Advertisement
৫৮ কোটির লোকসান আইপিএলে! সবচেয়ে বেশি ক্ষতি নাইটদের, ভুগছে আর কোন দল?
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে চোট, ফিটনেস সমস্যা এবং ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি।
এবারের আইপিএলে ধারাবাহিকতা যেন সবচেয়ে বড় অনুপস্থিত চরিত্র। প্রতিযোগিতার 'বিজনেস এন্ডে' দাঁড়িয়ে এই ছবিটা পরিষ্কার। কোনও দলই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। প্রথম দিকে দুরন্ত ছন্দে থাকা পাঞ্জাব কিংস টানা তিন ম্যাচ হেরে ধাক্কা খেয়েছে। অন্যদিকে, শুরুতে হারের ধাক্কায় জর্জরিত কলকাতা নাইট রাইডার্স এখন টানা চার জয়ে প্লেঅফের লড়াইয়ে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে।
এবার আইপিএলে ১০টি দলের মধ্যে অন্তত সাতটি দল এখনও শেষ চারের দৌড়ে রয়েছে। পয়েন্ট তালিকার অবস্থান প্রায় প্রতি ম্যাচেই বদলে যাচ্ছে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তবে এই প্রতিযোগিতায় শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে চোট, ফিটনেস সমস্যা এবং ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি।
নিলামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল গড়লেও অনেক ক্রিকেটারকে মাঠেই নামাতে পারেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি। কেউ চোটে ছিটকে গিয়েছেন, কেউ জাতীয় দলের দায়িত্বে ব্যস্ত। কেউ আবার রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কারণে খেলতে পারেননি। সব মিলিয়ে যে ক্রিকেটারদের পুরোপুরি পাওয়া যায়নি, তাঁদের মোট মূল্য প্রায় ৫৭ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স। গত নিলামে পরিকল্পনা করে দল গড়েছিল কেকেআর। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে শক্তিশালী স্কোয়াড তৈরি করেছিলেন দলের কর্ণধার বেঙ্কি মাইসোরেরা। কিন্তু প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই একের পর এক ধাক্কা সামলাতে হয় নাইট শিবিরকে।
বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় কিনেছিল কেকেআর। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে তাঁকে শেষ পর্যন্ত দলে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে নিলামের বড় বিনিয়োগ মাঠে নামানোর আগেই ভেস্তে যায়।
এরপর আরও বড় ধাক্কা হর্ষিত রানার চোটে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পায়ের লিগামেন্টে চোট পেয়ে ছিটকে যান ভারতীয় পেসার। তাঁকে ৪ কোটি টাকায় ধরে রেখেছিল কেকেআর। দলের বোলিং পরিকল্পনায় তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
শ্রীলঙ্কার পেসার মাথিশা পাথিরানাকেও ১৮ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু বিশ্বকাপ চলাকালীন চোট পাওয়ায় তিনি এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। যদিও তিনি পরে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তবুও প্রথম একাদশে দেখা যায়নি তাঁকে। তাছাড়াও আকাশ দীপও চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছেন।
সব মিলিয়ে কেকেআরের প্রায় ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকার পরিকল্পনা কার্যত মাঠে নামার আগেই ধাক্কা খেয়েছে। আইপিএলের মতো দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় এত বড় আর্থিক ক্ষতি যে কোনও দলের জন্যই বড় সমস্যা।
শুধু কেকেআর নয়, অন্য দলও একই সমস্যায় ভুগছে। রাজস্থান রয়্যালস স্যাম কারেনকে নিয়মিত পায়নি। চেন্নাই সুপার কিংসও খলিল আহমেদ, নাথান এলিস এবং আয়ুষ মাত্রের মতো ক্রিকেটারদের পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারেনি। এই তিন ক্রিকেটারের সম্মিলিত মূল্যই প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। ধোনিও মাঠে নামতে পারেননি। এক ম্যাচ খেলে ছিটকে গিয়েছেন রামকৃষ্ণ ঘোষ।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 07:49 PM May 09, 2026Updated: 08:36 PM May 09, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
