
২০০৭ সালে মুক্তি পায় প্রশান্তর মিউজিক অ্যালবাম 'ধন্যবাদ'। একইসঙ্গে অভিনয় জগতেও নয়া ইনিংস শুরু করেন প্রশান্ত। অভিনয় করেছেন 'গোর্খা পল্টন', 'পরদেশি', 'নিশানি'র মতো নেপালি ছবিতে। ২০২৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল ওটিটি মাধ্যমে 'পাতাল লোক'। সেই সিরিজেও অভিনয় করেছিলেন প্রশান্ত। তাঁর শেষ অভিনয় সলমনের ছবিতে। শেষ কাজ করেছেন ভাইজানের 'ব্যাটল অফ গালওয়ান' ছবিতে।
Published By: Arani BhattacharyaPosted: 09:48 PM Jan 11, 2026Updated: 09:48 PM Jan 11, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
