Advertisement
বছরে ৮০ ঘণ্টা কম ঘুমোচ্ছে কলকাতাবাসী, কারণ জানলে চমকে যাবেন
শুধু স্মার্টফোনই নয়, কম ঘুমের নেপথ্য কারণ আরও গভীরে।
সকালে দিনভর কাজের চাপ। অফিস থেকে ফিরে কিছুটা সময় পেলেই হাতে স্মার্টফোন। ঘাড় গুঁজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখে কেটে যাচ্ছে সময়। সঙ্গে মানসিক চাপ। সবমিলিয়ে রাতে ঘড়ির কাঁটা দ্রুত দৌড়লেও চোখের পাতা এক হচ্ছে না। তার ফলে ক্রমশ বাড়ছে অনিদ্রা।
যদিও সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে অন্য কথা। শুধু মানসিক চাপ এবং স্মার্টফোনের অত্যধিক ব্যবহার নয়। অনিদ্রার নেপথ্য কারণ নাকি লুকিয়ে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনে। 'ক্লাইমেট সেন্ট্রাল' দেশের ১০৭টি এবং বিশ্বের ১ হাজার ৩৩৮টি শহরের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। নয়া রিপোর্টে পাওয়া গিয়েছে এমনই তথ্য। যা রীতিমতো তাক লাগানো। সমীক্ষকদের দাবি, রাতের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বাড়ছে অনিদ্রা।
এই তালিকায় নাকি একেবারে প্রথমে রয়েছে চেন্নাই। দ্বিতীয় মুম্বই। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। ১৯৭০ সালের প্রথম দিকের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা বেড়েছে অনেকটাই। যার ফলে ঘুম কমেছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০২০-২০২৫ সাল পর্যন্ত একজন মানুষের গড়ে ঘুমের ঘাটতি ৫৬ ঘণ্টা। এই ঘাটতির জন্য দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন।
সমীক্ষকদের মতে, কলকাতায় ক্রমশ বাড়ছে দূষণ। এছাড়া গাছ কমে ক্রমশ কংক্রিটের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে তিলোত্তমা। তার ফলে ক্রমশ বাড়ছে রাতের তাপমাত্রা। আর তার সরাসরি প্রভাবে কলকাতার বাসিন্দারা বছরে প্রায় ৮০ ঘণ্টা কম ঘুমোন। হাওড়া, শিলিগুড়ি, বারাকপুর, আসানসোল-দুর্গাপুর এবং হলদিয়ার বাসিন্দারা বছরে ৭৫ ঘণ্টা কম ঘুমোন। যার ফলে জলবায়ু পরিবর্তনে ঘাটতি হতে পারে ৫.৬ ঘণ্টা।
দক্ষিণ ভারতের মানুষ সবচেয়ে বেশি অনিদ্রায় ভুগছেন। পুদুচেরির বাসিন্দা বছরে ৭৮-৯১ ঘণ্টা কম ঘুমোচ্ছেন। অন্ধ্রপ্রদেশে ৮৮.৬ ঘণ্টা, কেরল ৮৮.৩ ঘণ্টা, দিল্লি ৬৬ ঘণ্টা, তামিলনাড়ু ৭.৯ ঘণ্টা, রাজস্থান ৭ ঘণ্টা, উত্তরপ্রদেশ, বেঙ্গালুরু, হায়দরবাদ, আহমেদাবাদ, পুণের বাসিন্দারা গড়ে বছরে ৭-৮ ঘণ্টা কম ঘুমোন।
কম ঘুমই ক্রমশ ডেকে আনছে বিপদ। রোজ ঘুমের ঘাটতি বড়সড় রোগ ডেকে আনতে পারে। হতে পারে স্থূলতা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, টাইপ ২ ডায়াবিটিস। হৃদরোগের ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে। এছাড়া কম ঘুমের প্রভাব পড়তে পারে মানসিক স্বাস্থ্যেও। মানসিক উদ্বেগ এবং অবসাদের মতো সমস্যাও ঘিরে ধরতে পারে আপনাকে।
তাই সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন রাত ৮টার মধ্যে নৈশভোজ সেরে ফেলুন। ঘণ্টাদুয়েক পর ঘুমোতে যান। ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভালো করে ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করুন। হালকা সুতির পোশাক পরে ঘুমোতে যান। বিছানায় শুয়ে গল্পের বই পড়তে পারেন। তবে ভুলেও স্মার্টফোন হাতে শোওয়ার ঘরে যাবেন না। দিনে কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোন। তাতেই সুস্থ থাকবে শরীর।
Published By: Sayani SenPosted: 02:28 PM Jul 20, 2026Updated: 07:57 PM Jul 20, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
