Advertisement
প্রেসিডেন্টের গদি বাঁচাতে ট্রাম্পের ভরসা SIR! জ্ঞানেশ কুমার 'অস্ত্রে' মার্কিন মুলুকে ছাঁটাই কত ভোটার?
২০২৮ সালে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মার্কিন মুলুকে। তার আগে ভোটার আইন সংশোধনে মরিয়া ট্রাম্প।
এসআইআর। গতবছর থেকে দেশজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া, জাতীয় রাজনীতি উত্তাল করে দেওয়া তিনটি অক্ষর। নানা কারণে অন্তত সাড়ে সাত কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে এই প্রক্রিয়ায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের 'ব্রহ্মাস্ত্র' নিয়ে প্রবল সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা। কিন্তু এসআইআর মনে ধরেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁর কথায় অনেকেই মনে করছেন, এবার আমেরিকার ভোটার তালিকাও সাফাই করা হবে ভারতের এসআইআরের আদলে।
দিনকয়েক আগে ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প জানান, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিরাট দেশে কেন প্রত্যেক ভোটারের সচিত্র পরিচয়পত্র নেই? ট্রাম্পের সামনে এই প্রশ্ন তোলেন জ্ঞানেশ। ওই আলোচনার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'বোধোদয়' হয়েছে। নিজের দেশে ভোট পদ্ধতি এবার আমূল বদলে ফেলতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রাথমিকভাবে আমেরিকার ভোট সংস্কৃতির দু'টি বিষয় বদল করার কথা বলেছেন ট্রাম্প। প্রথমত, সচিত্র পরিচয়পত্র। ট্রাম্প বলেছেন, "গত নির্বাচনে ভারতের ৬৪ কোটির বেশি ভোটার ছিলেন। প্রত্যেকের কাছে বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র থাকাটা বাধ্যতামূলক ছিল ভারতে।" দ্বিতীয়ত, মার্কিন নাগরিকদের ‘বাড়িতে বসে ভোট’ দেওয়ার নিয়মকেও তুলোধোনা করেছেন ট্রাম্প। আসন্ন নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট কমাতে চাইছেন তিনি।
আপাতভাবে এসআইআরের মতো কোনও প্রক্রিয়ার কথা বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু সেরকম কিছু একটা পদক্ষেপ করার পথে এগোচ্ছে আমেরিকা। সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি (SAVE) নামে একটি বিল ইতিমধ্যেই পেশ হয়েছে মার্কিন সংসদে। সেভ আমেরিকা অ্যাক্টটি জানুয়ারি মাসে পেশ হয়েছিল। তবে এখনও পাশ হয়নি বিলটি। ট্রাম্প চাইছেন এই বিল যত দ্রুত সম্ভব পাশ হোক।
হোয়াইট হাউসের মতে, কেবল মার্কিন নাগরিকরাই যেন আমেরিকায় ভোট দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করবে এই বিল। সেকারণেই নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখিয়ে সচিত্র ভোটার কার্ড তৈরি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিলে। তারপরই ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উল্লেখ ট্রাম্পের মুখে। এই ঘটনাক্রম থেকেই উসকে গিয়েছে মার্কিন এসআইআরের সম্ভাবনা। ট্রাম্প যেভাবে সেভ আমেরিকা অ্যাক্টের প্রস্তাব করেছেন তাতে বহু মার্কিনের ভোটাধিকার চলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ভারতে এসআইআরের লক্ষ্য ছিল ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়া। মৃত, স্থানান্তরিতদের পাশাপাশি যারা ভারতের নাগরিক নন, তাঁদের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কারোর নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত হয়নি। আমেরিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। এখানে প্রথমেই যাচাই করা হবে, কোনও ব্যক্তি আদৌ আমেরিকার নাগরিক কিনা। নাগরিকত্ব প্রমাণ হলে তারপরেই সচিত্র পরিচয়পত্র এবং ভোটাধিকার পাবেন তিনি।
তবে ভারত এবং আমেরিকার ভোট পদ্ধতিতে বিস্তর ফারাক রয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন দেশের সব প্রান্তে সমান অধিকারের সঙ্গে কাজ করতে পারে। আমেরিকার ক্ষেত্রে এমন কেন্দ্রীয় ক্ষমতা নেই কোনও সংস্থার। প্রদেশগুলি নিজেদের মতো করে নির্বাচনের নিয়মাবলি স্থির করে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সেভ আমেরিকা বিল অনুযায়ী, প্রত্যেকটি প্রদেশকে ভোটের জন্য একই আইন মানতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে যা কিছুটা অসম্ভব।
২০২৮ সালে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মার্কিন মুলুকে। তার আগে ভোটার আইন সংশোধনে মরিয়া ট্রাম্প। যদিও আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয়বারের জন্য কোনও ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। সেই আইনও বদলাতে উঠেপড়ে লেগেছেন ট্রাম্প। সবমিলিয়ে বলা যেতেই পারে যে প্রেসিডেন্টের কুর্সি আঁকড়ে ধরে থাকাটা আপাতত ট্রাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য। সেটা সফল করতে সবরকম চেষ্টা চালাবেন তিনি।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 05:06 PM Aug 20, 2026Updated: 05:07 PM Aug 20, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
