Advertisement
বিজেপির শপথে 'ইন্ডাস্ট্রি' প্রসেনজিৎ, শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা যশের, 'রং বদল' কোন সেলেবদের?
রাজ্যে পালাবদলের আবহে 'গৈরিক অভিনন্দন' জানানোর হিড়িক তারকাদের। কে, কী বললেন?
শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নপূরণ করে বঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী মেদিনিপুরের ভূমিপুত্র। গোড়া থেকেই কৌতূহল ছিল, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে টলিপাড়ার কোন কোন সেলেবদের দেখা যাবে? কারণ রাজ্যে পালাবদলের আবহে একাধিক শিল্পী হুড়মুড়িয়ে 'গৈরিক অভিনন্দন' জানাতে শুরু করেছেন। প্রত্যাশিতভাবেই হাজির ছিলেন সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋষি কৌশিক, কৌশিক রায়-সহ টেলিভিশনের বেশ কয়েকজন অভিনেতা।
কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে এদিন ব্রিগেডের অনুষ্ঠানে যাঁকে দেখা গেল, তিনি আর কেউ নন টলিউডের আরেক সুপারস্টার জিৎ। টলিউডে তেইশ বসন্ত পার করলেও 'বস' রাজনীতি থেকে শতহস্ত দূরে থেকেছেন। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-এর আস্ফালনের অভিযোগ উঠলেও সুপারস্টার নির্লিপ্ত থেকেছেন। বরং টলিউডে সাম্যবাদ আনতে শাসকদলের অন্দরে থেকেও বারবার সুর চড়িয়েছিলেন দেব। এবার কি শপথে গিয়ে দৃঢ় চিত্তে বিজেপিকে সমর্থন সুপারস্টারের?
শোনা গিয়েছিল, পদ্ম পুরস্কার প্রাপ্ত বাংলার সমস্ত শিল্পীদের কাছে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। সেই সম্ভাব্য তালিকায় ছিলেন মমতা শঙ্কর, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীও। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে এদিন বিজেপির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা যায় 'ইন্ডাস্ট্রি' প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। নেটভুবনে নতুন সরকারের উদ্দেশে কোনও বার্তা না দিলেও খবর, খুব বেশিক্ষণ অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি বুম্বা। প্রথম কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে হাজির যিশু সেনগুপ্ত।
মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণে হাজির মমতাশঙ্কর ব্রিগেডের জনস্রোত দেখে জানালেন, "সবাইকে দেখে মনে হল খুব খুশি। মনে হচ্ছে আমরা আবার স্বাধীনতা পেলাম। শুধু বাংলা নয়, গোটা ভারতবর্ষের ভালো হোক। আমাদের সৎ হতে হবে। নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। অন্যায় দেখলেই শাস্তি দিতে হবে। নইলে কিছু হবে না।"
সুদূর আটলান্টা থেকে তনুশ্রী জানান, "দীর্ঘ অত্যাচার সহ্যের পর অবশেষে বঙ্গবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।" শনিবারের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, মমতাশঙ্কর, অজয় চক্রবর্তী, তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার-সহ অনেকে। এ ছাড়াও দেখা গিয়েছে অঞ্জনা বসু, ত্রমিলা ভট্টাচার্য, ঋষি কৌশিক, কৌশিক রায়, সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্যদের।
সুর বদলের সংখ্যাও কম নয়! ছাব্বিশে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করা সৌমিতৃষা কুণ্ডু বলেন, "ভারতীয় জনতা পার্টি এবং আমাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুভেচ্ছা। আজ শপথ নিতে চলেছেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। আশা করি, এর মাধ্যমেই আমাদের রাজ্যে উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। ইতিবাচক পরিবর্তন হবে পশ্চিমবঙ্গে। আমাদের রাজ্য যেন শান্তি-সমৃদ্ধির সঙ্গে এগিয়ে যায়।"
সম্প্রতি হেঁটেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের রোড শোতে। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতেই ডিগবাজি খেয়ে সোহেল দত্ত বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন! এবং আশা করছি, তিনি বাংলা ও বাংলার সিনেশিল্পের উন্নতিসাধনের জন্য সবকিছু করবেন।’ যার জেরে ‘পাল্টিবাজ’ বলে কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হয় তাঁকে।
একুশের বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী হিসেবে পরাস্ত হওয়ার পর দল থেকে দূরত্ব বাড়ান যশ দাশগুপ্ত। কিন্তু ছাব্বিশে বঙ্গে পদ্ম ফুটতেই শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লেখেন, "বাংলার মানুষের প্রতি আপনার নিরলস নিষ্ঠা, অদম্য লড়াই এবং অঙ্গীকার আমি স্বচক্ষে দেখেছি। আন্তরিক অভিনন্দন। আজ বাংলা বেছে নিয়েছে পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে।"
বঙ্গে গৈরিক সূর্যোদয় দেখার পর টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক তারকাই ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’কে নিয়ে ‘১৮০ ডিগ্রি’ ঘুরে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তৃণমূলের তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শুক্রবার জানান, "১৫ বছর আগে কোনও রাজনৈতিক দল এসে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চালাত না। কোনও দিন এত অশান্ত পরিবেশ টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল না। কিন্তু ইদানিংকালে সেটা হয়েছিল। সেটা অনেকেই মেনে নিতে পারছিলেন না।”
দিন কয়েক আগেই নিজেকে 'তৃণমূলপন্থী নই' বলে দাবি করে জোর শোরগোল ফেলেছিলেন কবীর সুমন। বঙ্গের গেরুয়া সুনামির আবহে তিনি জানান, “আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।”
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 05:06 PM May 09, 2026Updated: 05:06 PM May 09, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
